জেটলির শেষ টুইট ছিল সুষমাজিকে স্মরণ, শেষ ব্লগ ছিল ৩৭০ ধারা নিয়ে

জেটলির শেষ টুইট ছিল সুষমাজিকে স্মরণ, শেষ ব্লগ ছিল ৩৭০ ধারা নিয়ে

শ্রীরূপা চক্রবর্তী, আমাদের ভারত, ২৪ আগস্ট:
দীর্ঘ রোগভোগের পর শনিবার প্রাক্তন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী তথা ভারতীয় জনতা পার্টির বরিষ্ঠ নেতা অরুণ জেটলি প্রয়াত হন। বৃহস্পতিবার তাঁর ডায়ালিসিস হয়েছিল। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। শনিবার দুপুর ১২.৭ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। গত ৯ আগস্ট থেকে তিনি এইমসে ভর্তি ছিলেন। মোদী সরকারের সব থেকে বড় সংকটমোচন হিসেবে পরিচিত ছিলেন জেটলি। যখনই মোদী সরকারের সামনে কোনো সমস্যা এসে দাঁড়িয়েছে তখনই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন অরুণ জেটলি। গত ৭ আগস্ট নিজের টুইটার হ্যান্ডেল শেষ টুইট করেছিলেন অরুণ জেটলি। শেষ টুইটে তিনি প্রাক্তন বিদেশ মন্ত্রী সুষমা স্বরাজের প্রয়াণে শোক জ্ঞাপন করেছিলেন। শেষ ব্লগ ছিল ৩৭০ ধারা নিয়ে।

নিজের শেষ টুইটে তিনি লিখেছিলেন,”সুষমাজির মৃত্যুতে অত্যন্ত দুঃখ পেয়েছি এবং ভেঙে পড়েছি। উনি বর্তমান যুগের সব থেকে উৎকৃষ্ট রাজনীতিকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। কর্মক্ষেত্রের প্রতিটি পদে নিজস্বতার ছাপ রেখে গেছেন তিনি। সমাজে, পার্টির অভ্যন্তরে, বিরোধীদের কাছে এবং এনডিএ সরকারের একাধিক দায়িত্বপূর্ণ পদে তিনি কাজ করেছেন। তাঁর চলে যাওয়ায় এমন একটা শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে যা কখনো পূরণ হবে না।”

জেটলির ফেসবুক-ব্লগ ছিল দারুণ জনপ্রিয়। যেকোনো ছোট-বড় ঘটনায় নিজের চিন্তা ভাবনা দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করতেন জেটলি। নিজের শেষ ব্লগে তিনি সংসদের শেষ অধিবেশনের বিভিন্ন বিষয়ে নিজের উপলব্ধি প্রকাশ করেন। নিজের বিশেষ ব্লকে তিনি লেখেন, “সংসদের বর্তমান অধিবেশন সবচেয়ে বেশি সফল হয়েছে। এই অধিবেশনে বেশ কিছু ঐতিহাসিক বিল পাস হয়েছে। ট্রিপল তালাক, ইউএপিএ বিল এবং সবচেয়ে বেশি অপ্রত্যাশিত ৩৭০ ধারা রদ। বেশিরভাগ মানুষই মনে করেছিলেন ৩৭০ ধারা নিয়ে নির্বাচনের সময় বিজেপি নিজেদের দেওয়া কথা রাখতে পারবে না। কিন্তু তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বিজেপি নিজের কথা রেখেছে।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, মোদী সরকারের সব থেকে বড় সংকটমোচন ছিলেন জেটলি। জিএসটি কিংবা নোটবন্দীর মত ইস্যুতে মোদী সরকারের হয়ে দৃঢ় ভাবে সব সমালোচনার জবাব দিয়েছেন জেটলি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার এই দৃঢ় দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × four =