ঝুঁকি নিয়ে গাছের উপর চেপে হাতি দেখতে গিয়েই কাল হল বলরামপুরের কৃষকের, বেঘোরে গেল প্রাণ   

সাথী প্রামানিক, পুরুলিয়া, ১১ ডিসেম্বর: গাছের উপর থেকে নামিয়ে টেনে শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে এক কৃষককে মেরে ফেলল হাতির দলের পাণ্ডা এক দাঁতাল। হাতির তাড়া খেয়ে পালাতে গিয়ে জখম হন আরও এক গ্রামবাসী। বুধবার, ঘটনাটি ঘটে বলরামপুরের পাঁড়দ্দা গ্রামের কাছে ভূচুকডি জঙ্গলে। মৃত ওই ব্যক্তির নাম ষষ্ঠীচরণ কালিন্দি (৩৫)। তাঁর বাড়ি পাঁড়দ্দা গ্রামে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুরুলিয়া বিভাগের বলরামপুর রেঞ্জের আধিকারিক ও বন কর্মীরা। আহত গ্রামবাসীকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় বলরামপুরের বাঁশগড় ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। মৃত কৃষকের দেহ উদ্ধার করে পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
   

স্থানীয়ভাবে জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে দুই শাবক সহ ১৩ টি হাতির একটি দল বিস্তীর্ণ আড়ষা, বলরামপুরের লোকালয় লাগোয়া বনভূমিতে যাতায়াত করছে। হাতির দলের যাতায়াতে এমনিতেই নস্ট হয়েছে মাঠে থাকা ধান ও সবজি। এদিন বলরামপুরের পাঁড়দ্দা গ্রামের কাছে সকালে মাঠে কাজ করছিলেন অনেকেই। সেই সময় ওই এলাকা দিয়ে হাতির দলটি ঢুকে পড়ে। হাতি দেখতে হৈ চৈ পড়ে যায় ওই এলাকায়। বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাতি দেখতে ঝুঁকি নিয়ে মানুষ হাজির হয় ভূচুকডি গ্রামের কাছে সোনাঝুরির জঙ্গলে। হাতি দেখতে কাজ ছেড়ে একটি সোনাঝুরি গাছে উঠে পড়েন কৃষক ষষ্ঠীচরণ। নজরে আসে হাতির দলে থাকা একটি দাঁতালের। পিছনে ফিরে গিয়ে ওই গাছ নড়িয়ে কৃষককে ফেলে দেয় দাঁতালটি। তারপর হাতিটি শুঁড়ে পেঁচিয়ে আছড়ে মারে ওই কৃষককে। তারপর দলের সঙ্গে মিশে যায় দাঁতালটি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই কৃষকের।

মর্মান্তিক ওই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে এলাকায়।
এদিকে পুরুলিয়া বন বিভাগের ডিএফও রামপ্রসাদ বদানা বলেন, ‘ঘটনা খুবই দুঃখের। ঘটনা খতিয়ে দেখার পর দফতরীয় যা ক্ষতিপূরণ রয়েছে তা মৃতের পরিবার পাবেন। আমরা পুলিশের সাহায্য নিয়ে হাতির দলটির উপর নজর রাখছি। সন্ধ্যে হতেই হাতির দলটিকে ঝাড়খণ্ডের দলমা রেঞ্জের দিকে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযান চলবে। একই সঙ্গে গ্রামবাসীকে সতর্ক থাকতে এবং হাতির দলটিকে কোনও রকম উত্যক্ত না করার জন্য বলা হচ্ছে।’      
  
 

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here