তবলিগি যোগ! ধর্মীয় পরিচয় লুকিয়ে আত্মগোপন করে থাকায় তুলে নিয়ে গেল পুলিশ, চাঞ্চল্য কৃষ্ণনগরে

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদীয়া, ২৬ এপ্রিল:
বাংলাদেশের এক ব্যক্তি পশ্চিমবঙ্গের এসে ধর্মীয় পরিচয় লুকিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন এই অভিযোগ তুলেছিলেন এলাকার মানুষ। এলাকার মানুষের প্রতিবাদে শেষ পর্যন্ত পুলিশ তাকে ও আশ্রয়দাতাকে তুলে নিয়ে যায়। রবিবার তাদের কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে তোলা হবে। কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার ঘটনা।

জানা গেছে, বাংলাদেশের বাসিন্দা ওই ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ শরিফুল হুসেন। তিনি বাংলাদেশ থেকে দিল্লিতে গিয়েছিলেন সেখান থেকে তিনি কৃষ্ণনগরের ভালুকায় তার নিজের ভাগ্নের বাড়িতে ওঠেন বলে জানা যায়। নিজেকে তিনি হিন্দু হিসাবে পরিচয় দিলেও তার অসংলগ্ন কথাবার্তায় স্থানীয় মানুষদের সন্দেহ হয়। তাদের ধারণা দিল্লির তবলীগ জামাতের সাথে নিশ্চয়ই এর কোনও সম্পর্ক থাকলেও থাকতে পারে। কোতোয়ালি থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশের জেরায় সে একবার জানায় সে দিল্লিতে ছিল, পরে আবার জানায় সে চেন্নাইয়ে গিয়েছিল চিকিৎসার জন্য। পুলিশের তরফ থেকে তার পরিচয় পত্র দেখতে চাওয়া হলে সে জানায় দিল্লি থেকে হাওড়া আসার সময় তার পরিচয় পত্র হারিয়ে গেছে। ফলে তার ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে সন্দেহ আরো দানা বাঁধে।

ছবি: আশ্রয়দাতা গৌতম মন্ডল।
এদিকে যিনি এই ব্যক্তিকে আশ্রয় দিয়েছেন তারও আবার দুটো পদবী। তারও আবার দুটো পরিচয়। গৌতম মন্ডল এবং গৌতম সরকার। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওই ব্যক্তির পদবি সরকার যতদূর জানা যায় তার ভোটার কার্ড, আধার কার্ডেও পদবি সরকার কিন্তু পুলিশের জেরায় পদবী মন্ডল বলে জানান। এখন ওঁনার ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও ওখানকার স্থানীয় মানুষরা সন্দেহ প্রকাশ করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রানা দেবনাথ জানান, ওই ব্যক্তি বাংলাদেশের কচুয়া থানা এলাকা থেকে দিল্লি গিয়েছিল। আমাদের পাড়া-প্রতিবেশীদের সন্দেহ উনি হয়তো দিল্লির নিজামুদ্দিনের জমায়েতে গেছিলেন। উনি এখানে এসেছেন গৌতম এর কাছে পাসপোর্ট করতে। এখান থেকে বাইরে যাওয়ার জন্য। আর গৌতম মন্ডল এই ধরনের কাজগুলো করে। গৌতম মন্ডলের প্রধান ব্যবসা হল বাংলাদেশীদের পাসপোর্ট বানিয়ে দিয়ে বিদেশে পাঠানো।

ভালুকা নতুন বাজারের লোকনাথ পাড়ার বাসিন্দা সৌরভ ভৌমিক জানান- গৌতমের বাড়িতে নতুন নতুন লোক আসত। আমরা প্রথমে ভাবতাম যেহেতু ও বাংলাদেশ থেকে এসছে সেহেতু ওর আত্মীয় হবে, কোনদিনও যাচাই করতাম না। কিন্তু এবার একদিন যখন গৌতমকে আমরা ওঁনার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করি তখন ও আমাদের জানায় ওটা ওর মামাতো ভাই। আবার গৌতমের স্ত্রী বলছে উনি ওঁনার পিসতুতো ভাই, গৌতম এর ছেলে বলছে উনি নাকি ওর কাকা হয়। এর পরই আমাদের সন্দেহ হয়। আমরা ওঁনার কাছে পরিচয় পত্র দেখতে চাই। উনি জানান হাওড়ায় পরিচয় পত্র হারিয়ে গেছে। উনি এক এক সময় এক এক কথা বলছেন। কখনো রাজস্থান, কখনো চেন্নাই আবার কখনো দিল্লিতে ছিলেন বলে দাবি করছিলেন। তাই আমাদের সন্দেহ যে দিল্লিতে নিজামুদ্দিনে তবলিগীর জমায়েত হয়েছিল ওখান থেকেই তিনি এখানে এসে আত্মগোপন করেছিলেন।

এই ঘটনায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ শরিফুল ও গৌতম মণ্ডলকে কোতোয়ালি থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে। আজকে তাদের কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে তোলা হবে। তাদের বিরুদ্ধে ১৪ এ এবং ১৪ সি ধারায় মামলা রুজু করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর ওই ব্যক্তি দিল্লি থেকেই এসেছে। আশ্রয়দাতার বাড়িও বাংলাদেশের একই জায়গায়।
এব্যাপারে এসপিকে ফোন করা হলে তিনি উত্তর না দিয়েই কেটে দেন।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here