রাজ্যপাল এসে শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করলেন বাবুলকে

রাজ্যপাল এসে শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করলেন বাবুলকে

শ্রীরূপা চক্রবর্তী,আমাদের ভারত,১৯ সেপ্টেম্বর:দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর রাজ্যপাল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ধার করে নিয়ে গেলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে। তাকে নিয়ে রাজ্যপাল সরাসরি রাজভবনে যান। আর এতকিছুর পর সেখানে নামে র‍্যাফ। একদিকে নকশাল ছাত্রদের হাতে চুড়ান্ত হেনস্থার শিকার হন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। নিগৃহীত হন উপাচার্য। অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। অন্যদিকে এবিভিপিও বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ব্যপক ভাঙচুর চালায় আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ দেখায়।

বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এন আর সি নিয়ে এবিভিপি একটি সেমিনারের আয়োজন করেছিল। সেখানেই যোগ দিতে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশ করতেই তাকে কালো পতাকা দেখানো হয়, দেওয়া হয় গো-ব্যাক স্লোগান। তারপরই শুরু হয় ধস্তাধস্তি। চরম বিক্ষোভের মুখে গায়ে হাত পড়ে বাবুল সুপ্রিয়র। তার জামার কলার ছিঁড়ে যায়,পড়েও যান বাবুল। এমনকি তার সঙ্গে সেখানে আসা বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পালকেও হেনস্থা করা হয়। তিনি বলেন তার শাড়ি টেনে খোলার চেষ্টা করেছে বিক্ষোভরত ছাত্ররা।

খবর পেয়ে ছুটে আসেন উপাচার্য সুরঞ্জন দাস। তিনি বাবুলকে তার ঘরে যাওয়ার কথা বললে বাবুল বলেন, যে কাজে তিনি এসেছেন, সেখানে যাবেন। এরপর উপাচার্যের মধ্যস্থতায় বাবুল অডিটোরিয়ামে যান। কিন্তু বাইরে বিক্ষোভ চলতে থাকে। বাবুল উপাচার্যকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বললেও তিনি কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজ্যপালকে জানান।

রাজ্যপাল উপাচার্যকে পুলিশ ডাকার কথা বললেও উপাচার্য জানান “আমি পদত্যাগ করব পুলিশ ডাকবো না।” এরমধ্যেই বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন উপাচার্য। তাকে ঢাকুরিয়ার আমরিতে ভর্তি করা হয়। যদিও বিক্ষোভকারি ছাত্রদের দাবি বাবুল সুপ্রিয় তাদের প্ররোচনা দিয়েছেন।

এরপর রাজ্যপাল নিজে আসরে নামেন। রাজভবন থেকে বিবৃতি জারি করে বলা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে বেআইনি ভাবে আটকানো হয়েছে। এই ঘটনায় প্রমাণ হচ্ছে রাজ্যের আইন রক্ষাকারী সংস্থা কেমন ভাবে কাজ করছে। ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে।

এরপর রাজ্যপাল নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ে চত্বরে পৌঁছন। কোনক্রমে তিনি দুবারের চেষ্টায় বাবুল সুপ্রিয়কে নিজের গাড়িতে তোলেন। কিন্তু এরপরেও বিক্ষোভরত ছাত্ররা রাজ্যপালের গাড়ি আটকে রাখে। তারপর শুরু হয় পুলিশের মধ্যস্থতায় দফায় দফায় আলোচনা। কিন্তু এরমধ্যেই নাটকীয় কায়দায় রাজ্যপালের কনভয়ের বের করে দেয় পুলিশ। বিক্ষোভকারীরা ছিল গাড়ির সামনে। পিছনে দিকের প্রায় পুরোটাই ছিল পুলিশের দখলে। ছাত্ররা কিছু বুঝে ওঠার আগেই। চকিতে গাড়ি ঘুরিয়ে তিন নম্বর গেট দিয়ে বেরিয়ে যায়। বাবুলকে নিয়ে রাজভবনে ফিরে যান রাজ্যপাল।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ব্যপক ভাঙচুর চালায় এবিভিপির সমর্থকরা। কার্যত ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হয় ছাত্র সংসদ। ছাত্র সংসদের দেওয়ালে লিখে দেওয়া হয় এবিভিপি। ভাঙচুর করা হয় শৌচাগার। লাগানো হয় আগুন। ঘটনাস্থলে দমকলের গাড়ি এলে আগুন নেভাতে বাধা দেয় এবিভিপির সমর্থকরা ও দুর্গা বাহিনী। তারা দমকলের গাড়ির উপর চড়ে বিক্ষোভ দেখান। এমনকি এক ছাত্রকে মারধর করার অভিযোগও ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। বিক্ষোভের আগুন ছড়ায় রাস্তা পর্যন্ত। অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন অ্যাম্বুলেন্স। ভীত সন্ত্রস্ত পথ চলতি সাধারণ মানুষ কোনো ক্রমে সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজতে থাকেন। এরপর নামে র‍্যাফ। দুপুর থেকে শুরু হওয়া ঘটনার পাঁচ ঘণ্টা পর আসে পুলিশ। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এই সম্পূর্ণ ঘটনায় সারা দেশ জুড়ে উঠেছে সমালোচনার ঝড়। নজিরবিহীন ভাবে একজন রাজ্যপালকে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য আজ পথে নামতে দেখল দেশের মানুষ। কাঠগড়ায় রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা। রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ রাজ্যপাল। কেন একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে এইভাবে হেনস্থার শিকার হতে হল। কেন কোন খাঁকি বা সাদা উর্দিধারীকে সময়মত বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে দেখা গেল না তাই নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 + 4 =

amaderbharat.com

Welcome To Amaderbharat.com, Get Latest Updated News. Please click I accept.