করোনার জেরে এবারের রথের রশিতেও জট, কোপ রথের মেলার ট্র্যাডিশনে

রাজেন রায়, কলকাতা, ২৩ জুন: ভারতীয় হিন্দু সংস্কৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে রথযাত্রা। প্রাচীনকাল থেকে রথযাত্রার দিন কাঠামোতে মাটি দিয়ে দুর্গাপ্রতিমা বানানো শুরু হয়। আর তাছাড়া রথের দিন মেলায় পাঁপড়, জিলিপি, ভেঁপুর আওয়াজে বাঙালি খুঁজে নিত নিজের জীবনের হারানো সবকিছু। কিন্তু এবারে করোনা পরিস্থিতির কারণে সমস্ত উৎসবের মতো যেন হারিয়ে দিয়েছে রথযাত্রার চেনা উৎসাহও।

শেষমেশ দেশের সর্বোচ্চ আদালত শর্তসাপেক্ষে পুরীর রথযাত্রার অনুমতি দিলেও শতাব্দী প্রাচীন মাহেশের রথের চাকা এবারে ঘুরছে না, ইসকনের রথযাত্রাও স্থগিত। আরও ছোট বড়ো রথযাত্রা এবার হচ্ছে না। আর তার জেরে রথের দিনের চেনা অনুষঙ্গ মেলাটাই এবার নেই।

এই প্রথমবার অন্যান্য জেলার সঙ্গে শহর কলকাতায় বসছে না রথের মেলা। উত্তর কলকাতার হাতিবাগানে আসে যশোমাধবের রথ। রথে থাকতেন শ্রীবিষ্ণু–রূপোর চালচিত্রে চতুর্ভুজ দারুমূর্তি। আর একটি নজরকাড়া রথ আসে দেশবন্ধু পার্কে। এই রথের বৈশিষ্ট্য হল জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার, সামনে নাড়ু হাতে গোপাল ঠাকুর। মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দীদের কাশিপুরের বাড়ি থেকেও ( এখন সশস্ত্র পুলিশের ব্যাটেলিয়ান) রথ আসে চুনিবাবুর বাজারের কাছে। বিটি রোডের দুধারে মেলা বসে।

মৌলালিতে রথের মেলায় এখনও হরেক রকম পাখি পাওয়া যায়। আদতে শিয়ালদা স্টেশন এখন যেখানে, সেখানেই আগে হত শেঠেদের রথযাত্রা এবং মেলা। স্টেশন হওয়ার পর সেই মেলাই মৌলালিতে সরে এসেছে। আর কামারহাটির কাছে রথতলা বা বেহালার রথতলার নামই হয়েছে রথের মেলাকে কেন্দ্র করে।

কিন্তু এই বছরের জন্য এসবই এখন স্মৃতি। এবার কোথাও বসছে না মেলা, আসবেন না উৎসব মুখর মানুষ। সুলতানি আমল থেকে চলে আসা মাহেশের রথযাত্রা এবার বন্ধ। ৬২৪ বছরে প্রথমবার রথের রশিতে পড়বে না টান। যে রথযাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে অনেক কিংবদন্তি। ইসকনের রথযাত্রাও এবার স্থগিত। দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে ভার্চুয়াল রথযাত্রার ব্যবস্থা করেছেন ইসকন। আপাতত এবারের রথযাত্রা স্মৃতি রোমন্থনের। আবার একটা বছরের প্রতীক্ষা সমস্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার এবং আবার রথের মেলার জন্য।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here