পুলিশের তাড়ায় পালালো হলদিয়ার করোনা তাড়ুয়া মাদুলি বাবা

জে মাহাতো, আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ১৭ জানুয়ারি: মাত্র পনের হাজার টাকা দিয়ে মাদুলি কিনলেই ভ্যানিস হয়ে যাবে করোনা ভাইরাস। সঙ্গে কিছু উপাচার পালন করলে আর কাছে ঘেঁষতে পারবে না করোনার জীবাণু। এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি নিয়ে রীতিমতো ব্যবসা ফেঁদে বসেছিল পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া শিল্পাঞ্চলের পার্শ্ববর্তী সুতাহাটার রামচন্দ্রপুরের বাসিন্দা সৈয়দ আব্দুল কাদের (৭৭)। মাদুলিবাবা পরিচয়ে যিনি রীতিমতো দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন কলকাতা সহ শহরতলী ও গ্রাম এলাকায়।

একান্ত সাক্ষাৎকারে মাদুলিবাবা দাবি করেন, “আমি হলফ করে বলতে পারি করোনা কোনও ভাইরাস ঘটিত রোগ নয়, এটা আল্লাহর গজব। আমার মাদুলিতেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি সম্ভব। ইতিমধ্যেই কলকাতা, বাটানগর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের বহু মানুষ এই মাদুলি নিয়েছেন। তাঁরা সকলেই সুস্থ আছেন”। মাদুলিবাবার প্রশ্ন, “ছোট্ট ছেলে থেকে পরিবারের সদস্যর জীবন আগে নাকি ১৫ হাজার টাকার মূল্য বেশী। আমি হলফ করে বলছি, এই মাদুলি নেওয়ার পর জলপড়া, তেলপড়া এবং করোনা বিতাড়নের কিছু মন্ত্র লেখা কাগজ দেওয়ালে ঝুলিয়ে রাখলেই করোনা ভ্যানিশ হয়ে যাবে”।

ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয়েছে জেলার চিকিৎসক মহল সহ বিজ্ঞান মঞ্চ। পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কমিটির সহ সভাপতি ডাঃ সুব্রত কুমার মাইতি জানান, করোনা একটি জীবানুবাহিত রোগ। মাস্ক পরা, একটানা চিকিৎসা, ভ্যাকসিন নেওয়ার মতো গাইডলাইন মেনে চললেই এই রোগ নিরাময় সম্ভব। মাদুলি বা তুকতাক দিয়ে এই মারণ রোগের বিরুদ্ধে লড়াই অসম্ভব। মানুষের অন্ধবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি এ ধরনের কারবার চালাচ্ছে। প্রশাসনের উচিত এখনই এই কারবার বন্ধ করা। অন্যথায় বহু মানুষ এই প্রতারণার শিকার হবেন।

মাদুলি বাবার এহেন কারবারের খবর ছড়িয়ে পড়তে খুব বেশী সময় লাগেনি। ঘটনাটি প্রশাসনের নজরে আসতেই মাদুলি বাবা আব্দুল কাদেরের সন্ধানে ময়দানে নামে সুতাহাটা থানার পুলিশ। পুলিশি তৎপরতার খবর পেতেই  সোমবার সকাল থেকে বাড়িতে কিংবা এলাকায় আর দেখা মেলেনি তথাকথিত মাদুলি বাবার। তাঁর পরিবারের দাবি, উনি বিশেষ কাজে বাইরে গিয়েছেন, কোথায় গেছেন বলতে পারবো না।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here