ডিএসও’র অভিযোগ, রাজ্যে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করছে পুলিশ 

আমাদের ভারত, মেদিনীপুর : ২৬ মে: লকডাউন ও আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা সহ ছাত্র-ছাত্রীদের পঠন-পাঠনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির দাবিতে ছাত্র সংগঠন ডিএসও-র পক্ষ থেকে মঙ্গলবার সারা রাজ্য জুড়ে দাবি দিবস কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সারা জেলা জুড়ে বেলদা, সবং, কেশিয়াড়ি, পিংলা, জাহালদা, খড়্গপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় লকডাউন এবং আমফানে মৃতদের স্মরণে শোকবেদীতে মাল্যদান এবং প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। মেদিনীপুর শহরের পঞ্চুরচকে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু বিশৃঙ্খলা তৈরীর অভিযোগ তুলে ডিএসও-র জেলা সভাপতি বিশ্বরঞ্জন গিরি সহ দুই নেতৃত্বকে কোতোয়ালি থানার পুলিশ আটক করে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরণের কর্মসূচির কারণে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে তাই কর্মসূচি বন্ধ করা হয়। 

মেদিনীপুর কোতোয়ালী পুলিশের চূড়ান্ত অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে এআইডিএসও-র জেলা কমিটির পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটিও। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সভাপতি সামসুল আলম রাজ্যের মুখ্য সচিবের কাছে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে স্মারকলিপি দেন। জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেন রাজ্য সভাপতি ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক।এই ঘটনায় ছাত্র সমাজ সহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র বিক্ষোভ দেখা দেয়। এর ফলে গ্রেপ্তার হওয়া দুই ছাত্র নেতাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।

ডিএসও-র রাজ্য সম্পাদক মণিশংকর পট্টনায়ক বলেন, আজ সারা রাজ্য জুড়ে ছাত্র ছাত্রীদের শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি তোলা হয়। লকডাউনে অনাহারে, দীর্ঘ পথ হেঁটে এবং আমফানে মারা যাওয়া মানুষদের স্মরণের পাশাপাশি প্রতিবাদ জানাতে ছাত্র সংগঠন ডিএসও-র পক্ষ থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মেদিনীপুরে এই কর্মসূচি পালন করেছিলাম। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের কোনোরকম সুরাহা না করে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করছে পুলিশ প্রশাসন।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here