লোকসভায় জোট হলে মুখ রাহুল নন, মমতাই, ‘জাগো বাংলা’য় স্পষ্ট বার্তা তৃণমূলের

রাজেন রায়, কলকাতা, ১৭ সেপ্টেম্বর: নিজেদের মুখপত্রের মাধ্যমে আগামী লোকসভা ভোট নিয়ে ধীরে ধীরে নিজেদের বার্তা স্পষ্ট করতে চাইছে তৃণমূল। আগামী নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হলে তাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু বিজেপিকে উৎখাত করতে পারবেন না রাহুল গান্ধী। বরং সেখানে একমাত্র বিকল্প মুখ উঠতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জাগো বাংলা মুখপত্রে এমনটাই দাবি করা হয়েছে‌।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তাঁর দল যে ভাবে ‘ল্যান্ডস্লাইড ভিক্ট্রি’ এনেছে তারপর মমতাতেই ভরসা রাখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। শুক্রবার জাগো বাংলায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। যার শিরোনাম, ‘রাহুল গান্ধী পারেননি, মমতাই বিকল্প মুখ’। কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের বার্তা এই প্রতিবেদনে স্পষ্ট। তবে সে জোটে রাহুল যে নেতা নন সে কথারও উল্লেখ রয়েছে।
প্রতিবেদনের শুরুতেই লেখা হয়েছে, ‘কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে আমরা কখনওই বিজেপি বিরোধী বিকল্প বলছি না। কিন্তু রাহুল গান্ধী এখনও নরেন্দ্র মোদীর বিকল্প মুখ হয়ে উঠতে পারেননি। দেশের বিকল্প মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমরা বিকল্প হিসাবে জননেত্রীর মুখ সামনে রেখেই গোটা দেশে প্রচার শুরু করব।’

প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূলের কর্মিসভা থেকে এমনই বার্তা দিয়েছেন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ, বিধায়ক তাপস রায়, সাংসদ শান্তনু সেনরা। দেখা গিয়েছিল, বিভিন্ন আঞ্চলিক দলকে নিয়ে রাহুল গান্ধীর ডাকা সাংবাদিক সম্মেলন এড়িয়ে গিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও এর কারণ হিসাবে ‘মিস কমিউনিকেশন’ তত্ত্ব তুলে ধরেছিল এ রাজ্যের শাসকদল। কিন্তু একই সঙ্গে দেখা গিয়েছে, কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে রাহুল গান্ধীও উপস্থিত থাকছেন। অর্থাৎ রাহুলকে নিয়ে তৃণমূলের অবস্থানটা সুস্পষ্ট নয়।

দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এখানে কংগ্রেসকে অসম্মান করা বা রাহুল গান্ধীকে অসম্মান করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু রাহুল গান্ধীকে নরেন্দ্র মোদীর বিকল্প মুখ হিসাবে মানুষ গ্রহণ করছেন না। তিনি এখনও প্রস্তুত নন। ২০১৪ সাল, ২০১৯ সাল বার বার সুযোগ পেয়েও তিনি এখনও সেই জায়গাটা প্রমাণ করতে পারেননি। অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের ফলে একটা আলাদা ছাপ তৈরি করেছেন। এই ফলাফলে গোটা দেশের নজর ছিল। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ থেকে দেশের বিজেপি নেতারা এসে তৃণমূলকে হারাবার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের হারিয়ে দিয়েছে। সারা দেশের মানুষ তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চাইছেন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এই ধরনের একটা প্রচার হবে।”

অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্যের বক্তব্য, “ভারতবর্ষের রাজনীতির ইতিহাসে দেখা গিয়েছে, যখনই কোনও জোট তৈরি হয়েছে, সেটা ইউপিএ হোক বা এনডিএ! জোটের সঙ্গীরা যে কোনও সিদ্ধান্ত একসঙ্গে বসে গ্রহণ করে। জোটের নেতৃত্ব কে দেবে। এটা চিরকালই হয়ে আসছে। তাই মতামত অনেক কিছুই হতে পারে, তবে তা সর্বশেষ সিদ্ধান্ত হিসাবে ধরে নেওয়ার কোনও কারণ রয়েছে বলে আমার মনে হয় না।”

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here