সদ্য বিবাহিত যুবতীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য রাণাঘাটে

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ৭ মে: সদ্য বিবাহিতা যুবতীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল নদিয়ার রানাঘাটে। রানাঘাট থানার আইশতলা এলাকার বাসিন্দা রিয়া ভৌমিক (১৮) গত ৬ মাস আগে প্রতিবেশী যুবক সুদীপ্ত মিত্রের সাথে বাড়ির অমতে প্রেম করে বিবাহ করে। অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই অশান্তি লেগে থাকত ওই দম্পতির মধ্যে। বুধবার ভোর রাতে মৃতের বাপের বাড়ির লোকজন খবর পায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে ওই যুবতী।

পরিবারের অভিযোগ, আত্মহত্যা নয়, রিয়াকে খুন করে ঝুলিয়ে দিয়েছে তার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন। অন্যদিকে ঘটনার পর থেকেই পলাতক স্বামী সুদীপ্ত। তার সন্ধান শুরু করেছে পুলিশ।

জানা যায়, গত দুর্গাপুজোর অষ্টমীর দিন রিয়ার বিয়ে হয় প্রতিবেশী যুবক সুদীপ্তর সাথে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে শ্বশুরবাড়ির লোক তার জীবন দুর্বিষহ করে তোলে। এমনকি‌ তার বাপের বাড়ি থেকে পণের টাকা না দেওয়ার কারণে তাকে তার বাপের বাড়িতে যেতে দেওয়া হয়নি। যদিও মেয়ের শ্বশুরবাড়ির অভিযোগ, যে মদ খাওয়া নিয়েই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে গন্ডগোল হয়। মদ খেলে গলায় দড়ি দেবো বলে রিয়া নাকি সেদিন সুদীপ্তকে বলেছিল। সুদীপ্ত সেই কথায় কোনও আমল না দিয়ে মদ খায়। আর তখনই রিয়া ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় দড়ি দেয়।

রিয়ার বাবার অভিযোগ, রাত সাড়ে এগারোটার সময় আমাকে আমার ভাইপো এসে ডাকে। তার মুখ থেকেই আমি জানতে পারি আমাদের মেয়ে রিয়া আর নেই। রিয়া মারা গেছে। এই খবর পেয়ে আমরা আমার সবাই মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে যাই। গিয়ে দেখি মেয়ে ঝুলে রয়েছে। আমাদের কাউকে পুলিশ সামনে যেতে দিচ্ছে না। বলছে এখানে ভিড় করা চলবে না। আমার মনে হয় ওরা ওকে মেরে ঝুলিয়ে দিয়েছে। আমরা তো খুব গরিব আমরা ওদের চাহিদা মতন পণের টাকা দিতে পারিনি। তাই আমার মেয়ে এই শাস্তি পেল। অনেক লস করেছে ওদের ছেলে। ছেলের বাবা আমাকে বলেছিল। বিয়ের পর থেকে একদিনও আমার বাড়িতে আসতে দেয়নি মেয়েকে। ছেলের হাত ধরেও অনেক কাকুতি মিনতি করেছি যে একবার আমার মেয়েকে নিয়ে এসো কিন্তু জামাই সময় হলে আসবো বলে চলে গেছে। থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। থানা থেকে আশ্বাস দিয়েছে যে অভিযুক্তদের খুব শীঘ্রই গ্রেফতার হবে।

মেয়ের পিসতুতো দাদা রঞ্জিত দে জানান, রাত ১১.১৫ সময় তৃণমূলের এক প্রাক্তন সদস্য তাকে ফোন করে জানায় যে তোর বোন গলায় দড়ি দিয়েছে। আমরা দৌড়ে গেলাম। গিয়ে দেখলাম আমার বোন ঝুলে রয়েছে আর ওরা বাড়িতে সবাই বসে রয়েছে। ছেলের বাড়ির লোকেরা বলছে যে মদ খাওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীতে গন্ডগোল হয়। মদ খেলে গলায় দড়ি দেবো বলে বোনের সঙ্গে সুদীপ্তর গন্ডগোল হয়। এরপর সুদীপ্ত জোর করে মদ খেলে রিয়া রাত সাড়ে আটটার সময় ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। যদি এই ঘটনা ঘটেও থাকে তাহলে ওরা সেই সময় আমাদের জানালো না কেন? কেন নিজেরা ব্যবস্থা নিল না? আমার বোন আত্মহত্যা করেনি ওরাই আমার বোনকে মেরে ফেলেছে। বিয়ের পর থেকেই ওরা আমার বোনের উপর টাকার দাবিতে অত্যাচার করত। এমনকি আমাদের বাড়িতে আসতে বললে ওরা বলতো যে আমরা তোমার বোনকে বাড়িতে নিয়ে এসে অনেক লস করে ফেললাম। আমরা চাই দোষী ব্যক্তিদের যেন সাজা হয়।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here