১৭ ঘন্টা পরেও রোগীকে কোভিড হাসপাতালে পাঠানো হল না, দুর্গাপুরে মহকুমা হাসপাতালের বিরুদ্ধে চরম উদাসীনতার অভিযোগ

আমাদের ভারত, ১৪ জুলাই: শিল্প শহর দুর্গাপুরেও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। নতুন করে শহরে ১৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে। সেখানে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চুড়ান্ত উদাসীনতার অভিযোগ উঠল। কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ তবু রোগীকে নির্ধারিত কোভিড হাসপাতালে স্থানান্তরিত না করে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠল দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন ওই হাসপাতালেরই অন্যান্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

অভিযোগ সোমবার রাত ৯.৩০ টা নাগাদ এক মহিলার কোভিড পজিটিভ রিপোর্ট জানা সত্বেও সেই রিপোর্ট চেপে রাখা হয়েছে। তাকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল থেকে স্থানান্তরিত করা কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগের ডাক্তারদের অভিযোগ মহকুমা হাসপাতালে আসা এক মহিলার কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে, সেটা জানা সত্ত্বেও তাকে দুর্গাপুরের কোভিড হাসপাতালে পাঠানোর ক্ষেত্রে গাফিলতি করা হয়েছে। আর এর ফলে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অন্যান্য রোগী ও চিকিৎসা কর্মীদের ইচ্ছাকৃত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ফেলা হয়েছে। তাদের মূল অভিযোগ হাসপাতাল সুপার দেবব্রত দাস সহ সহকারী সুপারের বিরূদ্ধে ।

তাদের অভিযোগ কোভিডের মত এই মারণ রোগকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না হাসপাতাল সুপার। তাই তারা বাধ্য হয়ে ওই হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগের ৭জন ডাক্তার , ১৪ জন নার্স সহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা কর্মবিরতিতে গেছেন।

তারা জানিয়েছেন হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগের ২ মহিলা চিকিৎসক চরম আতঙ্কে রয়েছেন কারণ ওই দুজন মহিলা চিকিৎসকের বাড়িতে ছোট শিশু আছে ।

জানা গেছে, গত ৭ জুলাই স্ত্রী রোগ সংক্রান্ত বিষয়ে এক মহিলা ভর্তি হয়েছিলেন মহকুমা হাসপাতালে । মহকুমা হাসপাতালেরই করোনা আক্রান্ত এক মহিলা চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করেন । ফলে ওই মহিলারও লালারস পরীক্ষা হয় । যার রিপোর্ট গতকাল এসেছে, এবং তা পজিটিভ। অথচ ওই মহিলা রোগী সকাল বেলা হাসপাতাল চত্বরে ঘুরে বেড়িয়েছেন।

এরপর দুপুর ১টা নাগাদ হাসপাতালে এসে সুপার দেবব্রত দাস জানান যে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে । দুর্গাপুর নগরনিগমের পক্ষে হাসপাতাল চত্বর স্যানিটাইজ করা হবে বলেও জানান তিনি।

কিন্তু এই ঘটনায় আবার সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রিপোর্ট পজিটিভ জানার পরেও একই শহরে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে কোভিড হাসপাতালে কেন ঐ করোনা রোগীকে দ্রুত স্থানান্তরিত করা গেল না, সে প্রশ্নও উঠেছে? এই উদাসীনতার ফলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী, চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মীদের মধ্যে যদি এই মারণ রোগ ছড়ায় তার দায় কে নেবে? প্রশ্ন উঠেছে ইচ্ছাকৃত সকলের নিরাপত্তা নিয়ে কেন এভাবে খেলা করা হচ্ছে? হাসপাতাল সুপারছর ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে। অথচ দুর্গাপুরে প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here