বামেদের ইনসাফ সভায় ভালো সাড়া, ম্যাটাডোরে অস্থায়ী মঞ্চের মিটিং এ ধর্মতলা অচল হলেও ব্যাপক সংযমী মমতার পুলিশ

আমাদের ভারত, ২০ সেপ্টেম্বর: ডিওয়াইএফআই নেত্রী
মীনাক্ষী মুখার্জি আগেই হুংকার দিয়ে বলেছিলেন পুলিশ অনুমতি দিক আর না দিক সভা ওখানেই হবে। আর তার কথামতো হলও তাই। তবে এইসব সভা কোনো মঞ্চে হল না। সভামঞ্চে আসলে ছিল একটা ম্যাটাডোর। আর অভূতপূর্ব ভাবে ধর্মতলা অচল করে বামেদের এই সভায় অসম্ভব সংযমী দেখালো পুলিশকে।

হাওড়া থেকে কয়েক হাজার মানুষের মিছিল ঢুকলেই পাল্টে যাবে সভাস্থল। আগে থেকেই সেটা ঠিক ছিল। সেই কারণেই ভিক্টোরিয়া হাউসের অদূরে তৈরি হয়েছিল তক্তপোষ বাধা একটি ম্যাটাডোর। ঠিক দুপুর দেড়টা নাগাদ ওয়াই চ্যানেলের সভা মঞ্চ থেকে মীনাক্ষী ঘোষণা করলেন সভা হবে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই। মীনাক্ষীর ঘোষণাতেই হাততালিতে ফেটে পড়ে ধর্মতলা চত্বর। ম্যাটাডোর হয়ে ওঠে অস্থায়ী সভামঞ্চ।

ধর্মতলা মঙ্গলবার সকাল থেকেই মোড়া ছিল সাদা পতাকায়। ইনসাফ সভার প্ল্যাকার্ড ছিল চারিদিকে। মীনাক্ষীরা ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভার অনুমতি চেয়েছিলেন। লালবাজারে দফায় দফায় আলোচনা করেছিলেন তারা কিন্তু পুলিশ কোনোভাবেই তাদের অনুমতি দেয়নি। তাই ধর্মতলায় ওয়াই চ্যানেলে মঞ্চ বাঁধেন তারা। কিন্তু সেখানে যে সবাইকে জায়গা দেওয়া যাবে না তা আগেই জানতেন বাম যুবনেত্রী। সেই কারণেই শিয়ালদাতে তৈরি করা হয়েছিল ওই ম্যাটাডোর। যা সময়মতো উঁচু মঞ্চের চেহারা নিয়েছে।

এককথায় বিপুল অংশের ছাত্র-যুবদের সমাগম হয়েছিল আজ ধর্মতলায়। বামেদের কাছেও এই ভিড় কিছুটা অপ্রত্যাশিত ছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। বৃষ্টি মাথায় হাজার হাজার বাম সমর্থক ভিড় জমিয়েছিল মিছিলে। শুধু ছাত্র-যুবরাই নয়, বহু প্রবীণ কর্মী-সমর্থকও আজ সভায় হাজির হয়েছিলেন। আজকের সভায় উপস্থিত ছিলেন আনিসের বাবাও।

আজ ধর্মতলার এই সভা ঘিরে গোলমালের আশঙ্কায় প্রচুর পুলিশ মোতায়েন ছিল ধর্মতলা চত্বরে। লাল মিছিলের ভিড়ে অবরুদ্ধ হয়েছিল ধর্মতলা। ব্যাপক যানজট শুরু হয়। পুলিশ ময়দানের দিক থেকে আসা গাড়ি রানী রাসমণি এভিনিউয়ের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। অদ্ভূত ভাবে আজ নবান্ন অভিযানের মতো পুলিশকে অতি সক্রিয় হতে দেখা যায়নি। বলা যায় অতি সংযমী ছিল পুলিশ। মেট্রো শপিং মলের সামনে বহু ছাত্র যুব রাস্তায় বসেছিলেন, কিন্তু পুলিশ তাদের কোনো বাধা দেয়নি। দীর্ঘক্ষণ রাস্তা আটকে যাওয়ার পরেও পুলিশ যথেষ্ট সংযমী ছিল। যে কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কড়া নজরদারি ছিল পুলিশের। বলা যেতে পারে এককথায় বামেরা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সভা চালাতে পারে সে দিকেই নজর ছিল পুলিশের। বাম কর্মীরাও অনেকেই অবাক হয়েছেন পুলিশের এদিনের ভূমিকায়।

এদিনের সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। নিজের স্বভাব সিদ্ধ ভঙ্গিতেই তৃণমূল ও বিজেপিকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। মমতা ব্যানার্জিকে বিজেপির এজেন্ট বলে আক্রমণ করেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার তাস খেলার অভিযোগে সরব হন সিপিএম নেতা। মহম্মদ সেলিম ছাড়াও মীনাক্ষী, ধ্রুবজ্যোতি, ময়ূখ, সুজন ভট্টাচার্য, প্রতিকূর রহমান, আনিস খানের বাবা সেলিম খান বক্তব্য রাখেন এই সভায়। সব মিলিয়ে এই বিপুল জামায়াতের পর বামেরা এদিনের সভাকে সফল বলেই দাবি করেছেন।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here