বাংলাদেশে হিন্দুরা অত্যাচারিত, সংখ্যা কমছে, ট্রাম্পকে জানিয়ে বিপদে প্রিয়া

বাংলাদেশে হিন্দুরা অত্যাচারিত, সংখ্যা কমছে, ট্রাম্পকে জানিয়ে বিপদে প্রিয়া

চিন্ময় ভট্টাচার্য

আমাদের ভারত, ২৪ জুলাই: বাংলাদেশে হিন্দুরা অত্যাচারিত। তাদের সংখ্যা দিনকে দিন কমছে। বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধি হিসেবে ওয়াশিংটনে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্পকে তিনি একথা খোলাখুলি জানিয়ে এসেছেন। আর তার জেরে এখন বিপদে বাংলাদেশের বাসিন্দা প্রিয়া সাহা। তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আওতায় এনে বিচারের দাবিতে আজ বাংলাদেশের চট্টগ্রামে সমাবেশ এবং মিছিল করেছে মৌলবাদী সংগঠন ‘হেপাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’। শুধু তাই নয়, চাপের মুখে জরুরি বৈঠক করে প্রিয়া সাহাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করতে বাধ্য হয়েছে বাংলাদেশের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

প্রিয়া সাহা ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর এক বৈঠকে যোগ দিতে ওয়াশিংটনে গিয়েছিলেন। সেখানে ১৭ জুলাই তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলেছিলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা অত্যাচারিত হচ্ছেন। মৌলবাদী মুসলিম সংগঠনগুলো বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের জমি দখল করে নিচ্ছে। তাদের বাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশে (পূর্ব পাকিস্তান) ১৯৫১ সালের জনগণনা অনুযায়ী হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের সংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার ২৯.৭ শতাংশ। ২০১৯ সালে সেটা কমে হয়েছে ৮ শতাংশে। ২০১১ সালের একটি গবেষণাপত্রের হিসেব বলছে, প্রতিদিন বাংলাদেশে ৬৩২ জন করে হিন্দু কমে যাচ্ছে। এই গবেষণাপত্রটি বাংলাদেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বরকতের। প্রিয়া সাহা আরও জানিয়েছেন, তাঁর বাড়িও মৌলবাদীরা পুড়িয়ে দিয়েছিল। এসবের জেরে তাঁর গ্রামে ২০০৪ সালে যেখানে ৪০টি হিন্দু পরিবার ছিল, এখন সেখানে রয়েছে ১৩টি পরিবার।

প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এসব বলেছেন, জানাজানি হওয়ার পর দু’জন আইনজীবী ঢাকার আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেছিলেন। মামলার তোড়জোড় শুরু করেছিল বাংলাদেশ সরকারের আইন মন্ত্রকও। কিন্তু, এতে বিষয়টা আন্তর্জাতিক মাত্রা পাবে। একথা বুঝে, সেই তোড়জোড় বন্ধ করা হয়। মামলাগুলোও খারিজ করেছে ঢাকার আদালত। কিন্তু, হাসিনা সরকারের একাধিক মন্ত্রী প্রিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। শেখ হাসিনার ছেলে তথা উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদও প্রিয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন। মৌলবাদী সংগঠন ‘হেপাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’ আবার প্রিয়ার ঘনিষ্ঠ ধর্মীয় সংগঠন ইসকনকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে।

এই চাপের কাছে মাথা নুইয়ে বাংলাদেশের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, অন্য রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে অভিযোগ জানানোয় প্রিয়াকে সংগঠন সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রিয়ার বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন, বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন ও গণআন্দোলন মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × three =