আর মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে করোনা সংক্রমণে ভারত প্রথম স্থানে চলে যেতে পারে , মত বিশেষজ্ঞদের

আমাদের ভারত, ১৬ অক্টোবর : করোনা ভাইরাসের আক্রান্তের নিরিখে আর মাত্র সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই এক নম্বর জায়গা দখল করে নিতে পারে ভারত, এমনই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের একাংশের। ভাইরাসে আক্রান্তের নিরিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমেই ফারাক কমছে ভারতের। এই পরিস্থিতিতে কোভিড বিধি-নিষেধকে শিকেয় তুলে উৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বহু মানুষ।

করোনার মত মহামারীর বিপদকে ভুলে উৎসবে অংশ নেওয়ার ফল কি হতে পারে তার আদর্শ উদাহরণ হচ্ছে কেরল। ভারতে করোনা সংক্রমনের প্রথম খবর পাওয়া গিয়েছিল এই রাজ্য থেকেই। প্রাথমিকভাবে করোনা রুখতে পরিকল্পিত পদক্ষেপ এবং শৃঙ্খলা মেনে গোটা দেশের কাছে প্রশংসাও পেয়েছিল তারা। কিন্তু আগস্ট মাসে কেরলের দশ দিনব্যাপী ওনম উৎসবের পরই রাজ্যে সংক্রমণের হার প্রায় পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পায়।

আগামী সপ্তাহ থেকে দেশজুড়ে উৎসব শুরু। দুর্গাপুজো, দশেরা, দিওয়ালির মত উৎসব চলবে নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত। আর এর জন্যেই চলছে জমায়েত, ভিড়, কেনাকাটা, খাওয়া-দাওয়া। বিরোধীদের অভিযোগ এখনো পর্যন্ত এই সমস্ত কিছু নিয়ন্ত্রন করতে সেভাবে সরকারি কোনো কড়া পদক্ষেপ করতে দেখা যায়নি। চলছে শুধু মৌখিক আবেদন। কিন্তু তাতে কি মানুষের সচেতনতা ফিরবে? তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

সতর্ক না হয়ে উৎসবে সামিল হলে বিপদ বারবে বলে বার বার মনে করাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বারবার সতর্ক করেছেন, প্রথম পাঁচ মাসে কেরলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫ হাজার। কিন্তু আগস্ট মাসে ওনম উৎসব এরপর কেরলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৩ লাখে। কেরলের স্বাস্থ্যসচিব স্বীকার করে নিয়েছেন যতই সুরক্ষা নেওয়া হোক না কেন উৎসবের মরসুমে মানুষ যদি ভিড় জমায় তাহলে সংক্রমণ বাড়বেই।

কেরলের সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়বে ধরে নিয়ে তারা প্রস্তুত ছিলেন। দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায়ও কেরলের স্বাস্থ্য পরিষেবা অনেকটাই ভালো। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মতো বড় রাজ্যে এক ধাক্কায় আক্রান্তের সংখ্যা যদি বেড়ে যায় তাহলে সামাল দেওয়া কি সম্ভব?

রাজ্য সরকারের কোভিড নিয়ন্ত্রণের যেটা টাস্ক ফোর্স গঠন হয়েছে তার সদস্য চিকিৎসক অভিজিৎ চৌধুরীও দুর্গাপুজোর ভিড় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ নতুন ভাবনার ক্ষেত্রে বহু বিষয়ে পথ দেখিয়েছে। কিন্তু পুজোর আগে মানুষ যেভাবে উদাসীনতা দেখাচ্ছেন তাতে পুজোর সময় খারাপ কিছুর ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। মানুষ যেভাবে করোনার বিধি-নিষেধকে অমান্য করছেন তাতে ভয় বাড়ছে,আমরা খুবই খারাপ সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

অন্যদিকে এর বিরুদ্ধ মত প্রকাশ করে পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি বলেছেন, পুজোর সময় গ্রামাঞ্চলের বহু মানুষ শহরে এসে অর্থ উপার্জন করেন। ফলে এই সুযোগ যদি তারা না পান তাহলে করোনার থেকে অনাহারে বেশি মানুষের মৃত্যু হবে। এই সময় ধানের বীজ বোনা এবং কাটার কাজ শেষ। ফলে রাজ্যের একটা বড় অংশের মানুষ এখন উপার্জনহীন। একইভাবে অনেক ছোট ছোট ব্যবসায়ী পুজোর সময় কিছু বাড়তি উপার্জনের দিকে তাকিয়ে থাকেন।

ভারতে এখনো পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্ত ৭৩ লক্ষ। মৃতের সংখ্যা এক লক্ষ বারো হাজার। যদিও শেষ কয়েকদিনে সংক্রমণের হার কিছুটা কম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here