রানাঘাটে দে চৌধুরী বাড়ির দুর্গা কাঁচা ভোগেই সন্তুষ্ট

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ৩০ সেপ্টেম্বর: বনেদি বাড়ির দুর্গা পুজো গুলোর মধ্যে রানাঘাটের দে চৌধুরী বাড়ির দুর্গা পুজো অন্যতম। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাঁদের চৌধুরী উপাধি দেন। ২৭৮ বছরের প্রাচীন এই দে চৌধুরী বাড়ির দুর্গোৎসব। দে চৌধুরী বাড়িতে দেবী দুর্গাকে কাঁচা ভোগ নিবেদন করা হয়। সেখানে থাকে ভোগের চাল ডাল কাঁচা সবজি জাতীয় সবকিছু। মাকে রান্না করা ভোগ নিবেদন করা হয় না। এই পুজোর প্রতিষ্ঠাতা রামশুক দে চৌধুরী। এক সময়কার রানাঘাটের জমিদার বাড়ি দে চৌধুরী বাড়ির পুজোয় আড়ম্বর থাকলেও মাঝে কিছুটা স্থিমিত হয়ে যায়। তবে বর্তমানে বেশ জাঁকজমকের সাথেই আয়োজিত হয় এই প্রাচীন জমিদার বাড়ির দুর্গোৎসব।

এই পুজোর বিশেষত্ব হল মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদ থেকে শুরু হয় দেবী আরাধনা। প্রতিপদ থেকে জ্বলে অনির্বাণ দ্বীপ। এই দ্বীপ জ্বলে নবমী পর্যন্ত। ওই দিন থেকেই শুরু হয় যজ্ঞ। ওই যজ্ঞে প্রতিদিনই আহুতি দেওয়া হয় ১০৮ টি করে বেলপাতা। ১মা থেকে নবমী পর্যন্ত ১০৮ টা করে বেলপাতা যজ্ঞে আহুতি দেওয়া হয়। নবমীর দিন এর সাথে যোগ হয় আরো ৩৬টি। সর্বমোট ১০০৮টি বেলপাতা যজ্ঞে আহুতি দেওয়া হয়। প্রতিপদ থেকে শুরু হয় ঘট পুজো।এরপর ষষ্ঠীর দিন বোধনের পর পুজো করা হয় মৃন্ময়ী মূর্তিকে।বলিদান প্রথা নেই দে চৌধুরী বাড়িতে। সেখানে পাঁচ ফল দিয়ে দেবীকে উৎসর্গ করা হয়। আরো একটি বিশেষত্ব হল এখানে দেবীকে রান্না করা ভোগ নিবেদন করা হয় না। রানাঘাটের দে চৌধুরী বাড়িতে দেবী দুর্গাকে কাঁচা ভোগ নিবেদন করা হয়। সেখানে যেমন থাকে ভোগের চাল, ডাল, কাঁচা সবজি যাবতীয় সব কিছুই।

অতীত ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায় এই জমিদার বাড়িতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাঁদের চৌধুরী উপাধি দেন। কথিত আছে দে চৌধুরী বাড়ির দেবী দুর্গা খুবই জাগ্রত। বহু দূরদূরান্ত থেকে দে চৌধুরী বাড়িতে মানুষ আসেন দুর্গোৎসবে অংশ নিতে। শোনা যায় এখানকার দেবী মা ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করেন। অষ্টমী ও নবমীর দিন অঞ্জলি দেওয়ার সময় তিল ধারণের জায়গা থাকে না রানাঘাটের দে চৌধুরী বাড়িতে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here