রবীন্দ্র সরোবরে বোট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

আমাদের ভারত, ১৪ সেপ্টেম্বর: রবীন্দ্র সরোবরের জলে পেট্রোল বা ডিজেল চালিত উদ্ধারকারী যান নামানো হবে কিনা, তা নিয়ে বুধবার বসতে চলেছে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। সেখানে নির্ধারিত হবে কলকাতায় একমাত্র নৌক্রীড়া বা রোয়িংয়ের অনুশীলন কেন্দ্রের বিষয়টি।

কেএমডিএ পরিবেশ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সরোবরের রোয়িংক্লাবগুলিকে ডেকেছে এই বৈঠকে। কোনও পরিবেশ প্রযুক্তিবিদ বা বিশারদ এই বৈঠকে ডাক পেয়েছেন কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদি তা না হয়ে থাকে তবে সরোবরের নিত্যভ্রমণকারীদের আশঙ্কা, হয়ত ক্লাবগুলি তাদের দায় এড়াবার জন্যে ও ব্যয়সংকোচ করতে গিয়ে পরিবেশবান্ধব উদ্ধারযানের প্রস্তাব দেবে না। সেক্ষেত্রে পরিবেশদূষণের মাত্রা বেড়েই চলবে সরোবরে।

প্রসঙ্গত, এই জাতীয় পরিবেশ আদালতেরই নির্দেশে সরোবরের ভেতরে এবং তার পার্শ্ববর্তী রাস্তায় কোনওরকম পেট্রোল বা ডিজেল যান চলা নিষিদ্ধ রয়েছে বেশ কয়েকবছর ধরে। এমনকি সরোবরের ভেতরে নিরাপত্তা ও পাহারায় নিয়োজিত যে সমস্ত যান চলে তা ব্যাটারীচালিত। সেক্ষেত্রে পরিবেশদূষণের ব্যাপারটিই গুরুত্ব পেয়েছে সর্বাগ্রে।অথচ সেই সরোবরেই জ্বালানী চালিত যান জলে নামতে চলেছে।

পরিবেশবিদ সমীর বোস এই প্রতিবেদককে জানান, “আশা করা যায় সরোবর কর্তৃপক্ষ কেএমডিএ এই ব্যাপারে যথেষ্ট যত্নশীল হবেন। যে নিরাপত্তার কারণে এই প্রস্তুতি সেখানে যেন গোড়ায় গলদ না হয়। রোয়িং শিক্ষার্থীদের জন্য যে নৌকাগুলি আপাতত চালু রয়েছে, সেগুলো কি উপযুক্ত শংসাপত্র বা ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রাপ্ত? প্রশ্ন এখানেই, রোয়িংবোট বা নৌকোগুলোই যদি পুরনো বা নড়বড়ে হয় উদ্ধারযানের ভূমিকা কতটুকু?”

পরিবেশ প্রযুক্তিবিদ সোমেন্দ্রমোহন ঘোষের মতে, যদি ব্যবহৃত উদ্ধারযানগুলি একান্তই পরিবেশবান্ধব না হয় সেক্ষেত্রে ইঞ্জিনগুলির বর্জ্যমাত্রা যেন কমপক্ষে পরিবেশ বিষয়ক বিভিন্ন সংস্থা নির্ধারিত সীমার মধ্যেই থাকে। এর অন্যথায় অনেক মানুষ তাদের শহরের নির্মল শ্বাসগ্রহণের সীমিত স্থানটুকুও হারাবে বলেই মনে করছেন ভ্রমণকারীরা।

পরিবেশপ্রেমী ও আন্দোলনকারীদের দাবী, যে সুষ্ঠু কার্যকরী পদ্ধতি বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর অবলম্বনে জাতীয় সরোবরে আবার নৌক্রীড়া শুরু হতে চলেছে তা কেএমডিএ ও ফেডারেশনের তত্তাবধানেই চলা উচিত। তা যেন রবীন্দ্রসরোবরে মত একটি পরিবেশ সংবেদনশীল স্থানের জন্য এন এল সি পি নির্ধারিত সবরকম নির্দেশাবলি মেনেই চলে।

সমীর বোসের বক্তব্য, পরিবেশবিদদের আশা ছিল মহামান্য পরিবেশ আদালত সরোবরের জলে কে,এম,ডি,এ র এই তেলচালিত যান চালাবার আর্জিটি খারিজ করে দেবেন। কিন্তু তা যখন হলইনা বৃহত্তর স্বার্থে এই স্থানের গুরুত্ব মাথায় রাখতে হবে প্রতিটি সংস্থা ও ক্লাব কর্তৃপক্ষকে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here