প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে ৩ মের পর গ্রিনজোনে লকডাউন হালকা করার ইঙ্গিত, বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত

চিন্ময় ভট্টাচার্য, আমাদের ভারত, ২৭ এপ্রিল: আগামী ৩ মে-র পর দেশে দ্বিতীয় দফার লকডাউন শেষ হতে চলেছে। কিন্তু, সেদিনই লকডাউন প্রত্যাহার হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও সিদ্ধান্ত হল না সোমবার প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে। তবে, ৩ মে-র পর দেশের যে অংশগুলি সম্পূর্ণভাবে করোনামুক্ত, সেই গ্রিনজোনগুলিতে ছাড় দেওয়া যেতে পারে বলে এদিনের বৈঠক থেকে ইঙ্গিত মিলেছে। বৈঠকের পর মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে যে আগামী ৩ মে-এর পর রাজ্যের গ্রিনজোনে থাকা এলাকাগুলোকে বেশ কিছু ছাড় দেওয়া যেতে পারে।’ তবে বুধবার, মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরই লকডাউন নিয়ে সম্পূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলেই প্রধানমন্ত্রী দফতর সূত্রে খবর।

এ দিনের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘মার্চ মাসের প্রথমদিকে অন্যান্য দেশগুলোর মতো ভারতেও একই অবস্থা ছিল। কিন্তু, আমাদের দেশ সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করায় আমরা বহু মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হয়েছি। এখনই মনে করা উচিত নয় যে এই ভাইরাস আমাদের থেকে সম্পূর্ণ দূরে চলে গিয়েছে। আমাদের সতর্ক থেকে এখনও লাগাতার নজরদারি চালিয়ে যেতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কেবলমাত্র ভারতে যে সংখ্যক জনগণ বসবাস করেন, পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশে একসঙ্গে সেই পরিমাণে জনতার বাস। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে করোনা মোকাবিলায় দেশে লকডাউনের সুফল মিলেছে। গত এক-দেড় মাসে হাজার হাজার মানুষকে সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতে সক্ষম হয়েছে ভারত।’

তবে মোদীর সতর্কবার্তা, ‘আগামী বেশ কয়েক মাস ভারতে এই ভাইরাসের অস্তিত্ব থাকবে, সেই কথাটা মাথায় রেখে ফেস মাস্ক ও মুখ ঢেকে চলা আমাদের জীবনের অঙ্গাঙ্গী অংশ।’ পাশাপাশি রাজ্যগুলিকে নরেন্দ্র মোদীর পরামর্শ, ‘করোনা হটস্পটগুলিতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।’ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওই রেড জোন এলাকাগুলিকে অরেঞ্জ ও তারপর গ্রিন জোনে পরিণত করা যায়, সে বিষয়ে রাজ্যগুলিকে জোর দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সতর্ক করেছেন, গরম থেকে বর্ষাকালে যাওয়ার এই সময়ে একাধিক রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়েও। সেই অবস্থা সামাল দিতে রাজ্যগুলিকে সতর্ক থাকতেও বলেছেন তিনি।
তবে শুধু লকডাউনই নয়, করোনা ভাইরাসের থাবা রুখতে যে প্রভূত পরিমাণ টেস্টের প্রয়োজন, সেই কথা এ দিনের বৈঠকে তুলে ধরেন একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তুলে ধরা হয় আইসিএমআর থেকে পাঠানো খারাপ কিটের প্রসঙ্গও।

এদিকে বর্তমান অবস্থায় দাঁড়িয়ে দেশ এক চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘কোভিড-১৯ ভাইরাসের মোকাবিলা করতে গিয়ে আমাদের দেশের অর্থনীতির কথা ভুলে গেলে চলবে না।’ অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে বলেই তিনি মন্তব্য করেছেন। বর্তমান পরিকাঠামোয় দাঁড়িয়ে কী করে অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলানো যায়, সেই জন্য অধিক পরিমাণে প্রযুক্তি ব্যবহার করতেও তিনি পরামর্শ দিয়েছেন। বেশি সময় কাজ করে এই উদ্ভূত অবস্থা সামলানোর পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

সূত্রের খবর, বিদেশের মাটিতে আটকে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের দেশে ফেরানোর কথা বৈঠকে তুলেছিলেন বেশ কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বিদেশে আটকে থাকা ব্যক্তিরা যাতে তাঁদের পরিবারের জন্য কোনও বিপদের কারণ না-হন সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই পদক্ষেপ গ্রহণ করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। ‘

বর্তমান অবস্থার কথা ভেবে, ৩ মে’র পর বেশকিছু রাজ্য লকডাউন হালকা করার পক্ষপাতী হলেও ওড়িশার মত কিছু রাজ্য এখনও পর্যন্ত লকডাউন তুলে দেওয়ার পক্ষপাতী নয়। এদিন বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ওড়িশার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নব দাস ভুবনেশ্বরে বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি এই মুহূর্তে লকডাউন তুলে নিলে আমাদের পক্ষে অবস্থা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না। গোটা পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে লকডাউন আরও একমাস বাড়ানো হোক।’ এর পাশাপাশি, এ দিনের বৈঠকে অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের নিয়েও কথা তোলেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রে খবর, ১০০ দিনের কাজ ১৫০ দিন পর্যন্ত বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উত্তরাখণ্ডকে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here