রাজভবনে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনে সগৌরবে রাম মন্দিরের ভূমি পুজোর উদযাপন রাজ্যপালের

রাজেন রায়, কলকাতা, ৫ আগস্ট: বহু বাধা বিপত্তি পেরিয়ে অবশেষে রাম জন্মভূমি অযোধ্যায় অনুষ্ঠিত হল রামমন্দির নির্মাণের শিলান্যাস ও ভূমিপুজো। আর সেই খুশির মুহূর্ত রাজভবনে উদযাপন করলেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। বুধবার সন্ধ্যে সাড়ে ৬টায় রাজভবনে ঘি’য়ের প্রদীপ জ্বালালেন তিনি। এই পরিকল্পনার কথা বুধবার সকালে নিজেই টুইট করে জানিয়েছিলেন রাজ্যপাল।

রাজ্যপালের দাবি, এই দিনটি প্রত্যেক ভারতবাসীর কাছে গৌরবের। পৃথক একটি টুইটে সংবিধানের মধ্যে থাকা রাম-সীতার ছবিও শেয়ার করেছেন রাজ্যপাল। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, ভারতীয় সংস্কৃতির একেবারে মূলে রয়েছেন শ্রীরামচন্দ্র।

হিন্দু সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত এই ট্যুইট নিয়ে আপত্তি না থাকলেও কোনও রাজ্যপাল এরকম আচরণ করতে পারেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যের শাসক দল। কারণ যে কোনও সংস্কৃতির বিষয়ে নিরপেক্ষ থাকার কথা রাজ্যপালের। ব্যক্তিগত আনন্দ পালন তিনি করতেই পারেন, কিন্তু ঘটা করে সেটা জানানোর বিষয় পছন্দ করছেন না অনেকেই।

বুধবার সকালেই রামমন্দির ইস্যুতেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে খোঁচা দিয়েছেন রাজ্যপাল। ফের একবার মমতার বিরুদ্ধে ধর্মীয় তোষণের অভিযোগ তুললেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান। টুইটে রাজ্যপাল লেখেন, “আজকের এই দিনটির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। বিচার ব্যবস্থাকে এমন ঐতিহাসিক রায়ের জন্য ধন্যবাদ।” তারপরে মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে তাঁর ট্যুইট, “তোষণের পাকে-চক্করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রামমন্দির নিয়ে নীরব হয়ে রয়েছেন।রাজ্যবাসীকে নিজের অবস্থান জানান।” সেখানে রাজ্যপাল নিজেই কিভাবে পক্ষপাতিত্বের আচরণ করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজ্য শাসক দল।

তবে হিন্দু আবেগকে হাতিয়ার করে কোন আক্রমণ আসতে পারে তা আন্দাজ করে এদিন সকালেই সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে টুইট করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টুইটে তিনি লিখেছেন, “হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান/একে অপরের ভাই-ভাই! আমার ভারত মহান,/মহান আমার হিন্দুস্তান! আমাদের দেশ তার চিরায়ত বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের ঐতিহ্যকে বহন করে চলেছে, এবং আমাদের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধভাবে এই ঐতিহ্যকে সংরক্ষিত রাখবো।’ তবে টুইটে কোথাও সরাসরি রাম মন্দির বা ভূমিপুজোর কথা লেখেননি মুখ্যমন্ত্রী। তবে মুখ্যমন্ত্রী এদিন সকালে প্রথমেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দেওয়ায় বিরোধীদলের আক্রমণের নিশানা অনেকটাই ভোঁতা করে দিতে পেরেছেন বলে দাবি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here