যুদ্ধের ইঙ্গিত! চিনা আগ্রাসন মোকাবিলায় সেনা পাঠাচ্ছে আমেরিকা

আমাদের ভারত, ২৬ জুন: যুদ্ধের দামামা কি বাজতে চললো? এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে আন্তর্জাতিক মহলে। পূর্ব লাদাকে ভারত-চিন সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে ক্রমেই যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই সংঘাতের মধ্যেই জাপান নিজের মিসাইলের মুখ চিনের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীও যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় সম্পূর্ন প্রস্তুতি নিয়েছে। ইতিমধ্যেই সেনাপ্রধান নারাভানে নিজে গিয়ে লাদাখের পরিস্থিতি পরিদর্শন করে এসেছেন। তার মধ্যে মার্কিন সচিব পম্পেও জানিয়েছেন জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে এশিয়ায় পাঠানো হচ্ছে চিনা আগ্রাসন মোকাবিলায়।

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় চিনের এই আগ্রাসনে আমেরিকা যে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবে না তা আবার মার্কিন বিদেশ সচিব মাইক পম্পেও এর কথায় পরিষ্কার হয়ে গেল। চিনা সেনার মোকাবিলা করতে এবার আসছে মার্কিন সেনা। মার্কিন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের কথা বললেও চিনের বিরুদ্ধে তলায় তলায় যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করেছে আমেরিকা।


ছবি:মার্কিন বিদেশ সচিব মাইক পম্পেও।
বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসের ফোরামের ভার্চুয়াল সম্মেলনে মার্কিন বিদেশ সচিব মাইক পম্পেও বলেন, ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ায় চিনের দাদাগিরির কারণেই ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা সংখ্যা কমানো হচ্ছে। পম্পেও’কে সে সময় জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জার্মানি থেকে সেনা সংখ্যা কমাচ্ছে কেন? তাতে তাঁর স্পষ্ট জবাব, মার্কিন সেনা বেশিদিন এখানে থাকবে না তাদের অন্যত্র সরানো হচ্ছে। চিনের কমিউনিস্ট পার্টি সমালোচনা করে মার্কিন বিদেশ সচিব বলেন, “চিনের কমিউনিস্ট পার্টির পদক্ষেপ শুধু ভারতের জন্যেই হুমকি নয়, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইনসও চিনা হুমকির মুখে পড়েছে।”

এছাড়াও দক্ষিণ চিন সাগরে চিনের তৎপরতা নিয়ে ক্ষুব্ধ আমেরিকা। পম্পেও’র কোথায়, “আমাদের সময়ের এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতেই হবে, আর সেই জন্যেই মার্কিন সেনাকে জার্মানি থেকে সরিয়ে আনা হচ্ছে। ”

আগ্রাসী রাশিয়াকে আটকাতে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলিতে সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আমেরিকা। ৬২ হাজারের ওপর মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে ইউরোপে। ইউক্রেন সংকট নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হওয়ার পর এটাই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি সেনা উপস্থিতি।

তবে এখন চিনের হুমকির কথা বলতে গিয়ে মার্কিন বিদেশ সচিব, ভারতের সঙ্গে চিনের সীমান্তে রক্তাক্ত সংঘাত, দক্ষিণ চিন সমুদ্রে বেজিং এর কার্যকলাপ, চিনের অর্থনৈতিক নীতির কথা প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমি চিনা কমিউনিস্ট পার্টির হুমকির কথা বলেছি। চিন যেমন ভারতের পক্ষে হুমকি, তেমন ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্সের জন্যেও হুমকি। আমরা পিএলএর মোকাবিলার জন্য যথাযথভাবে মার্কিন সেনা নিয়োগ করব। আমরা মনে করি এটা আমাদের সময়ের চ্যালেঞ্জ।”

১৫ জুন পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় চিনের সঙ্গে সংঘাতে এক অফিসার সহ ২০জন ভারতীয় জওয়ান শহীদ হন। আহত হন ৭৬ জনের ওপর জাওয়ান। আর এই সংঘাতকে কেন্দ্র করেই যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে দু’দেশের মধ্যে। সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চললেও তার মধ্যেই ব্যাপক যুদ্ধ প্রস্তুতি চলছে দু’পক্ষেই। অভিযোগ উঠেছে, ভারতের ভূখণ্ডের কিছুটা অংশ দখল করে সেখানে পাকা পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে চিনা সেনা।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here