“হয় কারখানা করো নইলে জমি ফেরত দাও”, মেদিনীপুরের বিগ্রেড সমাবেশ থেকে আন্দোলন গড়ে তোলার ডাক বামেদের

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৪ জানুয়ারি: আজ মেদিনীপুর শহরে হল বামেদের বিগ্রেড
সমাবেশ। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলার বাম নেতা সুশান্ত ঘোষ, সংগঠনের রাজ্য সম্পাদিকা মীনাক্ষী মুখার্জি, রাজ্য নেতা অপূর্ব প্রামানিক সহ জেলা সম্পাদক সুমিত অধিকারী। সভাপতিত্ব করেন জেলা সভাপতি শুভদীপ সেন।

তৃণমূলের হাতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় খুন হওয়া চার জন বাম যুব নেতা শহিদ নন্দ সামন্ত, শহিদ জুলফাই মল্লিক, শহিদ রোহিন পাতর ও শহিদ গৌতম মিত্র নামে চারটি ব্রিগেড মিছিল মেদিনীপুর শহরের চার প্রান্ত থেকে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এসে মেদিনীপুর শহরের গান্ধী মূর্তির পাদদেশে এসে মিলিত হয়। সেই সমাবেশ মঞ্চে উপস্থিত চার শহিদ পরিবারের হাতে সংগ্রামী স্মারক তুলে দেন যুব সংগঠনের নেতারা।

এদিনের সমাবেশ থেকে “হয় কারখানা করো নইলে জমি ফেরত দাও”, আন্দোলন গড়ে তোলার ডাক দেওয়া হয়। মীনাক্ষী মুখার্জী কেন্দ্র ও রাজ্য দুই সরকারের নীতির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। এরাজ্যে তৃণমূল নেতা মন্ত্রীদের দুর্নীতিতে মাথাও যুক্ত, তাকেও গ্রেপ্তার না করার পিছনে আরএসএস পরিচালিত দুই সহদর শক্তি তৃণমূল ও বিজেপির বোঝাপড়া করে চলার নানান উদাহরণ তুলে ধরে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, দল বদলু সংস্কৃতির পিছনে তৃণমূল ও বিজেপি চোর ডাকাতদের পুষ্ট করে নিজেরাও পুষ্ট হচ্ছে। এমন বিষয়ে জনগণের সামনে এদের মুখোশ আরোও বেশী করে খুলে দিতে হবে বলে যুব কর্মীদের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, চোর ডাকাতদের মতো মন জয় করার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুদান বিলানোর মতো ঘটনা এরাজ্যে হয়েছে। মহামারির সময় যখন সংকোট তখন ডিম সোয়াবিন বড়ি, ডাল, ভোজ্য তেলের বরাদ্দ লুঠ করায় অপুষ্টি জনিত অসুখে আক্রান্ত প্রসূতি সহ শিশুরা তখন নীরব থেকেছে। এখন সেই জালিয়াতি ধরা পড়ায় পঞ্চায়েত ভোটের মুখে এরাজ্যের তৃণমূল সরকার এখন মিড ডে মিলে মাংস খাওয়ানো ঘোষণা করেছে। এর জন্য কি বরাদ্দ বাড়ানো সহ বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। এখন লুটের টাকা হজম করতে না পারায় ফন্দি ফিকির করছে বলে চাঁচা ছোলা ভায়ায় রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন মীনাক্ষী মুখার্জি।

সুশান্ত ঘোষ বলেন, চোর ডাকাতদের জড়ো করে আরএসএসের টাকায় এরাজ্যে একটা রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে ক্ষমতায় এসেছে। এখন কর্পোরেট ঢংয়ে সেই চুরি ডাকাতি লুঠ চলছে রাজ্যের প্রতিটি বিভাগে। শুধু স্কুল শিক্ষায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। পাহাড় সমান টাকা উদ্ধার এর আগে এমন ভূভারত কেনে বিশ্বেও কোথাও হয়নি। কেন্দ্রীয়
তদন্তকারী সংস্থাগুলো কি করছে? কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা কি আজ তা পরিষ্কার। তৃণমূলের চোররাও আজ বিজেপি দলের নেতা ও সম্পদ। আর এরাজ্যে এক দেউলিয়া সরকার চলছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সেই তথ্য প্রকাশ করেছে। সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বকেয়া রেখেছে শুধু নয়, এক দুই মাস অন্তর লক্ষ কোটি টাকা নিয়ে বেতন দিচ্ছে। আর দেশে এমন একটা সরকার চলছে, কৃষক শ্রমিক সহ জনসাধারণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। আচ্ছে দিন আদানি আম্বানি সহ বৃহৎ পুঁজিপতিদের জন্য কালা কানুন চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। কৃষকরা আবারও রাজধানীতে সামিল হবেন বিজেপি সরকারকে হুঁশিয়ারী দিতে। কৃষককের ফসলের ন্যায্য দাম নেই, এখানে সার কীটনাশক ঔষধে কালোবাজারি হয়। আর কর্পোরেটের ওষুধে ছাড় দেওয়ায় হয় তার বহুগুন দাম বাড়িয়ে। দশ টাকা বাড়িয়ে দুটাকা ছাড় এমন নীতি এদেশে।

সমাবেশে সংগঠনের রাজ্য নেতা অপূর্ব প্রামানিক বলেন, এরাজ্যে যারা তৃণমূল করে তারা কামিয়ে নেওয়ার জন্য। তৃণমূলের যুবনেতা গ্রেপ্তার হয় কোটি কোটি টাকা চাকরির নামে কাটমানি তোলা হয়। ওরা কি না খায়! বালি, কয়লা, পাথর, এমনকি জঙ্গলের গাছও। ওরা মানুষ নয়, তৃণমূল করে। তোলাবাজি ওদের স্বপ্ন, গণতন্ত্র হরণ ওদের লক্ষ। এবার এর বিরুদ্ধে বাংলার যুব সমাজের জনরোষ ছড়িয়ে দিতে যুব সংগঠনের কর্মীদেরই দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান।

জেলা সম্পাদক সুমিত অধিকারী বলেন, ওরা সিঙ্গুর, নয়াচর আটকিয়েছে যেমন তেমনি হলদিয়া, খড়্গপুর শিল্প তালুক, বিদ্যাসাগর শিল্প তালুকেও ধ্বংস করেছে। গত ১২ বছরে জেলায় ১৩ টি কারখানা বন্ধ করে ১৭ হাজার পরিবারের মুখের গ্রাস কেড়েছে। জমিদাতা সহ ক্ষেতমজুরদের কান্না আজও শোনা যায়। আমরা আর নীরব থাকতে পারি না। এশিয়ার বৃহতম ইস্পাত নগরী শালবনীতে জিন্দাল প্রকল্পের ১২০০ একর জায়গায় এক কোনে সিমেন্ট কারখানা চালু হলেও কাজ পেয়েছে বহিরাগতরা ঠিকাদারদের মাধ্যমে। জমিদাতা পরিবারগুলি এখন অসহায় জীবন জীবিকায়। এমন পরিবারের সাথে নিবিড় যোগাযোগ সহ আন্দোলন গড়ে তোলা এবং হয় কারখানা করো নইলে জমি ফেরত দাও আন্দোলন গড়ে তোলার শপথ নেওয়া হয় এই সমাবেশ থেকে।

2 মন্তব্যসমূহ

  1. […] মেদিনীপুর শহরে বামেদের ‘ব্রিগেড’ সমাবেশ হল। সেখানে কর্মসংস্থানের দাবিতে আন্দোলনের ডাকও দেওয়া হয়েছে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলার বাম নেতা সুশান্ত ঘোষ, সংগঠনের রাজ্য সম্পাদিকা মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, রাজ্য নেতা অপূর্ব প্রামাণিক, জেলা সম্পাদক সুমিত অধিকারী প্রমুখ। সমাবেশ থেকে ডাক ওঠে “হয় কারখানা করো নইলে জমি ফেরত দাও”। পাশাপাশি আরো বড়ো আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন।জেলা সম্পাদক সুমিত অধিকারী বলেন, “গত ১২ বছরে জেলায় ১৩টি কারখানা বন্ধ করে ১৭ হাজার পরিবারের মুখের গ্রাস কেড়েছে। জমিদাতা-সহ ক্ষেতমজুরের কান্না আজও শোনা যায়। জমিদাতা পরিবারগুলো এখন অসহায়”। সমাবেশ থেকে আন্দোলনের শপথ নেওয়া হয়।সূত্র – আমাদের ভারত ডট কমবিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন […]

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here