মাছ ভর্তি লঞ্চ ডুবে মৎস্যজীবীর মৃত্যু 

জে মাহাতো, আমাদের ভারত, দিঘা, ১৪ অক্টোবর: গভীর সমুদ্র থেকে মাছ বোঝাই একটি লঞ্চ দিঘায় ফেরার সময় ডুবে যাওয়ায় এক মৎস্যজীবীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে দিঘার কোস্টাল থানার পুলিশ মধ্যবয়স্ক ওই মৎসজীবীর দেহ উদ্ধার করেছে। পুলিশ ও মৎস্যজীবীরা জানিয়েছেন গৌরহরি ঋষি নামে ওই মৎস্যজীবীর বাড়ি কালীনগর এলাকার বজবজিয়া গ্রামে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর দিঘা মোহনা থেকে কিছুটা দূরে শঙ্করপুর মৎস্য বন্দরে যাওয়ার সময় সমুদ্র খাড়ির চড়ায় ধাক্কা লেগে লঞ্চটি উল্টে যায়। উল্টে যাওয়ার পরই তা জলের টানে সমুদ্রে তলিয়ে যেতে থাকে। এই সময় লঞ্চে থাকা ৭জন মৎসজীবী সাঁতরে পাড়ে আসতে সক্ষম হলেও নিখোঁজ হয়ে যান গৌরহরি। মনে করা হচ্ছে কোনও ভাবে লঞ্চে আটকে গিয়েছিলেন তিনি। মৃত্যুর পরে ভেসে ওঠে তাঁর দেহ। মৎস্যজীবী তথা মৎস্য ব্যবসায়ীদের নেতা শ্যামসুন্দর দাস জানান, সমুদ্রে মাছ ধরার পর শঙ্করপুর বন্দরে ফিরছিল মা মহামায়া নামে ওই লঞ্চটি। দিঘা মোহনা থেকে অদূরে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এই দুর্ঘটনায় পঞ্চাশ লক্ষ টাকা ক্ষতির পাশাপাশি এক মৎস্যজীবীর মৃত্যু হয়েছে।

এই ধরনের লঞ্চগুলির মূল্য ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা। এর সঙ্গে ভর্তি মাছের মূল্য, ১৫ দিনের সমুদ্র যাত্রার খরচ, মৎসজীবীদের মজুরি ইত্যাদির পুরোটাই লোকসান হয় লঞ্চের মালিকদের। শ্যাম সুন্দরবাবু জানিয়েছেন, ‘খাড়ির নাব্যতা দিন দিন কমছে। প্রায় ১দশক ড্রেজিং হয়নি খাড়িতে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে আমরা দাবি করে আসছি ড্রেজিং করার জন্য কিন্তু সরকার কর্ণপাত করেনি। তারই মূল্য দিলেন লঞ্চের মালিক কালীনগরের বাসিন্দা পৃথ্বীরাজ পয়ড়া। প্রাণের বিনিময়ে মূল্য চোকালেন গৌরহরি ঋষি। বাড়ির কাছে এসেও বাড়ি ফেরা হল না তাঁর। গতবছরও এই খাড়ির চড়াতেই ধাক্কা লেগে আগুন লেগে গিয়েছিল একটি ট্রলারে। সরকারের ঘুম তবুও ভাঙেনি। পাড়ে ফিরে আসা মৎসজীবীরা জানিয়েছেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকায় চড়ার অস্থিত্ব নজরে আসেনি। লঞ্চটি সরাসরি চড়ায় গিয়ে ধাক্কা মারে এবং বালি মিশ্রিত গাঢ় পলি মৃত্তিকায় আটকে ক্রমশ কাত হয়ে উল্টে ডুবে যায়। এরপর সমুদ্রের পৃষ্ট টানে তা ধীরে ধীরে সমুদ্র গর্ভের দিকে চলে যায়।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here