মানুষের হাতে দ্রুত নগদের যোগান দিতে পঞ্চায়েত দপ্তরের মাধ্যমে ঢালাও কাজের ছাড়পত্র দিল রাজ্য সরকার

আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৬ মে: আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের এবং ভিন রাজ্য থেকে ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের কিভাবে একশ দিনের কাজে লাগানো হচ্ছে মঙ্গলবার তা সরেজমিন খতিয়ে দেখতে পশ্চিম মেদিনীপুরে আসেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি। তিনি জানান, করোনা ও আমফান নিয়ে কেন্দ্রের যেভাবে সহযোগিতা করা উচিত ছিল সেভাবে সহযোগিতা করেনি। বাংলার মানুষের প্রতি কেন্দ্রের আরো বেশি সাহায্য করা উচিত ছিল বলে তিনি মনে করেন। 

তিনি এদিন প্রথমে ঘাটালে গিয়ে আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন। ঘাটালে বহু জায়গায় মাটির বাড়ি ভেঙ্গেছে, বাড়ির চাল উড়ে গেছে, হুমড়ি খেয়ে পড়ে আছে গাছ। এরমধ্যেই একশ দিনের কাজ করছেন শ্রমিকরা। পঞ্চায়েত মন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে ঘাটালের বিধায়ক শঙ্কর দোলই, দাসপুরের বিধায়ক মমতা ভুঁইঞা, চন্দ্রকোনার বিধায়ক ছায়া দোলই, মহকুমা শাসক, বিডিও, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিদের নিয়ে বৈঠক করেন। ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার পাশাপাশি লকডাউনের জেরে কাজ হারানো গ্রামের মানুষ ও কাজ হারিয়ে ফিরে আসা প্রতিটি পরিযায়ী শ্রমিক যাতে একশ দিনের কাজ পান তা সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। এদিন দুপুরে মেদিনীপুরে জেলা শাসকের কার্যালয়ে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে এসে পঞ্চায়েত মন্ত্রী জানান, আমরা চাই পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হোক। এজন্য বেশ কয়েকটি পাইলট প্রজেক্ট নেওয়া হয়েছে। 

তাঁর কথায়, এখন অনেকগুলো দপ্তরের কাজ পঞ্চায়েত দপ্তরকে করতে হচ্ছে। যাতে বেশি সংখ্যক মানুষ কাজ পান এজন্য বীজ তলা তৈরির কাজ, বাঁধ নির্মাণ, মাছ চাষ, ঝড়ে ভেঙ্গে যাওয়া বাড়ি পুননির্মাণ, ভেঙ্গে যাওয়া বিদ্যুতের খুঁটি বসানোর জন্য নির্মাণের কাজ সহ আরো অনেক কাজ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ঢালাও কাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মহিলাদের কাজে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক পরিযায়ী শ্রমিক যাতে একশ দিনের কাজ পান তা সুনিশ্চিত করতে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকে বলা হয়েছে। যেসব পরিযায়ী শ্রমিক হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন তাঁদের বাড়ির চৌহাদ্দির মধ্যেই কাজ দিতে হবে। পঞ্চায়েত মন্ত্রী জানান, অন্যান্য জেলার তুলনায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় আমফানের ক্ষতি কম। তবে এই জেলার সমস্যা পরিযায়ী শ্রমিক নিয়ে। মন্ত্রী এদিন দাঁতনের কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখার পর বিধায়ক বিক্রম প্রধান ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন। এরপর কলকাতা ফিরে যান। 

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here