একদিনেই রাগ উধাও! দেশের স্বার্থে শুক্রবারের মোদীর লাদাখ সংক্রান্ত সর্বদল বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন মমতা

রাজেন রায়, কলকাতা, ১৮ জুন: করোনা নিয়ে এর আগের সর্বদল বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ডাক না পাওয়ায় নবান্নে সকলের সামনেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মু়খ্যমন্ত্রী। একটা মিটিংয়ে না গেলে বাংলার ভবিষ্যৎ দুর্বল হয়ে যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কিন্তু লাদাখের গালোয়ান উপত্যকায় চিনের আগ্রাসী মনোভাবের জবাবে ভারতের নীতি নির্ধারণে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই বৃহস্পতিবার ফের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর দেশপ্রেম দেখিয়ে সব রাগ ভুলে গিয়ে সঙ্গে সঙ্গে তাতে সম্মতি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনটাই নবান্ন সূত্রের খবর। যদিও রাজনৈতিক মহলের দাবি, এই ডাকে সাড়া না দিলে দেশবিরোধী তকমা দিয়ে দেওয়া সহজ হত বিজেপির। তাই কৌশলগত ভাবে সেই ভুল করতে চাননি মুখ্যমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, দেশে করোনা সংক্রমণের বাড়বাড়ন্তে বিপর্যয়ের মধ্যেই সোমবার রাতে লাদাখের গালোয়ান উপত্যকায় চিনা সেনাবাহিনীর সঙ্গে আচমকা যুদ্ধে ২০ জন ভারতীয় জওয়ানদের শহিদ হয়ে যাওয়ার ঘটনা রীতিমত চাপে ফেলেছে দিল্লিকে। কূটনৈতিক নীতি নির্ধারণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য শুক্রবার সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে। আমন্ত্রণপত্র পাওয়ার পর স্বাগত জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, “দেশকে কেউ আঘাত করুক, কেউ আক্রমণ করুক, আমি চাই না। আমার কাছে সবসময় সবকিছুর আগে দেশ, তারপর বাকি সব।’ সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরামর্শও দিতে পারেন মমতা।

লাদাখের গালোয়ান উপত্যকায় সেই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান শহিদ হওয়ার পরেও গালোয়ান উপত্যকা থেকে সেনা সরায়নি চিন। একইসঙ্গে দু’দেশ একে অপরের ওপর আপাত ভাবে মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির কৌশল নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবারের সর্বদল বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। চিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে, তা নিয়ে শুক্রবারের এই বৈঠক হতে চলেছে। আর এই মহা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ডাক পেয়ে দেশের স্বার্থে নিজের মন পরিবর্তন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here