মুনাফার আশা দেখাচ্ছে রঙিন কপি, দুর্গাপুর সংলগ্ন সোনাইচন্ডীপুরে রঙিন ফুলকপি-বাঁধাকপি চাষে বাড়ছে উৎসাহ  

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৩ জানুয়ারি: দফায় দফায় নিম্নচাপ। তার জেরে মাঠেই নষ্ট আলু চাষ। লোকসান ঠেকিয়ে মুনাফার আশায় বিকল্প চাষে ঝোঁক বাড়ছে। আর তাই রঙিন ফুলকপি-বাঁধাকপি চাষে মন মজেছে দামোদর তীরবর্তী দুর্গাপুর লাগোয়া সোনাইচন্ডীপুরের চাষিদের। মাঠভরা হলুদ, বেগুনি রঙবাহারি ফুলকফি, বাঁধাকপি লাগিয়ে নজির গড়েছে চাষিরা। ওইসব চাষে লাভের আশাও দেখছে। 

দুর্গাপুর শিল্পশহর লাগোয়া সোঁনাইচন্ডীপুর। শহর লাগোয়া হলেও জায়গাটি বাঁকুড়া জেলার মেজিয়া ও বড়জোড়া ব্লকের। প্রায় ৩৬ টি পরিবারের বসবাস। নদীর চরে ছাইমাটির ওপর চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে। আলু, পেঁয়াজ, বেগুন, মটর, গাজর, কলা, পেঁপে, মটর, বাদাম, কুল, গন্ধরাজ লেবু সহ নানান ধরনের শাক যেমন চাষ করে। তেমনই শীতকালীন সবজি মানেই ফুলকপি ও বাঁধাকপিও চাষ করে। তবে চলতি মরশুমে দফায় দফায় নিম্নচাপের বৃষ্টিতে আলু চাষ পন্ড হয়েছে। মাঠেই নষ্ট হয়েছে আলু চাষ। লোকসানে মাথায় হাত পড়েছে চাষিদের। দ্বিতিয়বার আলু বসাতে গিয়েও বিপাকে পড়তে হয়েছে। রাসায়নিক সারের কালোবাজারি তার ওপর অগ্নিমূল্যে বীজ কিনে আলু চাষ করতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়েছে। বাধ্য হয়ে পুনরায় আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়েছে চাষিরা। একঘেয়েমি কাটাতে রং বাহারি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ফলিয়ে কার্যত নজির গড়েছে এলাকার কয়েকজন চাষি। মূলত এই জাতীয়  ফুলকপি নেদারল্যান্ড ও ফ্রান্সে হয়। তবে নতুন ওই সবজি চাষে খরচের বহরও অস্বাভাবিক। কি বলছেন চাষিরা।

নির্মলচন্দ্র রায় ও গৌরাঙ্গ রায় দু’জনে কাঠা পাঁচেক করে রঙিন কপি চাষ করেছেন। নির্মলবাবু জানান, “অস্বাভাবিক আলু বীজের দাম। তার ওপর রাসায়নিক সারে কালোবাজারি। তাই আলু সেরকমভাবে চাষ করিনি। তবে নিম্নচাপের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে, সাহস করে রঙিন ফুল কপি ও বাঁধাকপি চাষ করলাম। ৫ কাঠায় রঙিন ফুলকপি ও কাঠা পাঁচেক রঙিন বাঁধাকপি চাষ করেছি। অন্যান্য চাষের মতই জমি তৈরী করেছি। তবে এবছর এসব বীজের দাম অস্বাভাবিক। বীজ প্রতি ৯-১০ টাকা দাম পড়েছে। তার আনুসাঙ্গিক সার কিনতে হয়েছে। চাষের খরচও এবছর বেশী পড়েছে। মাস দুয়েকে ফলন ভাল হয়।” আর একজন চাষি গৌরাঙ্গ রায় জানান,
“পরিচর্যা নিয়মিত করতে হবে। কিটনাশক ছড়ানো জরুরি। না হলে পোকা লাগে। গতবছর চাষ করেছিলাম। লাভজনক চাষ। তাই বিকল্প চাষের জন্য এবারও হলুদ ও বেগুনি ফুলকপি ও বেগুনি বাঁধাকপি লাগিয়েছি। নতুন তাই, বাজারে চাহিদা রয়েছে। পাইকারি ২৫-৩০ টাকা পিস বিকোচ্ছে। খুচরো আর একটু দাম বেশী। আশা করছি এবারও লাভের আশা দেখব।”

মাঠের মধ্যে রংবাহারি হলুদ, বেগুনি ফুলকপি- বাঁধাকপি চাষে আগ্রহ বাড়ছে যেমন চাষিদের। তেমনই শিল্পশহরে চাহিদাও বাড়ছে এইসব সবজির। তবে চাষিদের আক্ষেপ হিমঘর না থাকায়। স্থানীয় চাষি দুলাল মহুরী, মন্টু মন্ডল, হরেন্দ্রনাথ তালুকদার, দীপজয় বালা, আনন্দ বিশ্বাস প্রমুখ চাষিরা জানান, “এবছরও গ্রামে বিঘা পাঁচেক রঙিন কপি চাষ হয়েছে। শুনেছি ওই কপির গুনাগুন বেশ ভাল। বাজারও ভাল রয়েছে। কিন্তু সমস্যা হিমঘর না থাকায়। আলু, পেঁয়াজ, গাজর সবই চাষ হয়। সংরক্ষণ করা যায় না। প্রায় ৭০-৮০ কিলোমিটার দূরে হিমঘর। তাই দূরে ওই হিমঘরে রাখতে যাওয়া ব্যায়বহুল যেমন হয়। তেমনই চরম অসুবিধায় পড়তে হয়। তাই দুর্গাপুর কিম্বা বড়জোড়ায় হিমঘর থাকলে খুবই সুবিধা হয়।”  

বুদবুদ কেন্দ্রীয় কৃষি বিজ্ঞান ও গবেষণাগারের সাবজেক্ট মেটার স্পেশালিষ্ট বিজ্ঞানী ডঃ সুব্রত সরকার বলেন,
“রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপির নতুন কোনো নাম নেই। এক একটা প্রজাতি। তবে হলুদ ফুলকপিকে ক্যারোটিনা ও গোলাপি বা হালকা বেগুনি গুলো ভ্যালেটিনা বলে থাকে। করোটিনার মধ্যে ভিটামিন -এ থাকে। এককথায় এধরনের কপির মধ্যে যথেষ্ট পুষ্টিগুন রয়েছে। রঙিন হওয়ায় বাজারে আকর্ষনীয় হয়ে উঠেছে। চাহিদাও রয়েছে। এবং লাভজনক।” 

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here