লকডাউনের জেরে মাথায় হাত কৃষকদের

আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৪ এপ্রিল: লকডাউনের জেরে একদিকে পরিবহনের সংকট। তার উপর সময় মতো বাজারে না পৌঁছাতে পারলে আড়ৎদাররা কিনতে চাইছে না সবজি। মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো রয়েছে ফঁড়েদের উৎপাত। আর এসবের জাঁতাকলে পড়ে নিজেদের ফসলের দাম পাচ্ছেন না বাঁকুড়ার সোনাইচন্ডীপুর চর মানার সবজি চাষিরা। লোকসানের আশঙ্কায় মাঠেই পড়ে থেকে থেকে নষ্ট হচ্ছে সোনার ফসল।

বাঁকুড়া ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার একেবারে সীমানায় রয়েছে দামোদর নদ। এই নদের মাঝেই মেজিয়া ব্লকে জেগে থাকা একটি চরে আজ থেকে কুড়ি বছর আগে বসতি শুরু করে গলসি, নদীয়া, সোনামুখি এলাকা থেকে এই এলাকায় আসা কিছু মানুষ। নদীর চরে উর্বর প্রায় দুশো একর জমিতে শুরু হয় চাষাবাস। সারা বছর এখানে সবজি চাষ হয়। এলাকাটি নদী দ্বারা বাঁকুড়া জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এখানে উৎপাদিত সবজির সিংহভাগ চলে যায় পশ্চিম বর্ধমান জেলায়। মূলতঃ দুর্গাপুরের সেন মার্কেট ও বেনাচিতি বাজারে সবজি সরবরাহ করেন এখানের কৃষকরা। কিন্তু লক ডাউনের জেরে এখন চূড়ান্ত সমস্যায় পড়েছেন এই এলাকার কৃষকরা।

এমনিতে লক ডাউনের জেরে পরিবহনের সমস্যা রয়েছে। তাই প্রায়শঃই সময়মতো পৌঁছানো যাচ্ছে না বাজারে। সকালের দিকে ঘন্টা দুয়েক খোলা থাকা দুর্গাপুরের পাইকারি সবজি বাজারে সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে বিক্রি হচ্ছে না উৎপাদিত ফসল। এর উপর রয়েছে ফঁড়েদের অত্যাচার। খুচরো বাজারে এখন সবজির দর কিলো প্রতি দশ থেকে কুড়ি টাকার মধ্যে থাকলেও ফঁড়েরা কৃষকদের সমস্ত সবজির দাম দিচ্ছে কিলো প্রতি তিন থেকে চার টাকা। ফলে উৎপাদন খরচ বাদ দিলেও মাঠ থেকে সবজি তুলে তা বাজারজাত করার খরচও হাতে আসছে না সোনাইচন্ডীপুরের কৃষকদের। ফলে আরো বেশি লোকশানের হাত থেকে বাঁচতে মাঠ থেকে সবজি তোলা বন্ধ করে দিয়েছেন ওই এলাকার সমস্ত কৃষকরা। মাঠেই নষ্ট হচ্ছে টমেটো, বেগুন, কুমড়ো, গাজর, শিম , বিনস সহ বিভিন্ন সবজি। সোনাইচন্ডীপুর চর মানায় উৎপাদিত সবজি সঠিক দামে কিনে সুফল বাংলার মাধ্যমে বিক্রি ও বিভিন্ন জায়গায় দেওয়া ত্রাণের কাজে লাগানোর আশ্বাস দিয়েছেন বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি মৃত্যুঞ্জয় মুর্ম্মু। এখন শুধুই অপেক্ষা সুদিনের জন্য।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here