বেআইনি বোমা তৈরির কারখানা হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ, মুর্শিদাবাদ কান্ডে রাজ্য সরকারকে খোঁচা রাজ্যপালের

রাজেন রায়, কলকাতা, ১৯ সেপ্টেম্বর: সাতসকালে মুর্শিদাবাদ চাঞ্চল্যকর খবরে চমকে উঠেছিলেন পশ্চিমবঙ্গবাসী। মুর্শিদাবাদ থেকে রচনা আল-কায়েদা জঙ্গিকে গ্রেফতার করে এনআইএ। আর সেই সুযোগেই পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলার অবস্থা নিয়ে ফের টুইটে সরব হলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের গণতন্ত্রের পরিবেশ নিয়ে এদিন টুইটে প্রশ্ন তুললেন রাজ্যপাল।

টুইটে এদিন তিনি লিখেছেন, বেআইনি বোমা তৈরির কারখানা হয়ে উঠেছে রাজ্য। এতে গণতন্ত্র বিপন্ন হতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পুলিশ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে রুখতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। যাঁরা পুলিশ–প্রশাসনে উচ্চপদে রয়েছেন, তাঁরা রাজ্যের আইন–শৃঙ্খলার এই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।

এর পর তিনি রাজ্য পুলিশের ডিজিপি বীরেন্দ্রকে খোঁচা দিয়ে টুইটে লেখেন, রাজ্যের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে অনেক দূরে রয়েছেন ডিজিপি। এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে পুলিশ যা কাজ করছে তা অবশ্যই প্রশংসনীয়, কিন্তু তারাই যখন রাজনৈতিকভাবে নির্দেশিত হন সেটা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।’

প্রসঙ্গত, মুর্শিদাবাদ ও কেরালার এর্নাকুলামে বসে দেশব্যাপী বড়সনাশকতার পরিকল্পনা চালাচ্ছিল আল-কায়দা জঙ্গিরা। শনিবার সেই পরিকল্পনা বানচাল করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। গ্রেফতার করা হয়েছে আল-কায়দার ৯ জঙ্গিকে। তল্লাশি অভিযান চালিয়ে আল-কায়দা ঘাঁটি থেকে এনআইএ গোয়েন্দারা প্রচুর অস্ত্র ও আইইডি উদ্ধার করেছে। গোয়েন্দাদের দাবি, পাকিস্তান থেকেই সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ থেকে জঙ্গি সংগঠনের বিস্তার ও কাজ পরিচালনা করা হয়।

এনআইএ-র তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, ‘বাংলার মুর্শিদাবাদ ও কেরালার এর্নাকুলাম সহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অনেকদিন ধরেই আল-কায়দার জঙ্গিরা ছড়িয়ে পড়েছিল। ইন্টার স্টেট বা আন্তঃরাজ্য মডিউলে এই সক্রিয় সদস্যরা কাজ করত। নাশকতামূলক কাজের মাধ্যমে নিরীহ সাধারণ মানুষদের মেরে ফেলা জঙ্গি কার্যকলাপের মাধ্যমে আমজনতার মনে ভয়-আতঙ্কের সৃষ্টি করাই ছিল এদের মূল লক্ষ্য। দেশের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য জায়গায় নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল এই জঙ্গিরা।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here