কুড়মিদের চলা আন্দোলনের জেরে জাতীয় সড়কে আটকে পড়েছে শয়ে শয়ে ট্রাক, চরম অসহায়তায় দিন কাটছে চালক ও খালাসিদের

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৩ সেপ্টেম্বর: গত তিন দিন ধরে চলছে হয়েছে কুড়মিদের আন্দোলন। আর তাদের আন্দোলনের জেরে ৬ নং জাতীয় সড়কে আটকে আছে শয়ে শয়ে মালবাহী ট্রাক। চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন ভিন রাজ্যের ট্রাক চালকরা।

একদিকে ৬ নং জাতীয় সড়কের উপর খড়্গপুর গ্রামীণের খেমাশুলি থেকে কলাইকুন্ডা পর্যন্ত কয়েকশো ট্রাক দাঁড়িয়ে অপরদিকে চৌরঙ্গী থেকে ডেবরা পর্যন্ত ট্রাক দাঁড়িয়ে রয়েছে কয়েকশো ট্রাক। চালক ও খালাসি মিলিয়ে প্রায় হাজারখানেক মানুষের গত তিন দিন ধরে চরম অসহায়তার মধ্যে কাটছে। এদের মধ্যে ভিন রাজ্যের ট্রাক চালকের সংখ্যাই বেশি। তাঁদের কথায় , না আছে খাবার না আছে খবার জল, এমনকি স্নান বা শৌচকর্ম করার জল প্রায় ৩-৪ কিলোমিটার দূর থেকে এক বালতি করে নিয়ে আসতে হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা দিয়ে। খাবার অযোগ্য ভাত-রুটি কিনতে হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা দিয়ে। বাধ্য হয়ে বৃহস্পতিবার থেকে কেউ কেউ স্টোভ জ্বালিয়ে রান্না শুরু করেন ৩-৪ কিলোমিটার বা আরও দূর থেকে চড়া দামে জিনিসপত্র কিনে এনে। পথের ধারে বসে রান্নার জোগাড়যন্ত্র করেন ঠিকই, তবে জলের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। মেলেনি কারোর সাহায্য। বৃহস্পতিবার প্রশাসন ও বিভিন্ন সংস্থার তরফে সামান্য কিছু জলের পাউচ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তাঁরা। তবে, তাতে কি আর এই গরমে পিপাসা মেটে?

বিহার ও উত্তর প্রদেশ থেকে আসা পাপ্পু যাদব, সতীশ কুমার, নভনীত কুমাররা বলেন, তিনদিন ভালো করে স্নান, শোচকর্মও করতে পারেননি। তার উপর সঙ্গে থাকা টাকাও শেষের পথে। চরম দুঃশ্চিন্তা আর নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে তাঁদের। দুর্গা পুজোর আগেই এই মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে পড়ে অবরোধ তুলে নেওয়ার কাতর আবেদন জানাচ্ছেন আন্দোলনকারীদের কাছে।

বিহারের বাসিন্দা সতীশ কুমার বললেন, “কবে বাড়ি ফিরতে পারব কে জানে! টাকাপয়সাও শেষ হয়ে গেছে। মালিক কাল টাকা পাঠালে ভালো, না হলে না খেয়ে মরতে হবে। এমনিতেই, এক বালতি জল ৩০-৪০ টাকা দিয়ে নিয়ে আসতে হচ্ছে। ৩০ টাকার বোতলের জল নেওয়া হচ্ছে ৬০ টাকা!”

অন্যদিকে, আন্দোলনকারী কুড়মি সমাজের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট বার্তা না আসা পর্যন্ত, এই আন্দোলন চলবে। রাজ্যের প্রতিনিধি দল আলোচনায় বসতে চাইলেও, তাঁরা যে নিজেদের দাবিতে অনড় তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, যতক্ষণ না কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে মেমোরেণ্ডাম সহ সঠিক কমেন্ট ও জাস্টিফিকেশন পাঠানোর প্রতিলিপি দেখানো হবে, ততক্ষণ এই অবরোধ-আন্দোলন চলবে। তাই, মন্ত্রী মানস রঞ্জন ভুঁইঞা’র ব্যক্তিগত অনুরোধও ফিরিয়ে দিয়েছেন রাজেশ মাহাত, অজিত মাহাতরা।

উল্লেখ্য, কুড়মিদের এসটি বা তপশিলি উপজাতি ঘোষণা, কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফশিলে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সারনা ধর্মের সরকারি কোড চালুর দাবিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা-তে কুড়মি সমাজের পক্ষ থেকে এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালানো হচ্ছে। কবে এবং কিভাবে এই আন্দোলন উঠবে তার দিকে তাকিয়ে সকলে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here