আমফানের দাপটে চার জনের মৃত্যু ও ব্যাপক ক্ষতি হাওড়ায়

আমাদের ভারত, ভারত, ২১ মে: আমফানের দাপটে হাওড়ায় মৃত্যু হয়েছে চার জনের। তার মধ্যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে পাঁচলা ব্লকে ও দু’জনের মৃত্যু হয়েছে উলুবেড়িয়া ২ নম্বর ব্লকে। পাশাপাশি হাজার হাজার গাছ, টালি ও টিনের ছাউনি, বিদ্যুতের পোস্ট উপড়ে পড়েছে মাটিতে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতেরা হলেন, ভারতী প্রামাণিক, অর্যাফন বিবি, শম্ভু পাত্র ও সুকুমার ঢালি। ভারতীর বাড়ি তুলসি বেড়িয়ার সুমদায় ও আর্যাফের বাড়ি রাজাপুর থানার মল্লিক পোলে। ঘরের চাল ভেঙ্গে পড়ে মৃত্যু হয় ভারতী দেবীর আর গাছ ভেঙ্গে পড়ে মৃত্যু হয় আর্যাফনের।

এদিকে পাঁচলার শুভর আড়ার বাসিন্দা শম্ভু পাত্র মারা যান মাথায় ঘরের টালি পড়ে। পাঁচলার তালবন্দীর বাসিন্দা সুকুমার ঢালি এক কারখানার কর্মী। তিনি মারা যান কারখানার পাঁচিল চাপা পড়ে। বৃহস্পতিবার সকালে দেখা গেল বিভিন্ন রাস্তার উপর পড়ে রয়েছে উপড়ে পড়া গাছের সারি। মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়ে রয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। হোটেলের ছাদে থাকা জল ভর্তি তিন হাজার লিটারের জলের ট্যাঙ্কের খোঁজ মিলল তিনশো মিটার দূরে। হোটেলের জানালা বা দরজায় থাকা কাচের চিহ্ন টুকুও নেই। আর টিন ও টালির ছাউনির বাড়িগুলোর দশা বেহাল। শ্যামপুর এ ১ নম্বর ব্লকের গাদিয়াড়া এলাকার এমনই দশা হল আমফান ঝড়ে।

এমন আগে কখনও দেখেনি বলে জানালেন বছর পঁয়তিরিশের সন্তু রায়। শুধু তিনি শোনেননি তো বটেই সন্তুর কথায়, প্রবীণ নাগরিকদের মুখ থেকেও এমন ভয়াবহব দুর্যোগের কথা শোনেননি বলেও জানান সন্তু। তার অভিজ্ঞতা বিকেলে থেকেই ঝড় আর বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ছিল। সন্ধ্যার আগে তা মাত্রাছাড়া হয়ে দাঁড়ায়। আশপাশের একের পর এক বাড়ির চাল উড়ে যেতে থাকে। সঙ্গে মহিলা আর কচিকাঁচাদের কান্না।

পূর্ণিমা হোটেলের এক কর্তা বললেন, ঝড়ের দাপটে জানালা দরজার কাঁচগুলো ঝুরঝুর করে ভেঙ্গে ঝড়ে পড়ছে। হোটেলের মধ্যে থাকা ছোটখাটো জিনিসগুলো তুলোর মতো উড়তে থাকে। তাদের হোটেলের ছাদে দুটো জলের ট্যাঙ্ক ছিল। ওই কর্তা জানান, ছাদে গিয়ে দেখি ট্যাঙ্ক দুটো নেই। অনেক খোঁজাখুঁজি করে তিন হাজার লিটার জল ভর্তি ট্যাঙ্কটা পাওয়া গেল হোটেল থেকে তিনশো মিটার দূরে। চোখের সামনে দেখলাম ইটের পাঁচিল হুড়মুড়িয়ে ভেঙ্গে পড়ল। কোনো রকমে খিল দিয়ে দোতলার একটা ঘরে নিজেকে বন্দি রেখে বাঁচি বলে জানান তিনি।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here