ঢাকায় হিন্দু অধ্যাপিকা গ্রেফতার, প্রশ্ন বিভিন্ন মহলে

বিশেষ প্রতিনিধি, আমাদের ভারত, ২০ অক্টোবর: সাম্প্রতিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো ভিডিয়ো পোস্ট করার অভিযোগে এবার গ্রেফতার করা হল এক কলেজ অধ্যাপিকাকে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

বুধবার ঢাকার বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপিকা রুমা সরকারকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন। তাঁর এই পোস্ট উসকানিমূলক বলে অভিযোগ উঠেছে। ফেসবুকে এই খবর আসার পর প্রতিক্রিয়ায় তুষার সেন লিখেছেন, “যে শিক্ষিকা ফেসবুকে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়েছে সে দোষী ঠিক তেমনি যারা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা মন্ডপ ও প্রতিমা ভাঙ্গচুর করেছে বাড়ি ঘরে লুটপাট করে অগ্নিসংযোগ করেছে তারাও দোষী। পার্থক্য হচ্ছে রুমা সরকার’রা গ্রেপ্তার হয় কিন্তু একই অপরাধ করে অনেকেই গ্রেপ্তার হয় না!“

চপল কর্মকার লিখেছেন, “আজকে ‘প্রথম আলো’ ও বিবিসিব প্রতিবেদনে নোয়াখালির চোমুহুনিতে পুলিশ প্রশাসন যে কোনও কাজ করেনি তা পরিস্কার ভাবে এসেছে। বাংলাদেশে এর আগে অনেক ঘটনা ঘটেছে কিন্তু কখনো কোনও মন্দিরের পুরহিতদের প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে পিটিয়ে হত্যা করতে দেখা যায়নি, অথচ নোয়াখালির পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এখন পর্যন্ত। আর যারা প্রতিবাদ করে শেয়ার দিচ্ছে তাদেরকে আটক করা হচ্ছে। শেয়ার দেওয়া যদি অপরাধ হয়ে থাকে তাহলে যারা প্রথমে কোরান অবমামনার বিষয়টি শেয়ার দিয়ে সারা বাংলাদেশে এই অরাজকতার পরিস্থিতি তৈরি করেছে তাদের প্রথমে আটক করা উচিত ছিল।“

প্রীতিময় দাস লিখেছেন, “প্রতিবাদ করলে গ্রেফতার। ভাঙ্গলে পুরস্কার। বাহ বাংলাদেশ বাহ।“ আমিনুল ইসলাম লিখেছেন, “কবি নজরুল কলেজে থাকা অবস্থায় ম্যাম’কে চিনি। পড়ায় ভালোই, সাংস্কৃতিক চর্চা ও করে।“ কৌশিক সরকার লিখেছেন, “হিন্দু অধ্যাপিকাকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। দাঙ্গা হামলাকারীদের না ধরে প্রতিবাদকারীদের ধরা হচ্ছে। এ কেমন দেশ! যেখানে প্রতিবাদ করা যাবে না?“

জানা গিয়েছে, এদিন সকালে ঢাকার বেইলি রোডে নিজের বাড়ি থেকেই আটক করা হয় রুমা সরকারকে। সংবাদমাধ্যমে এই গ্রেফতারির কথা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন। তিনি জানান, রাজধানী পল্লবীর সাহিনুদ্দিন হত্যাকাণ্ডের ভিডিয়ো নোয়াখালির ঘটনা হিসেবে দেখিয়ে পোস্ট করেছিলেন রুমা সরকার। এর জন্যই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‍্যাব সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমানিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে র‍্যাবের তরফে।

অন্যদিকে, সাম্প্রদায়িক নয়, বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর আক্রমণ আসলে একটি বড় ষড়যন্ত্র। মঙ্গলবার একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমকে ফোনে এমনটাই জানিয়েছেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেন, ‘এটি আদতে একটি ষড়যন্ত্র। কোনও সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা নয়। দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যই এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।’ পাশাপাশি আসাদুজ্জামানের সাফ মন্তব্য, এটি বাংলাদেশের অভ্যান্তরীণ বিষয়।’ তিনি জানান, তদন্ত চলছে এবং দ্রুত এই ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস হবে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here