“কিউআর কোড জালিয়াতি করে অবাধে কয়লা পাচার, মুখ্যমন্ত্রী বসে কেন? ছেড়ে চলে যান,” বিস্ফোরক সৌমিত্র খাঁ

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৯ নভেম্বর: “অবৈধ কয়লা এখনও প্রচুর মজুত আছে। কিউআর কোড জালিয়াতি করে পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার পুলিশ সুপাররা দায়িত্ব নিয়ে কয়লা চালাচ্ছে।” মঙ্গলবার দুর্গাপুরে দলীয় কর্মসূচীতে এসে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে  তিনি বলেন, গোটা রাজ্য সরকারটা বসে গেছে। তখন মুখ্যমন্ত্রী বসে কেন? ছেড়ে চলে যান।’ 

উল্লেখ্য, কয়লাকান্ডে তোলপাড় গোটা রাজ্য। কেন্দ্রীয় গয়েন্দা সংস্থা সিবিআই ও রাজ্যের সিআইডি অবৈধ কয়লার চোরাচালানে ধরপাকড় শুরু করেছে। ঘটনায় একাধিক কয়লা মাফিয়া ধরা পড়েছে। ঘটনার তদন্তে জোর তৎপরতা শুরু করেছে রাজ্য কেন্দ্র উভয় গয়েন্দা বিভাগ। এমনকি খনি সংস্থা ইসিএলের বেশ কয়েকজন আধিকারিকও গ্রেফতার হয়েছে। কয়লা পাচার কাণ্ডে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ তদন্তকারী সংস্থার। একইসঙ্গে তদন্তকারীদের র‍্যাডারে রয়েছে বেশ কয়েকটি ছোট শিল্প সংস্থা। তারপরও আসানসোল-দুর্গাপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া দিয়ে ঝাড়খন্ডে অবৈধ কয়লা পাচার চলছে। তবে এই কয়লা পাচারে সাধারণ মানুষের চোখে ভুল বুঝিয়ে চালানের কিউআর কোড জালিয়াতি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুললেন খোদ বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। মঙ্গলবার দুর্গাপুরের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে বিজেপির সমন্বয় বৈঠক ছিল। সেখানে সাংসদ লকেট চট্টোপাধযায় ও সৌমিত্র খাঁ উপস্থিত ছিলেন। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনার পাশাপাশি বিস্ফোরক অভিযোগ করেন সৌমিত্র খাঁ। তিনি বলেন, “রাজ্যে বালি কয়লার সিন্ডিকেট ভাইপোর পরিচালিত। গতকাল নবান্নে বালির টেন্ডার হওয়ার সময় ভাইপো গিয়েছিল কন্ট্রোলিং করতে।” তিনি আরও বলেন, “চোরের নতুন নাম ‘কিউআর কোড’ ঝাড়খন্ডে প্রচুর অবৈধ কয়লা মজুত রয়েছে। সেগুলো পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার এসপি দায়িত্ব নিয়ে চালাচ্ছে। চালানের কিউআর কোড জাল করে ওইসব কয়লা পাচার করা হচ্ছে। আমরা সিবিআইকে জানাবো। শুধু নেতা মন্ত্রী কেন? গরু, কয়লা, বালি পাচারে আইএএস, আইপিএসদেরও ধরা হোক।” তিনি আরও বলেন, “২০১১ সালের আগে তৃণমূলের কোনো বিধায়ক, সাংসদ নেতার ঘরের ছেলে মেয়েরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সুযোগ পেত না। এখন তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীর ঘরের ছেলে মেয়েরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার পড়ে চাকরি পাচ্ছে। এটাই তৃণমূলের সিস্টেম, এটাই তাদের কালচার।”

উল্লেখ্য, মিনাখাঁর ঘটনায় হাইকোট নির্দেশ দিয়েছেন, এনআইএ তদন্ত কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নেবে। সেই বোমাকান্ড প্রসঙ্গে সৌমিত্র খাঁ বলেন, “রাজ্যের গোটা মন্ত্রীসভা বোমা তৈরীর অর্ডার দিচ্ছে। গোটা মন্ত্রীসভাকে বাতিল করা উচিত।” প্রসঙ্গত, গতকাল মুখ্যমন্ত্রী হিঙ্গলগঞ্জে প্রশাসনিক বৈঠকে বিডিও, আইসিদের উদ্দেশ্যে বলেন, পুলিশ দোষ করলে আমাদের বদনাম হয়। তার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সৌমিত্র খাঁ বলেন, “গোটা রাজ্য সরকারটা বসে গেছে। তখন মুখ্যমন্ত্রী বসে কেন? ছেড়ে চলে যান।”

 

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here