লকডাউনে চরম সঙ্কটে হাতপাখা শিল্পীরা

আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ২৬ মে: লকডাউনের জেরে চরম সঙ্কটের মুখে উত্তর দিনাজপুর জেলার হাতপাখা শিল্পীরা। গরম পড়তে না পড়তেই প্রতি বছর তালপাতা দিয়ে তৈরি হাতপাখার ব্যাপক চাহিদা থাকলেও এবছর করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশজুড়ে চলা লকডাউনে মুখ থুবড়ে পড়েছে হাতপাখা শিল্প।

সামনেই জামাইষষ্ঠী, আর জামাইষষ্ঠীতে পুজোয় ডালাতে হাতপাখা রাখা অতি আবশ্যিক। কিন্তু করোনার কারণে সবরকম ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে হাতপাখা বিক্রি। ফলে তালপাতা দিয়ে হাতপাখা তৈরির শিল্পীরা তাদের তৈরি পাখা বিক্রি করতে না পারায় চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন। একপ্রকার অনাহার অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন উত্তর দিনাজপুর জেলার কয়েকশো হাতপাখা শিল্পীরা। হাতপাখা শিল্পীদের পাশাপাশি করোনার কারণে এবার জামাইষষ্ঠীতে দশকর্মা ভান্ডারগুলিতেও বিক্রি হচ্ছে না হাত পাখা। ফলে মার খাচ্ছেন জেলার দশকর্মা ব্যাবসায়ীরাও।

প্রতি বছর গরম পড়লেই গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষের হাতে ওঠে তালপাতার তৈরি হাতপাখা। পাশাপাশি আর কদিন বাদেই রয়েছে জামাইষষ্ঠী। এই জামাইষষ্ঠী উৎসবে তালপাতার হাতপাখা অন্যতম উপকরণ। হাতপাখায় হলুদ সুতো আর দূর্বা দিয়ে শ্বাশুড়ি মাতারা জামাইদের বরণ করে আশীর্বাদ করে থাকেন। কিন্তু এবছর ভয়াবহ করোনা ভাইরাসের আবহে সবরকম ধর্মীয় উৎসব দূরে সরিয়ে রেখেছেন মানুষ। ফলে জামাইষষ্ঠীর মতো বাঙালীর অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পালন হচ্ছে না বললেই চলে। জামাইষষ্ঠীতে অন্যতম উপকরণ হাতপাখা ব্রাত্যই থেকে গিয়েছে। এরফলে চরম সমস্যায় পড়েছেন উত্তর দিনাজপুর জেলার হাতপাখা শিল্পীরা।

একেই লকডাউন চলায় হাট বাজার সহ সমস্ত দোকানপাট বন্ধ। ফলে বাড়িতে বসে জেলার শয়ে শয়ে শিল্পীরা যারা তালপাতা দিয়ে হাতপাখা তৈরি করেছেন তাদের তৈরি পাখা অবিক্রিতই থেকে গিয়েছে। এই ভরা মরশুমে হাতপাখা বিক্রি না হওয়ায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে তাদের পৈতৃক কুটির শিল্প ও রোজগারের পথ।
লকডাউনের কারণে হাতপাখা শিল্পীদের পাশাপাশি বন্ধ হয়ে গিয়েছে পাখা ব্যাবসায়ীদের ব্যাবসাও। ফলে চরম সঙ্কটের মুখে হাতপাখা শিল্পের সাথে যুক্ত হাজার হাজার মানুষ।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here