বাম আমলে শিল্যানাস, মমতা করেছেন উদ্বোধন, আজও মানুষ পানীয় জল পান না প্রকল্প থেকে

বাম আমলে শিল্যানাস, মমতা করেছেন উদ্বোধন, আজও মানুষ পানীয় জল পান না প্রকল্প থেকে

আমাদের ভারত, রামপুরহাট, ১৬ আগস্ট: বাম আমলে শিলান্যাস। সরকার পরিবর্তনের পর সেই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু আজও পানীয় জল পাচ্ছেন না তপশীল অধ্যুষিত গ্রামের বাসিন্দারা। ফলে ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার মানুষ। সমস্যার সমাধানে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লেখা হলেও মেলেনি উত্তর।

বীরভূমের নলহাটি থানার হরিদাসপুর পঞ্চায়েতের লক্ষীনারায়ণপুর সহ সংলগ্ন পাঁচটি মৌজায় বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবারহের সিদ্ধান্ত নেয় বামফ্রন্ট সরকার। সেই মত ২০০৯ সালে ১ মার্চ প্রকল্পের শিলান্যাস করেন বামফ্রন্ট সরকারে আমলে গ্রন্থাগার মন্ত্রী প্রয়াত তপন রায়। ২৩ টি গ্রামের জন্য বোধরা জলাধার লাগোয়া ব্রাহ্মণী নদীর পাশে প্রকল্পটি শিলান্যাস করেন। ধাবনী গ্রামে একটি জলের ট্যাঙ্ক করা হয়। ভূগর্ভে পাইপ লাগানোর কাজ শুরু হয়। কিন্তু ২০১১ সালে সরকার পরিবর্তন হওয়ায় এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৪ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইলামবাজার থেকে প্রশাসনিক সভায় প্রকল্পের উদ্ববোধনও করেন। কিন্তু দু’চারটি গ্রাম ছাড়া বাকি কোনও গ্রামে এখনো জল পৌঁছয়নি। বেশির ভাগ গ্রামে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। পানীয় জল না পৌঁছনোয় ক্ষোভ জমেছে তাদের মধ্যে।

কাংলাপাহাড়ী, শালদহ, রঘুপাড়া, নিমডাঙ্গা, কামারপাড়া, কালুর পুকুর, জামসুল সহ মোট ১৫ টি আদিবাসী গ্রামে এখনো পৌছায়নি পানীয় জল। পাইপ বসানো হলেও জল মেলে না। তাই কুয়োর জল ও একটা দুটো নলকূপের উপর ভরসা করে জীবন যাপন করছেন গ্রামের বাসিন্দারা। কাংলাপাহাড়ী গ্রামের বাসিন্দা শ্রীদেবী হেমরম বলেন, “আমাদের গ্রামে জলের খুব সমস্যা। এক কিলোমিটার দূরে জলের ট্যাঙ্ক করা হয়েছে। পাইপ বসানো হয়েছে। কিন্তু গ্রামে এখনো পর্যন্ত জল আসনি। আমরা পঞ্চায়েতে জানিয়েছি। তাতেও কোনো কিছু হয়নি”।

স্থানীয় তৃণমূল নেতা শেখ আসাদুজামান বলেন, “কয়েকটা জায়গায় ছাড়া কোনো গ্রামে এখনো পর্যন্ত জল পায় না। এই প্রকল্পে প্রায় ৩ কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে। এই এলাকা গুলি ফ্লোরাইড যুক্ত থাকার কারণে জল প্রকল্পটি করা হয়েছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছে থাকলেও আধিকারিকদের পুরোপুরি গাফিলতির জন্য মার খাচ্ছে। এতেই ক্ষিপ্ত এলাকার মানুষ। কারণ সামন্য জল টুকুও আমরা দিতে পারচ্ছি না। আমরা চাই মুখ্যমন্ত্রী এবিষয়ে হস্তক্ষেপ করুক”।

এনিয়ে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের কোনও আধিকারিক মুখ খুলতে চাননি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen + four =