করোন রোগীর মৃতদেহ পোড়ানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরামবাগে, পথ অবরোধ স্থানীয়দের

গোপাল রায়, আরামবাগ, ৭ আগস্ট: করোনা রোগীর মৃতদেহ নদীর পাড়ে ফেলে দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। গতকাল রাত থেকে পথ অবরোধ করে রাখল স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাটি ঘটেছে আরামবাগের দুইমাইল এলাকায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত রবিবার থেকে করোনা রোগীর মৃতদেহ দ্বারকেশ্বর নদীর পাড়ে অল্প মাটি খুঁড়ে পুঁতে দেওয়া হচ্ছে। সেই মাটি আবার রাস্তার কুকুর খুঁড়ে মৃত দেহগুলি থেকে কারোর হাত কারোর পা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই ঘটনার জন্য আরামবাগের গির্জা তলার বাসিন্দাদের এক ঘরে করে রেখেছে অন্য এলাকার মানুষজন। হাটে- বাজারে ও ওষুধ কিনতে গেল সেখান থেকে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। এরপরেই গির্জাতলার স্থানীয় বাসিন্দারা দোকান মালিকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে দোকানদাররা তাদের বলেন, আপনাদের এলাকায় করোনা রোগীর মৃতদেহ ফেলে দিয়ে যাচ্ছে যা বহু ক্ষেত্রেই পচে গন্ধ বেরোচ্ছে। শুধু তাই নয়, এর থেকে ওই এলকার অন্য মানুষজনেরও করোনা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার রাতে। এক করোনা রোগীর মৃতদেহ নিয়ে এসে পেট্রোল ঢেলে পড়ানোর সময় গ্রামবাসীরা তা দেখতে পেয়ে যায়।‌ এরপর রাস্তায় টহলরত পুলিশের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে গ্রামবাসীরা। এরপর বেগতিক দেখে পুলিশ গাড়ি ফেলে রেখে চলে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা গতকাল রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত পথ অবরোধ করে রাখে। পাশাপাশি দ্বারকেশ্বর নদীর চড়ে ভিড় জমায় গ্রামবাসীরা।

এক গ্রামবাসী বাপি মান্ডি বলেন, আমাদের দ্বারকেশ্বর নদীর পাড়ে পুলিশ প্রশাসন দাঁড়িয়ে থেকে করোনা রোগীর মৃতদেহগুলিকে কি করে অল্প মাটিতে পুঁতে দিচ্ছে? পেট্রোল দিয়ে আধপোড়া করে চলে যাচ্ছে। এর জন্য এলাকায় দোকানদারা আমাদের কোনও মাল দিচ্ছে না। ওষুধ কিনতে গেলে ওষুধ দিচ্ছে না। তাই আমরা গতকাল রাত থেকে রাস্তা বন্ধ করে রেখেছি। আমাদের দাবি, মৃতদেহগুলো তুলে নিয়ে যেতে হবে।

আরামবাগ থানার পুলিশ ও আরামবাগে বিডিও বিশাখ ভট্টাচার্য ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলেন। বিডিও গ্রামবাসীদের প্রতিশ্রুতি দেন এলাকা থেকে মৃতদেহ পোড়ানোর পোড়া কাঠ সরিয়ে দেওয়া হবে এবং ওই জায়গাটিকে স্যানিটাইজ করা হবে। বিডিও প্রতিশ্রুতি দিল‌েও, তা মানতে চায়নি গ্রামবাসীরা। পরে দুপুর আড়াইটে নাগাদ পথ অবরোধ তুলে নেয় বাসিন্দারা।

জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর জানান, ব্যাপারটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, সচেতনতা প্রচার চালানো হবে। একটি প্রতিনিধিদল ব্যাপারটা খতিয়ে দেখবে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here