জামাইষষ্ঠী করতে শ্বশুরবাড়ী যাব : আলুওয়ালিয়া

জামাইষষ্ঠী করতে শ্বশুরবাড়ী যাব : আলুওয়ালিয়া

আমাদের ভারত, দুর্গাপুর, ২৫ মে: ” বর্ধমান-দুর্গাপুরের মানুষ দুহাত তুলে আশীর্বাদ করেছে। ধন্যবাদ, তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। নির্বাচনের কারনে এতোদিন জেলায় থেকেও যেতে পারিনি। এবার জামাই ষষ্ঠী করতে শ্বশুর বাড়ি যাবো।” বৃহঃস্পতিবার রাত্রে বিজয়ী শংসাপত্র হাতে পেয়ে আবেগ বিহ্বল বিজেপি প্রার্থী সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া এমনটাই জানালেন।

 উল্লেখ্য, সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনে বিজেপি প্রার্থী সুরিন্দর সিং আলুওলিয়া। তিনি মুলত আসানসোলের জেকে নগরের বাসিন্দা। পড়াশোনা আসানসোলে। এছাড়া পরে বর্ধমান বিশ্বাবিদ্যালয় ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যলয়ে পড়াশোনা করেন। পেশায় আইনজীবী। দুর্গাপুর গোপাল মাঠে বাঙ্গালী বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারে বিয়ে করেন। স্ত্রী মনিকা আলুওলিয়া।

রাজনৈতিক জীবন শুরু কংগ্রেস থেকে। ১৯৮৬ সালে প্রথম রাজ্যসভার সাংসদ হন বিহারের। পরে লোকসভার সাংসদ। পরবর্তীকালে বিজেপিতে যোগ দেন। গত ২০১৪ সালে দার্জিলিং থেকে প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। কিন্তু তাঁর দুই শ্যালক তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা। একজন তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় বিধায়ক তথা এডিডিএর চেয়ারম্যান। অন্যজন অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্গাপুর পুরসভার মেয়র পারিষদ। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর শ্বশুরবাড়ি গোপালমাঠ এলাকায় প্রচারে গেছেন। এমনকি শ্বশুরবাড়ীর সামনে দিয়ে গেছেন। সেখানে গাড়ি দাঁড়ালেও শ্বশুরবাড়িতে ঢোকেননি। ওইদিন আলুওয়ালিয়া বলেছিলেন,’নির্বাচন তাই যাবো না। ভোটে জেতার পর শ্বশুরবাড়ি জামাইষষ্ঠীতে যাবো।’

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জিতেছেন। বৃহঃস্পতিবার বিজয়ী শংসাপত্র নিয়ে বেরিয়ে আসার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। ভোটের লাড়াই ও এলাকায় ঘুরে গরিব মানুষের অবস্থার কথা বলতে গিয়ে কর্যত আবেগ বিহ্বল হয়ে পড়েন। চাপা দুঃখে চোখ ছল ছল করে ওঠে। মনের ভেতর থেকে একসময় চাপা কান্না ফুঁপিয়ে বেরিয়ে পড়ে। তার মধ্যেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন,” বর্ধমান-দুর্গাপুরের মানুষ দু-হাত তুলে আশীর্বাদ করেছে। ধন্যবাদ, তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। তাদের সুখ দুঃখে পাশে থাকব।” আবার প্রশ্ন, আপনি কি জামাই ষষ্ঠীতে শ্বশুরবাড় যাচ্ছেন? তখন সপাটে তাঁর উত্তর,” হ্যাঁ, রাজনৈতিক লড়াই শেষ। জয়ী হয়েছি। এবার জামাই ষষ্ঠীতে শ্বশুরবাড়ী যাবো।” তারপরই অনুগামীদের উচ্ছাসে মেতে ওঠেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × three =