ভোটের মুখেই কি রাজ্য বিজেপির পর্যবেক্ষকদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে? জানা যাবে তিন দিনের মধ্যে

প্রদীপ দাস, আমাদের ভারত, কলকাতা, ৫ অক্টোবর: আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির লক্ষ্য রাজ্যে ক্ষমতা দখল করা। কিন্তু ভোটের মুখেই কি পর্যবেক্ষকদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে? তেমনি জল্পনা চলছে বিজেপির অন্দরে। তিন দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে বিশ্বস্ত সূত্রের খবর। সেই জায়গায় কি আসছে চলেছে নতুন কোনও দক্ষ পর্যবেক্ষক?

রাজ্যে ভোটের প্রচার প্রায় শুরু হয়ে গেছে। শাসক এবং বিরোধী দল বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েছে। বিজেপির লক্ষ্য এবার বাংলা দখল করা, অন্যদিকে তৃণমূলের চেষ্টা ক্ষমতা ধরে রাখা। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে বিজেপির তিন পর্যবেক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার খবরে জল্পনা শুরু হয়েছে। হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত কেন? এতে কি ভোটের মুখে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে যাবে না বিজেপি? –দলের অনেকেই এই প্রশ্ন তুলেছেন। নাকি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অন্যরকম চিন্তাভাবনা রয়েছে!

জানা গেছে, রাজ্যে বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়, শিবপ্রকাশ এবং অরবিন্দ মেনন তিনজনকেই নতুন দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। দিল্লি সূত্রে খবর, শিবপ্রকাশকে সম্ভবত উত্তরাখণ্ডের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে তাঁর নিজের রাজ্য মধ্যপ্রদেশে, আর অরবিন্দ মেননকে দেওয়া হতে পারে দিল্লির দায়িত্বে। কিন্তু এটা কি এই পর্যবেক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব, নাকি তাদের একেবারেই সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে অবশ্য ধোঁয়াশা রয়েছে দলের অভ্যন্তরে। যতদূর জানা গেছে, বিজেপির এই তিন পর্যবেক্ষকদের কার্যকলাপ নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব খুব একটা সন্তুষ্ট নন। রাজ্য বিজেপির বেশকিছু নেতার অভিযোগ, কৈলাস বিজয়বর্গীয় দলের একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। দলের ভেতরে অভিযোগ উঠেছে, তিনি সবাইকে সমভাবে দেখছেন না। অন্যদিকে দলের এক অংশের দাবি, শিব প্রকাশের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মহিলা ঘটিত মামলা দেওয়ায় বেশিরভাগ সময় রাজ্যের বাইরেই থাকছেন, তেমনভাবে আর সাংগঠনিক কাজে অংশ নিতে পারছেন না। আর অরবিন্দ মেনন আশানুরূপ তেমন কোনও কাজকর্ম করতে পারছেন না। তাই দলের অন্দরে জোর জল্পনা যে এই তিন নেতাকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয় আগামী তিন দিনের মধ্যেই এই পরিবর্তন হতে চলেছে বলে জানাগেছে। আগামী ৬ থেকে ৮ অক্টোবর দিল্লিতে বৈঠকে বসছেন বিজেপির জাতীয় পরিষদের সদস্যরা। সেই বৈঠক থেকেই এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হতে পারে বলে বিশ্বস্থ সূত্রে জানাগেছে।

ভোটের মুখে এটা কতটা বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে দলের একটি অংশের মধ্যে। কারণ এর আগে শোনা গিয়েছিল কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সে জায়গায় নিয়ে আসা হচ্ছে পি মুরলী ধরনকে। আবার নতুন করে এই জল্পনা শুরু হয়েছে। এমনও শোনা যাচ্ছে এবার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে সুনীল দেওধরকে–যিনি ত্রিপুরায় সফলভাবে বিজেপিকে ক্ষমতায় বসিয়েছিলেন।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here