আগ্নেয়াস্ত্র কাণ্ড! প্রিন্সিপালের চক্রান্তের শিকার, দাবি নহাটা কলেজের হিসাবরক্ষকের

সুশান্ত ঘোষ, বনগাঁ, ১০ জুলাই: কলেজের হিসাব রক্ষকের আলমারি থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি রিভালভার ও চার রাউন্ড গুলি। উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর থানার নহাটা যোগেন্দ্র নাথ মন্ডল স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের ঘটনা। অভিযোগ উঠেছে ওই কলেজের হিসাব রক্ষক রণপতি রায়ের বিরুদ্ধে। পালটা অভিযোগ করে রণপতিবাবু বলেন, কলেজের প্রিন্সিপাল নিজের দোষ ঢাকতে আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

গত সাত মাস ধরে ওই কলেজে আমাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এরমধ্যে কলেজের অনেক নথিপত্র চুরি হয়েছে। আর ওই আলমারির চাবিও প্রিন্সিপালারের কাছে আছে।

রণপতিবাবু জানিয়েছেন, গত জানুয়ারি মাসের ১০ তারিখে প্রিন্সিপাল অর্ণব ঘোষের দুর্নীতি ধরে ফেলেন তিনি। তার প্রতিবাদ করায় তাকে জেলে যেতে হয়েছিল। সেই সময় আলমারি সহ ওই রুমের চাবিও থানা থেকে নিয়ে পিন্সিপালের হাতে তুলে দেয়। তার দশ দিন পর ওই অফিস চুরি হয়। সেই সময় আলমারি থেকে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা চুরি যায়। একথাও স্বীকার করেন অর্ণববাবু। তারপর থেকে প্রায় সাত মাস রণপতিবাবুকে কলেজে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তারপরও কি করে ওই পিন্সিপাল রণপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, যে রণপতিই আলমারিতে আগ্নেয়াস্ত্র রেখেছিল?

শনিবার হিসাব রক্ষকের আলমারি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের পরই প্রিন্সিপাল ডক্টর অর্ণব ঘোষ কলেজের একাউন্টেন্ট রনপতি রায়ের বিরুদ্ধে গোপালগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি নিজেই স্বীকার করছেন যখন হিসাবরক্ষকের ঘরে চুরি হয়েছিল রণপতিবাবু জেলে ছিলেন। ওই আলমারির চাবিও তার কাছেই ছিল। তারপর প্রায় সাত মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর হিসাব রক্ষকের আলমারি থেকে উদ্ধার হল আগ্নেয়াস্ত্র।

সত্যিই কি প্রিন্সিপাল চক্রন্ত করছে রণপতির বিরুদ্ধে?

স্থানীয় বিধায়ক স্বপন মজুমদার বলেন, নহাটা কলেজে উন্নয়নের টাকা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে দুর্নীতি করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এর আগেও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। ফের একই ঘটনা, এই অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীরা কলেজে যেতেই আতঙ্কে ভুগছে। হিসাব রক্ষক রণপতি দেব আমার কাছে এসেছিলন, তিনি যে এর সঙ্গে যুক্ত না তার প্রমানও দিয়েছেন। তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। বিধায়ক বলেন, আমি এর তদন্তের দাবি করছি। এর পেছনে যারা আছে তাদের শাস্তির দাবি জানাই। এরকম চলতে থাকলে এক দিন এই কলেজ বন্ধ হয়ে যাবে। যে সাত মাস কলেজে যায়নি তার বিরুদ্ধে কী করে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগ করেন প্রিন্সিপাল? যখন আলমারি থেকে টাকা চুরি যায় তখন কেন তল্লাশি করা হয়নি আলমারি। তাহলে কী তিনি কোনও চক্রান্ত করছেন। ঘটনার সঠিক তদন্ত করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হোক।

রণপতির স্ত্রী অসীমা রায় ও তার দিদি রেখা বৈরাগী বলেন, যে মানুষটা আজ সাত মাস ধরে কলেজে যায় না তার বিরুদ্ধে কি করে পিন্সিপাল অভিযোগ করেন। আমাদের বিশ্বাস প্রিন্সিপালের চক্রান্তে এই সব ঘটছে। প্রিন্সিপালকে ধরলেই আসল রহস্য বেরিয়ে পড়বে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here