হাতির তান্ডবে লন্ডভন্ড বাঁকুড়ার ফুলিয়ামোড় বাজার, ক্ষতিগ্রস্ত দোকিনদারদের মাথায় হাত

সোমনাথ বরাট, আমাদেৱ ভারত, বাঁকুড়া, ১৪ জুলাই: হাতির তান্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেল বাজার। মঙ্গলবার রাতে দুটি দাঁতাল হাতি উন্মত্ত রূপ ধারণ করে সব লন্ডভন্ড কৱে দেয়। বাঁকুড়া দুৰ্গাপুর ৯ নং রাজ্য সড়কে ফুলবেড়িয়া মোড় এখন বাজারের চেহারা নিয়েছে। বহু বেকার যুবক এখানে দোকান খুলে বসেছেন। কাল রাতে সেই সব দোকানগুলোতে হামলা করে। বাঁকুড়া উত্তর বন বিভাগের বেলিয়াতোড় ও বড়জোড়া রেঞ্জ এলাকার বাসিন্দারা হাতির উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। মঙ্গলবার রাতভর ২টি হাতি তাণ্ডব চালায় বড়জোড়া রেঞ্জের ফুলবেড়িয়া বাজারে।

বেশকিছু বেকার যুবক ধারদেনা করে স্বাবলম্বী হতে বিভিন্ন দোকান খুলে বসেছেন, এখন তারা হতাশ হয়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েছেন। ফুলবেড়িয়া বাজার দেখলে মনে হবে আচমকা কোনও প্রাকৃতিক ঘূর্ণিঝড় সবকিছু তছনছ করে দিয়েছে। সবজির দোকান, মুদিখানা, মুড়ির কল, চালের আড়ত, মনোহারী দোকান কোনও কিছুই বাদ রাখেনি মত্ত দাঁতাল ২টি।

এক মুদিখানার মালিক অভয় মন্ডল বলেন, গ্রামের বেকার যুবকরা দোকান দিয়েছেন এখানে। লকডাউনে গত ২ মাস প্রায় ফাঁকা ছিল বাজার। ধীরে ধীরে দোকানপাট খুলতে শুরু করায় লোকজনের আনাগোনা বেড়েছে। ফলে বেচাকেনাও ভালোই হচ্ছে। সকলেই নতুন করে জিনিসপত্র কিনে পসরা সাজিয়েছেন। সেসব নষ্ট করে দিয়েছে।

অভয় মন্ডলের বাড়ি এখান থেকে ৫ কিমি দূরে গোঁসাইপুর। তিনি বলেন, তার মুদিখানার দোকানের শাটার ভেঙ্গে প্রথমে শোকেসটি ভেঙ্গে শুঁড় দিয়ে ১ বস্তা চাল, ১ বস্তা আলু টেনে বের করে তা খেয়ে ছড়িয়ে সাবাড় করেছে। নষ্ট করেছে দোকানের সমস্ত কিছু জিনিসপত্র। তেমনি ৩ কিমি দূরের লালবাজারের বাসিন্দা কার্তিক ঘোষ এখানে চালের আড়ত দিয়েছেন। কার্তিক বাবুর বেশ কয়েক বস্তা চাল খেয়ে ছড়িয়ে আড়তটিও মাটিতে নামিয়ে দিয়েছে। মহাদেব কুম্ভকারের মুড়ির কলে হানা দিয়ে ভাজা মুড়ি, চাল খেয়ে ছড়িয়ে বাড়িটির একাংশ ছাড়িয়ে দিয়েছে।

ফুলবেড়িয়া গ্রামের অভিজিৎ মন্ডল, মদনমোহন কুন্ডু সবজির দোকান দিয়েছিলেন। সব সবজি খেয়ে পায়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে দিয়েছে হাতি দুটি। তাদের দাবি, আমরা রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাই জীবন হাতে নিয়ে। সকালে এসে দোকান খুলি সেই জীবন বাজি রেখেই। বনদপ্তর হাতি তাড়ানোর কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না। হাতির বারমাস্যা নিয়ে এলাকার চাষিরা প্রায় চাষ করা ছেড়ে দিয়েছেন। এখন কিভাবে আমরা পুনরায় দোকান দেব সেটাই ভাবতে পারছি না। তাদের দাবি, বুধবার সকালে বনদপ্তরের লোকজন এসে জংলি হাতি
২টির তাণ্ডবের ছবি তুলে নিয়ে গেছেন। কিন্তু ক্ষতিপূরণ কবে পাওয়া যাবে কেউ জানি না। আর যা ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে তাতে ক্ষতির সিকি ভাগও পাওয়া যায় না।

বড়জোড়ার রেঞ্জ অফিসার ঋত্বিক দে বলেন, ১৩টি হাতি এখানে গত ২ মাস ধরে ঘাঁটি গেড়েছিল। তারমধ্যে সোমবারই ২টি শাবক সহ ১১টি হাতিকে বিষ্ণুপুর পেরিয়ে গরবেতা, ঝাড়গ্রাম হয়ে দলমার পথে রওনা করানো হয়েছে। যে ২টি হাতি ক্ষতি করেছে সেগুলি এখানের আবাসিক হাতি বলেই মনে হচ্ছে। হুলা পার্টি তীক্ষ্ণ নজরদারি রেখেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়মানুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেবে বনদপ্তর বলে তিনি জানান।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here