আমফানের ক্ষতি সামলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে  

আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ২৪ মে: আমফানের ক্ষতি সামাল দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলায় প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্য থেকে ট্রেনে আসা শ্রমিকদের সুষ্ঠুভাবে বাড়ি পাঠানোর চাপ সামলানোর পাশাপাশি আমফান ঝড়ে দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করতে জেলার সর্বত্র কাজ শুরু হয়েছে। শুক্রবার থেকে দুই জেলার অধিকাংশ জায়গাতেই দোকান বাজার খুলেছে। খড়গপুর স্টেশনে পৌঁছেছে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন। সেই সকল শ্রমিকদের বাড়িতে পাঠানোর জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমফান ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ শিবিরগুলিতে নিয়মিত খাবার সরবরাহ করার চাপ সামলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভেঙ্গে পড়া বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল করা হচ্ছে। ঘাটাল মহকুমাতেই পনেরোটি ট্রান্সফর্মার বিকল হয়েছে। ভেঙ্গে পড়েছে আটশোরও বেশি বিদ্যুতের খুঁটি। সেগুলি মেরামতের কাজ চলছে।

জেলা বিদ্যুৎ দপ্তর জানিয়েছে, বহু এলাকা অন্ধকারে ডুবে থাকলেও ভাঙ্গা খুঁটি বদলে প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছিঁড়ে যাওয়া তার মেরামত করতে আরো দুই তিন দিন সময় লেগে যাবে। ফলে মঙ্গলবারের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না। শনিবার শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় আমফানের ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করতে ঝাড়গ্রামে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন। দলীয় সংকীর্ণতা ছেড়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সকলকে একযোগে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি। শ্রমিকদের পুনর্বাসন সহ যথাযথ ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি জানান। শিক্ষা মন্ত্রী এদিন জেলাশাসক আয়েশা রানিকে সঙ্গে নিয়ে জনসাধারণের কমিটির প্রাক্তন নেতা ছত্রধর মাহাতো এবং তার স্ত্রী নিয়তি মাহাতোর সঙ্গেও আলাদাভাবে বৈঠক করেন।

রবিবার ঝাড়গ্রামের সাংসদ কুনার হেমব্রম রাজ্য সরকারকে তোপ দেগে বলেন, যেসব পরিযায়ী শ্রমিকরা নিজেদের উদ্যোগে ফিরেছেন তারা গাছের তলায় ত্রিপল টাঙ্গিয়ে রয়েছেন। এদের বেসিক মেডিকেল টেস্ট পর্যন্ত করা হয়নি। থাকা খাওয়ারও কোনো ব্যবস্থা করেনি প্রশাসন। তিনি বলেন, জঙ্গলমহলের লোধা, শবর আদিবাসী, মুন্ডা, ভূমিজ সম্প্রদায়ের মানুষদের রাষ্ট্রীয় খাদ্য সুরক্ষা যোজনা ১ এবং ২ কার্ড দিয়ে রেশন ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here