নেতৃত্বকে লাগাতার আক্রমণে গিয়ে নেট নাগরিকদের কাছে অপ্রিয় তথাগত রায়

অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ১৮ নভেম্বর: দলের নেতৃত্বকে লাগাতার আক্রমণে গিয়ে নেটানাগরিকদের কাছে ক্রমেই অপ্রিয় হয়ে উঠছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথাগত রায়। বৃহস্পতিবারও তিনি বিতর্কিত পোস্ট করেন। এর তিন ঘন্টা পর, সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায় লাইক, মন্তব্য ও শেয়ারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৬০৪, ১৬৮, ১৪।

এদিন তথাগতবাবু টুইটারে লিখেছেন, “বিজেপির শুভানুধ্যায়ীরা বলছেন, টাকা ও নারী নিয়ে আমার অভিযোগ প্রকাশ্যে নয়, দলের ভিতরে করা উচিত। আমি সবিনয়ে জানাই, সে সময় পেরিয়ে গেছে। বিজেপি আমাকে যা ইচ্ছে তাই করতে পারে। কিন্তু নিজেদের চালচলন যদি আমূল সংস্কার না করে তা হলে পশ্চিমবঙ্গে দলের বিলুপ্তি অবশ্যম্ভাবী।”

প্রতিক্রিয়ায় বিনয় চক্রবর্তী লিখেছেন, “বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, ২০১৫ সালে বঙ্গ বিজেপিকে ঢেলে সাজানোর লক্ষে, শ্রী দিলীপ ঘোষের হাতে তুলে দেওয়ার আগে, শ্রী তথাগত রায়কে রাজনৈতিক ভাবে অপ্রাসঙ্গিক ও বিজেপির জন্য অহিতকর ভেবেই, ওনাকে রাজ্যপাল করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিলেন। আজ বোঝা যাচ্ছে ওটা তখন না করলে বিজেপি ১৮ টি এমপি সিট পেতো না। রাজ্যপালের মেয়াদ শেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে পা দিয়েই উনি তৃণমূল দলের থেকে বেশি বিজেপির সমালোচনা করে গেছেন। এনারা দুই ভাই শ্রী তথাগত এবং শ্রী সৌগত পালা করে বিজেপি নেতৃত্বকে আক্রমণ করে যাচ্ছেন, উদ্দেশ্য ধীরে ধীরে পরিস্কার হচ্ছে। ২০১৯ সালের ভোটে ২ কোটি ৩০ লাখ, আর ২০২১ এ ২ কোটি ২৯ লাখ ভোট বিজেপি পেয়েছে। এটা বাড়বে বই কমবে না। সামনে অনেক খেলা হবে, ইউপি ইলেকশনের পরে, ধৈর্য্য ধরে সিটে বসে থাকুন। বিজেপি থাকছে স্যার, আপনি দুশ্চিন্তা করবেন না।”

বিনয়বাবুর মতকে সমর্থন করে ছন্দাশ্রী চক্রবর্তী বসু
লিখেছেন, “ঠিক ঠিক একদম ঠিক।” সরোজ রায় লিখেছেন, “আপনার সাথে আমি একমত।”
প্রশান্ত সেন লিখেছেন, “আপনার মত ‘শুভানুধ্যায়ী’দের জন্য ডুববে।”

রতন বিশ্বাস লিখেছেন, “এইসব ভুলভাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে আপনি আখেরে তৃণমূলের হাত শক্ত করছেন তৃণমূলকে সহযোগিতা করছেন।”

পঙ্কজ দাস লিখেছেন, “অশিক্ষিত বা অজ্ঞানীকে অনায়াসে মূর্খ, অসভ্য, ছোটলোক ইত‍্যাদি, জ্ঞাতসারে যা তাই বলা যায়। কিন্তু কিভাবে অবুঝ পণ্ডিতদের ভ্রান্ত ধারণার অবসান ঘটানো যায় তা অবহিত হওয়া মুশকিল। বিলুপ্তি? অসম্ভব! দিবাস্বপ্ন যারা দেখছেন দেখুন। অপ্রত্যাশিত হতাশাজনক হার ভবিষ্যতে যে ‘শাপে-বর’ হয়ে ঘরে, ঘরে পদ্ম ফুটবে, শুধু সময়ের অপেক্ষা। বিচারক ভবিষ্যৎ ভগবানের হস্তে সমর্পিত রইলো, মিলানোর অপেক্ষা। জয় শ্রীরাম, জয় বিজেপি।“

ঋজু ঘোষ লিখেছেন, “মনে হয় আমাদের এই বাবু মশাইওওও পাল্টি খাবে। তবে দেখিয়েন যেন যেখানে যাবেন সেই জায়গাটা নর্মদার ওই কাদা মাটির থেকেওওও বেশি খারাপ না হয় যেন। দলের সমালোচনা করতে করতে টিএমসির মুখপাত্র হয়ে যাচ্ছেন। আপনার মত অভিজ্ঞতাপূর্ণ ব্যক্তির কাছে এই আশাটা করে না জনগণ।“

তথাগতবাবুকে সমর্থন করে প্রতিশ্রুতি দেবনাথ লিখেছেন, “সম্পূর্ন সহমত।“

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here