চোখের জলে চির বিদায় রাজেশকে

আশিস মণ্ডল, সিউড়ি, ১৯ জুন: চোখের জলে বীর সেনানী রাজেশ ওরাংকে চিরবিদায় জানাল বীরভূমবাসী। আগুনে বিলীন নয়, গ্রামের বীর যোদ্ধার পার্থিব শরীর শায়িত করা হল গ্রামের মধ্যেই। শুক্রবার সকালেই পানাগর থেকে শহিদ জওয়ানের কফিন বন্দি দেহ পৌঁছয় জেলার মহম্মদ বাজার থানার বেলেগড়িয়া গ্রামে।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গ্রামের ছেলে বীর যোদ্ধা রাজেশ ওরাংয়ের শহিদ হওয়ার খবর পরিবারকে দেয় সেনাবাহিনী। ওইদিন ভোরের দিকে চিনা সীমান্ত ভারতের লাদাখে দুই দেশের সেনা যুদ্ধে আহত হন রাজেশ। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর খবর গ্রামে আসতেই শোকের ছায়া নেমে আসে গ্রামে। শোকস্তব্ধ বীরভূম। বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে তাঁর কফিনবন্দি শরীর গ্রামে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু পানাগর বেস ক্যাম্পে তাঁর মৃতদেহ সন্ধ্যায় এসে পৌঁছনোয় আর গ্রামে ফেরানো হয়নি। শুক্রবার সকালে বীর যোদ্ধার কফিনবন্দি দেহ শেষবারের জন্য শ্রদ্ধা জানাতে জেলার বহু মানুষ গ্রামে ভিড় জমিয়েছিলেন। রাস্তার দুই ধার থিক থিক করছিল মানুষের ভিড়। হাতে হাতে উড়েছে জাতীয় পতাকা। কফিন লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয়েছে ফুল। মুখে ভারত মাতা কি জয়, “শহিদের রক্ত হবে না কো ব্যর্থ” ধ্বনি। ফুল দিয়ে সাজানো গাড়ির সামনে ও মাথার উপর রয়েছে রাজেশের ছবি। গোটা গ্রামে বাঁশের বেড়া দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছিল। তবু সামাজিক দূরত্বের কোনও বালাই ছিল না। বিভিন্ন থানা থেকে পুলিশ মোতায়েন করেও মানুষের আবেগের কাছে হার মানতে হয়েছে প্রশাসনকে।

এদিন গ্রামে গিয়ে বীর যোদ্ধাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান দুই সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং সৌমিত্র খাঁ। ছিলেন কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, হাঁসন কেন্দ্রের বিধায়ক মিল্টন রশিদ, সাঁইথিয়ার বিধায়ক নীলাবতি সাহা, নলহাটির বিধায়ক মৈনুদ্দিন সামস, তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল, বিজেপির জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল, বীরভূম জেলা পরিষদের মেন্টর রানা সিংহ, সহ সভাধিপতি নন্দেশ্বর মণ্ডল। এরপর শহিদ সেনাকে যথাযোগ্য মর্যাদায় গান স্যালুট দেওয়া হয়। অনুব্রতবাবু বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন শহিদের পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি দেবে। সেই সঙ্গে পাঁচ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছেন। তাছাড়া বোন যতদূর পড়তে চায় দলের পক্ষ থেকে তাঁর খরচ বহন করা হবে”।

এদিকে ছেলের দেহ আগুনে বিলীন করতে চাননি পরিবার। তাই রাজেশের দেহ গ্রামেই শায়িত রাখা হয়েছে। এদিন শহিদ রাজেশকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর তাঁর কফিনে জড়ানো জাতীয় পতাকা, পোশাক পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here