লকডাউনে শ্রমিকের অভাবে ধান কাটতে না পারায় চরম সমস্যায় চাষিরা

স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ১৪ মে: গোটা রাজ্যে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে কোরোনা আক্রান্তের সংখ্যা। লকডাউনের কারণে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় অন্য জেলার থেকে ধান কাটার শ্রমিক আসতে না পারলে চরম সমস্যার মুখে পড়তে হবে চাষিদের। বিঘার পর বিঘা ধান লাগিয়েছেন রায়গঞ্জ ব্লকের কমলাবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের আব্দুলঘাটার চাষিরা। ধান কাটতে না পারলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাদের।

রায়গঞ্জ ব্লকের কমলাবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের আব্দুলঘাটা, চন্ডিতলা এলাকার কৃষকরা তাদের জমিতে কেউ ধান, আবার কেউ ভুট্টার চাষ করেছেন। প্রায় ৩০০ বিঘায় চাষ করেছে ধান ও ভুট্টা। ইতি মধ্যেই রায়গঞ্জ ব্লকে তিন জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। তাই এই অবস্থায় বাইরের থেকে ধান কাটার শ্রমিক না আসলে সমস্যার মুখে পড়তে হবে এলাকার চাষিদের। লকডাউন না উঠলে ধান কাটার শ্রমিকরা না আসলে মাঠের ধান মাঠেই পড়ে থাকবে।

এলাকার চাষিরা বলেন, মালদা থেকে প্রতিবছর ১৫-২০ জনের একটি টিম এসে এই এলাকার সমস্ত ধান কেটে দিয়ে চলে যায়। কিন্তু এবার দেশ জুড়ে করোনা ভাইরাসের জন্য লকডাউন চলছে। এই লকডাউন চলতে থাকলে মালদা থেকে শ্রমিকরা আসতে পারবে না। ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে এলাকার চাষিদের। পাশাপাশি এই এলাকায় প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে ধান ও ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। মাঝে মধ্যেই ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে ফলে ক্ষতি হচ্ছে ভুট্টা ও ধানের। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তড়িঘড়ি কোনও ব্যবস্থা না নেওয়া হলে মাঠেই নষ্ট হয়ে যাবে ধান ও ভুট্টা। জমির ধান নষ্ট হয়ে গেলে আগামী দিনে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলেও দাবি এলাকার চাষিদের।

নমিতা দেব শর্মা নামে এক মহিলা চাষি জানিয়েছেন, চাষের উপর নির্ভর করে আমার সংসার চলে। তিন ছেলে আছে তিনজনেই বেকার। এই লকডাউনের কারণে বাইরের থেকে শ্রমিকরা আসতে না পারলে মাঠের ধান মাঠেই পড়ে থাকবে। নিজেদের পক্ষে এত ধান কাটা সম্ভব না। শ্রমিকরা না আসলে যেটুকু কাটতে পারবো সেটুকু কাটবো। বেইরের শ্রমিকরা কয়েকদিনের মধ্যে ধান কেটে দেয় বলে ধান বিক্রি করে ভালোই দাম পাওয়া যেত।

অন্যদিকে নির্মল দেবশর্মা নামে এক চাষি জানিয়েছেন, স্থানীয় শ্রমিকরা বেশি ধান কাটতে পারে না বলেই বাইরের থেকে শ্রমিক নিয়ে এসে ধান কাটা হয়। কিন্তু এবার বাইরের থেকে শ্রমিকরা না আসতে পারলে চরম সমস্যায় পড়তে হবে। ধান কাটতে না পারলে মাঠেই ধান নষ্ট হয়ে যাবে। তাই প্রশাসনের সাহায্যের দরকার। প্রশাসন যদি হস্তক্ষেপ করে তাহলে আমরা উপকৃত হব।

যদিও রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মানস ঘোষ জানিয়েছেন, চাষিদের ধান কাটার কোনও সমস্যা হবে না। ধান কাটার যে মেশিন এসেছে সেই মেশিন দিয়েই ধান কাটার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই মেশিনের জন্য কৃষি দপ্তরে এসে লিখিত ভাবে জানালে তাদের ধান কাটার অনুমতি দেওয়া হবে৷ তাই এবার বাইরের শ্রমিকের দরকার হবে না।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here