নেশার টাকা না পেয়ে সন্তানের সামনে স্ত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠলো স্বামীর বিরুদ্ধে, ইছাপুরে ধৃত অভিযুক্ত

আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ৪ ডিসেম্বর: শ্যামনগরের শান্তিগড়ের পর আবারও মর্মান্তিকভাবে বধূ হত্যার ঘটনা ঘটলো ইছাপুরে। বালিশ চাপা দিয়ে স্ত্রীকে খুন করে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠলো স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ইছাপুরের মায়াপল্লী বিবেক নগর এলাকায়। মদ খাওয়া ও জুয়া খেলার জন্য স্ত্রীর কাছে টাকা চেয়ে না পেয়েই শনিবার সন্ধ্যায় বালিশ চাপা দিয়ে নিজের স্ত্রীকে খুন করে স্বামী এমন অভিযোগ উঠছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী শম্ভু মন্ডলকে গ্রেফতার করেছে জগদ্দল থানার পুলিশ।

মৃত রিনা মন্ডলের পরিবারের অভিযোগ, প্রায়শই স্ত্রীর কাছে টাকা দাবি করে না পেলে শারীরিক অত্যাচার করত পেশায় দিনমজুর শম্ভু মন্ডল। সেইরকমই শনিবার সকাল থেকেই গণ্ডগোল চলছিল স্বামী- স্ত্রীর মধ্যে। দফায় দফায় মারধর চলছিল মৃতা রীনা মন্ডলের ওপর। এদিন সন্ধ্যায় টাকা চেয়ে না পেয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ফের অশান্তি বাধে। আর ঠিক তখনই নিজের ৭ বছরের ছেলের সামনেই নিজের স্ত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে খুন করে অভিযুক্ত শম্ভু মণ্ডল। তারপর তার মৃত্যুকে খুন বোঝানোর জন্য মৃতের গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে দেয়। এরপর বাড়িতে চিৎকার শুরু হলে স্থানীয়রা ছুটে এসে রীনা মন্ডলকে উদ্ধার করে ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে। এই ঘটনায় মৃতার বাপের বাড়ির আত্মীয়দের তরফ থেকে জগদ্দল থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ অভিযুক্ত শম্ভু মন্ডলকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।

এই ঘটনায় মৃতার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, “প্রায় দিন আমাদের মেয়েকে মারধর করত জামাই। নেশা করবার জন্য বাপের বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আসতে বলতো। না আনলেই মারধর করতেই থাকতো। পুজোর সময় টাকা চেয়ে মারধর করেছিল। তখন আমরা ৫ হাজার টাকা দিয়ে ছিলাম। কিন্তু তার কিছু দিন বাদ থেকেই আবার অত্যাচার শুরু করে। রিনার শ্বাশুড়ি ও মারধর করতো। আমরা আমাদের জামাইয়ের শাস্তি চাই।” এই ঘটনায় ধৃত শম্ভু মণ্ডলকে জিজ্ঞেসাবাদ করছে পুলিশ।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here