আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করেই বোলপুরে চলছে বহুতল নির্মাণ, ছবি তুলতে গেলে হেনস্থার শিকার হন সাংবাদিকরা

আশিস মণ্ডল, বীরভূম, ১৯ সেপ্টেম্বর: আদালতের নির্দেশকে উপেক্ষা করেই বোলপুর শহরের প্রাণ কেন্দ্রে গড়ে উঠছে বহুতল নির্মাণ। খোলা হয়েছে বিলাবহুল শপিংমল। আদালতের নির্দেশে শনিবার বিকেলে সেই মল পরিদর্শনে যান আদালত নিযুক্ত এক অফিসার। সেই ছবি তুলতে গিয়ে আক্রন্ত হন একাধিক সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিক। সাংবাদিকদের হেনস্থার অভিযোগ পেয়ে পুলিশ মলের এক নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেফতার করে। আজ তাকে আদালতে তোলা হলে বিচারক জেলা হেফাজতে পাঠান।

জানা গিয়েছে, বোলপুর শহরের প্রাণ কেন্দ্রে একটি বহুতল আবাসন গড়ে উঠছে দীর্ঘদিন ধরে। বোলপুরের বাঁধগোড়া এলাকার বাসিন্দা প্রদীপ কুমার চন্দ্রের দাবি, নির্মীয়মাণ ওই আবাসনের ৩৩ শতক সম্পত্তির উপর তাঁর ১০ শতাংশ অধিকার রয়েছে। প্রথম দিকে প্রদীপবাবুকে ১০ শতাংশের অংশীদারের ভাগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজ শুরু করে নির্মাণকারী সংস্থা। কিন্তু পরে সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের চেষ্টা করলে প্রদীপবাবু আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু পুলিশি নিস্ক্রিয়তায় ওই সংস্থা কাজ বন্ধ করা তো দূরের কথা, একটি বিলাসবহুল শপিংমল চালু করে দেন। প্রদীপবাবু আইনজীবীর মাধ্যমে ফের আদালতে হাজির হয়ে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন। সেই সঙ্গে আদালত একজন অফিসার নিয়োগ করে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ পেয়ে আদালয় নিয়োজিত অফিসার নির্মীয়মাণ বহুতলে তদন্তে যান। সেই ছবি তুলতে গেলে হেনস্থার শিকার হন সাংবাদিকরা।

মামলাকারীর আইনজীবী নাজমুল করিম বলেন, “শপিংমল কি পরিস্থিতিতে আছে, চলছে কি না। চললে কটা অংশের উপর চলছে এবং তাঁরা আদালতের নির্দেশ অমান্য করছে কি না তা দেখতে আমরা গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখলাম আদালতের কোনও নির্দেশ মানা হচ্ছে না। নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আদালতের নির্দেশ আছে ১০ শতাংশ জায়গার উপর কিছু করতে পারবে না। কিন্তু নির্মাণকারী সংস্থা একশো শতাংশ জায়গার উপর সব কিছু করছেন। আদালতের নির্দেশ অমান্য করেই সব চলছে। আমি আদালতে সমস্ত তথ্য জমা দেব। এবার বিচারক যা রায় দেবেন তাই হবে। পুলিশকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নির্মীয়মাণ বহুতলের কাজকর্ম এবং শপিংমল কীভাবে রয়েছে তার রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে”।

প্রদীপবাবু বলেন, “নির্মাণকারী সংস্থা আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তাই আমি মামলা করেছিলাম। সেই মামলায় আদালত স্থগিতাদেশ দেন। কিন্তু পুলিশ আদালতের নির্দেশ মতো নির্মাণ কাজ এবং শপিংমল বন্ধ না করায় ফের আদালত অবমাননার মামলা করেছিলাম। সেই নির্দেশ পেয়ে পুলিশকে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে”।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here