কুমারগঞ্জে সাপে কাটা এক যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে ধুন্ধুমার, চিকিৎসকের গাফিলতির অভিযোগে চলল হাসপাতাল ভাঙ্গচুর ও পথ অবরোধ

পিন্টু কুন্ডু, আমাদের ভারত, বালুরঘাট, ১৮ সেপ্টেম্বর: সাপের কামড়ে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে ধুন্ধুমার কুমারগঞ্জ। চিকিৎসকের গাফিলতির অভিযোগ মৃতের পরিবারের। প্রতিবাদে হাসপাতাল চত্বরে ভাঙ্গচুর রোগীর পরিবার সহ স্থানীয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের।বৃহস্পতিবার রাতে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকের বড়াহার হাসপাতালে এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। শুক্রবার সকাল থেকেও এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান উত্তেজিত বাসিন্দারা।

পুলিশ জানায়, মৃত ওই যুবকের নাম ভজন সরকার (২৪)। কুমারগঞ্জের সাফানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের সাহাজাদপুর এলাকার বাসিন্দা ছিল সে। এই ঘটনায় চিকিৎসক ও হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে দাবি মৃতের পরিবারের। মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে ঘটনার তদন্তে নেমেছে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, পেশায় টোটোচালক ভজন সরকার ওইদিন রাতে পাড়াতেই বিশ্বকর্মা পুজো উপলক্ষ্যে আনন্দ-ফূর্তি করছিলেন। সেই সময় রাতের অন্ধকারে তাকে সাপে কামড়ায় বলে জানায় তার পরিবারের লোকেরা। প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পরবর্তীতে ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তড়িঘড়ি তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বড়াহার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। অভিযোগ, দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন থাকার পরেও কর্তব্যরত কোনও চিকিৎসককেই সেখানে দেখা যায়নি। আর যার পরেই মৃত্যু হয় ভজন সরকারের। চিকিৎসককে ডাকবার পরেও কোনও সাড়া শব্দ না মেলায় উত্তেজিত হয়ে ওঠেন পরিবারের লোকেরা। ঘটনার প্রতিবাদে হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক ভাঙ্গচুর চালান বাসিন্দারা।

এদিন সকাল থেকেও এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বালুরঘাট-সাফানগর রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও পরে পুলিশি আশ্বাসে স্বাভাবিক হয়েছে পরিস্থিতি। ভজন সরকারের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে তার পরিবারে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসকের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন তার পরিবারের লোকেরা।

মৃতের দাদা অমিত সরকার ও তার এক আত্মীয় তরণী সরকার জানিয়েছেন, সাপে কামড়ানোর ঘটনা জানতেই তড়িঘড়ি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরেও চিকিৎসক সেখানে আসেনি। যার কারণেই অকালে প্রাণ দিতে হল ভজন সরকারকে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে উত্তেজিতদের মধ্যে কারা হাসপাতাল ভাঙ্গচুর করেছে তা তাদের জানা নেই।

বিষয়টি জানবার জন্য কুমারগঞ্জের বিএমও এইচ সত্যভিষা খাড়াকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, এব্যাপারে তিনি কিছু বলতে পারবেন না। ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষই যা বলার বলবেন।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here