তারাপীঠের জীবিত কুণ্ডের জল সংস্কার করা হল গঙ্গার জল ঢেলে

তারাপীঠের জীবিত কুণ্ডের জল সংস্কার করা হল গঙ্গার জল ঢেলে

আমাদের ভারত, রামপুরহাট, ২০ সেপ্টেম্বর: প্রায় দেড় মাস পর গঙ্গাজল ঢেলে শুদ্ধিকরণ করা হল তারাপীঠের জীবিতকুন্ডু। ফলে পুনরায় পুজোর কাজে ব্যবহার করা হবে ওই জল। শুদ্ধিকরণ না হওয়ায় এবার কৌশিকী অমাবস্যাতেও জীবিতকুন্ডুর জল পুজোর কাজে ব্যবহার করা হয়নি বলে জানায় মন্দির কমিটি।

জানা গিয়েছে, তারাপীঠ মন্দিরের সামনের জীবিতকুণ্ডর জলে মা তারার পুজো, স্নানের কাজ করা হয়। কিন্তু চলতি বছরের ৩ আগস্ট আসামের রঙ্গিয়া গ্রাম থেকে আসা এক পুণ্যার্থী জীবিতকুণ্ডে স্নান করতে নেমে তলিয়ে মারা যান। ওই পুণ্যার্থী দেওঘরে শিবের মাথায় জল ঢেলে তারাপীঠ এসেছিলেন। সঙ্গে ছিলেন পাঁচ প্রতিবেশী এবং তার ছেলে। দুপুরের দিকে পুকুরে নেমে সাঁতার কাটতে গিয়ে তলিয়ে যান। ২০ মিনিট পর তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকে জীবিতকুণ্ডের জল পুজোর কাজে ব্যবহার করা হত না।

মন্দির কমিটির সম্পাদক ধ্রুব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “শাস্ত্র মতে জীবিত কুণ্ডে কোনও মানুষের মৃত্যু হলে সেই জল অশুদ্ধ হয়। ফলে জল শুদ্ধিকরণ করতে যে আচার রয়েছে সেই মতো এদিন শুদ্ধিকরণ করা হল”।

এদিন সকাল থেকে পুকুরের ষষ্ঠীমন্দির সংলগ্ন ঘাটে পুজোর আয়োজন করা হয়। প্রথমে পুকুর থেকে ১০৮ ঘড়া জল তুলে ফেলা হয়। এরপর পুকুরে সমপরিমাণ গঙ্গাজল ঢেলে বৈদিক মন্ত্রে হোম যজ্ঞের মাধ্যমে শুদ্ধিকরণ করা হয়। হোম যজ্ঞ করেন পার্শ্ববর্তী দেখুরিয়া গ্রামের ভাস্কর ভট্টাচার্য ও চন্দ্রশেখর ভট্টাচার্য।

ধ্রুববাবু বলেন, “জীবিতকুণ্ডের জলে মায়ের স্নান করানো হয়। এছাড়া মন্দির চত্বরে থাকা বামাখ্যাপা, শিব সহ সমস্ত ঠাকুরের স্নান করানো হয়। পুজোর কাজেও ব্যবহার করা হয়। কিন্তু পুণ্যার্থীর মৃত্যুর পর থেকে ওই পুকুরের জল ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। কৌশিকী অমাবস্যাতেও জীবিতকুণ্ডর জল ব্যবহার করা হয়নি। শুদ্ধিকরণের পর থেকে ফের জল পুজোর কাজে ব্যবহার করা হবে বলে মন্দির কমিটি জানিয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 + sixteen =

amaderbharat.com

Welcome To Amaderbharat.com, Get Latest Updated News. Please click I accept.