বৃষ্টির দাপট কমলেও এখনও জলমগ্ন বাকুঁড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা

সোমনাথ বরাট, আমাদেৱ ভারত, বাঁকুড়া, ৩১ জুলাই: বৃষ্টির দাপট কমায় জনজীবনে স্বস্তি ফিরলেও এখনও জলবন্দি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। সেই সব এলাকায় ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে।

এদিকে দেওয়াল চাপা পড়ে ফের গতকাল সোনামুখীর সিদ্ধান্ত ডাঙ্গায় লখিন্দর সরেন নামে এক ব্যক্তি মারা যায়। এনিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল দুই।

শনিবার বাঁকুড়ায় নতুন করে ভারী বৃষ্টি না হলেও একটানা দুদিনের ভারী বৃষ্টির ফলে আতঙ্কে ছিলেন বহু গ্রামের বাসিন্দারা। জেলার প্রায় সবকটি নদীতে জল বইছে বিপদ সীমার উপর দিয়ে। দ্বারকেশ্বর নদের জল বিপদসীমা অতিক্রম করে উপচে পড়ছে। দামোদর নদের দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ দুপুরের পর থেকে কমানোয় স্বস্তি মিলেছে। এদিন সকাল ৫টায় ১,২৩,৫৭৫ কিউসেক, ৮টায় ১,২৮,৭৭৫ কিউসেক এবং ৯টায় ১,৩০,৮৭৫ কিউসেক জল ছাড়া হলেও দুপুরে তা কমানো হয়। বেলা ১টায় ১,১৯,৭৭৫ কিউসেক জল ছাড়া হয়। দামোদর নদ সংলগ্ন সোনামুখীর সমিতিমানা গ্রামে পাড় ভেঙ্গে গ্রামে জল ঢুকে যায়। বড়জোড়ার পল্লিশ্রী মানা, রামকৃষ্ণ মানা ইত্যাদি জনপদগুলিও জলমগ্ন হয়ে পড়ায় প্রশাসন তৎপরতার সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছে। বেশ কয়েকটি ত্রাণ শিবিরও খোলা হয়েছে।

তালডাংরার জয়পন্ডা নদীর জল ঢুকে যায় কলিগ্রামে। অন্যদিকে এই জয়পন্ডা নদীরই বাঁশগেড়িয়া ঘাটে ভেসে আসা এক মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাকে উদ্ধার করে তালডাংরা থানার পুলিশ। কোতুলপুরের মদনমোহন পুরের কাছে জলের স্রোতে দ্বারকেশ্বর নদের পাড় ভাঙ্গতে শুরু হলে গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একটানা বৃষ্টিতে ৩ দিন বিদ্যুৎ না থাকায় কোতুলপুরের গোয়ারপাড়ায় গ্রামবাসীরা বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। ইন্দাসের শান্তাশ্রমের দেবখালে জল উপচে পড়েছে। এই সংলগ্ন এলাকায় জল ঢুকে পড়েছে। ডুবে গেছে বহু রাস্ত ঘাট। করিশুন্ডা, পাহাড়পুর, গোবিন্দপুর সহ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা যাতায়াতের সমস্যায় পড়েছেন। ইন্দাসের বহু এলাকায় প্রশাসনের পক্ষে সতর্কবার্তা মাইকে করে প্রচার করতেও শোনা যায়।
জেলার বহু জোড় ও খাল গুলিতেও জল উপচে পড়ায় গ্রামেও জল ঢুকে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

জেলা সদরের বাঁকুড়া ১ নাম্বার ব্লক এবং ওন্দা, কোতুলপুর, জয়পুর এই ৪ ব্লকজুড়ে বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। এই ৪ ব্লকে কন্ট্রোলরুম খুলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৈরি রয়েছে ব্লক প্রশাসন। জেলার বিভিন্ন কজওয়েগুলি জলের তলায় চলে যাওয়ার ফলে যাতায়াতের সমস্যায় পড়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রিপল ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

পাশাপাশি, শিলাবতী, কংসাবতী এবং বাঁকুড়া শহরের গন্ধেশ্বরীও ফুঁসছে। জয়পুর ও কোতুলপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। কোতুলপুরের অবস্থা ভয়বহ। জেলায় বহু চাষের জমি জলের তলায় ডুবে গিয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ১৬টি ত্রাণ শিবির চালু করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১২০০ কাঁচা বাড়ি ক্ষতিগ্ৰস্থ হয়েছে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here