হিন্দুত্ববাদী যুধাজিত সেন মজুমদার সম্পর্কে নিবন্ধ প্রকাশ আমেরিকার জনপ্রিয় বাঙলা ম্যাগাজিনে

আমাদের ভারত, ১০ অক্টোবর : আমেরিকায় বসবাস করা বাঙালিদের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় ম্যাগাজিন “প্রবাসী”। এই ম্যাগাজিনের পূজাবার্ষিকীতে এবছর হিন্দুত্ববাদী হিসেবে বিশেষ পরিচিত মুখ যুধাজিত সেন মজুমদারকে নিয়ে একটি বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। অনাবাসী হয়েও দেশের জন্য তাঁর বর্ণময় কর্মক্ষেত্র ও তাঁর সাফল্যকে তুলে ধরা হয়েছে এই নিবন্ধটিতে। যুধাজিতবাবুর কথায়, প্রবাসী ম্যাগাজিনে এই ভাবে তাঁর সম্পর্কে নিবন্ধ প্রকাশে আগামী দিনে তাঁর কাজ করার ইচ্ছাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

মূলত প্রবসী বাঙালিদের দ্বারা পরিচালিত এই ম্যাগাজিনের এবারের পূজাবার্ষিকীতে শ্রীজাত, সুবোধ সরকার, মনোজ মিত্র, তিলোত্তমা মজুমদার সহ একাধিক নামজাদাদের লেখনী প্রকাশিত হয়েছে। তার সাথেই প্রকাশিত হয়েছে হিন্দুত্ববাদী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত যুধাজিত সেন মজুমদারকে নিয়েও একটি বিশেষ নিবন্ধ। সেখানে উল্লেখ্য করা হয়েছে তার “হিন্দ রতন পুরস্কারে” সম্মান্বিত হবার মতো বিষয়টি।

প্রবাসে থেকেও ভারতীয় বংশোদ্ভূত যেসব অনাবাসী ব্যক্তিত্ব দেশের উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখেন তাদের স্বীকৃতি তথা সম্মান জানাতে “হিন্দ রতন” পুরস্কার দেওয়া হয়ে থাকে। দেশের জন্য কাজ করার ক্ষেত্রে অনাবাসী ভারতীয়দের প্রদত্ত সর্বোচ্চ পুরস্কারগুলির মধ্যে এটি অন্যতম। ২০২০ সালে এই সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির অন্যতম তথ্য প্রযুক্তি শিল্পোদ্যোক্তা যুধাজিত সেন মজুমদার। তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেছেন ভারতের যুব সমাজের মানোন্নয়নে। দেশের মানুষের সার্বিক জীবনযাত্রার মানের কিভাবে উন্নয়ন ঘটানো যায়, তা নিয়েই ধারাবাহিক ভাবে কাজ করে চলেছেন তিনি। ভারতের যুব সমাজের দু’হাতকে কাজের উপযোগী করে তোলাই অন্যতম লক্ষ্য যুধাজিত সেন মজুমদারের। আর সেই কারণেই প্রবসী ম্যাগাজিনে উঠে এসেছে তাঁর নাম।

১৭ বছর প্রবাসে থাকার পরেও যুধাজিত সেন মজুমদার আদতে বাঙলারই ছেলে। মার্কিন মুলুকে প্রতিষ্ঠিত বাঙালির মধ্যে অন্যতম হয়েও দেশের গরিব ছেলেমেয়েদের কর্মসংস্থানের জন্য তিনি কাজ করে চলেছেন। গত ১০ বছর ধরে ভারতের যুব সমাজের জন্য স্কিল ডেভেলপমেন্টের কাজের সঙ্গে তিনি যুক্ত, যাতে লক্ষ লক্ষ গরিব ছেলেমেয়েরা চাকরি পেতে পারে, তাদের কর্মোপোযোগী করে তুলতে যুধাজিতবাবু নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

তবে শুধু এটাই নয়। তাঁর চেষ্টাতেই বিশ্বের ৭০টি শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাঙালিরা এক সূত্রে গাঁথা পড়েছেন।এন আর আইজ বেঙ্গলের মাধ্যমে তিনি প্রবাসীদের যেমন একসূত্রে গেঁথেছেন তেমন এরা যাতে একসাথে ঐক্যবদ্ধভাবে ভারতের যুবসমাজের জন্য কাজ করতে পারেন তার জন্য পদক্ষেপও করেছেন। ব্যক্তি স্বার্থের গন্ডি অতিক্রম করে তিনি মানুষের জন্য কাজ করতে কখনো দ্বিধা করেননি। আজ মার্কিন মুলুকের সিলিকন ভ্যালির অন্যতম নাম আজ যুধাজিত সেন মজুমদার।

নিজের মায়ের নামে গড়া অনিতা সেন মজুমদার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বাঙলার দুস্থ মানুষের জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছেন তিনি। আমফান, আয়লার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় হোক বা কোভিডের মতো মহামারী– যথা সম্ভব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে অনিতা সেন মজুমদার ফাউন্ডেশন। দেশের প্রান্তিক মানুষের জীবনের মানোন্নয়ন করা তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

শিকাগোতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড হিন্দু কংগ্রেসে বাংলার প্রতিনিধি ছিলেন যুধাজিত সেন মজুমদার। দীর্ঘ দিন প্রবাসে থাকলেও বাঙলার সংস্কৃতি, ধর্ম, মূল্যবোধকে ধরে রাখতে বিশেষ উদ্যোগী তিনি। ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রি মন্টের দুর্গাপুজোর সঙ্গে একাত্মভাবে যুক্ত তিনি। সেখানকার কালীমন্দিরের সঙ্গেও যুক্ত। তাঁর কথায়, বাংলার সংস্কৃতি, ধর্ম যাতে টিকে থাকতে পারে তাঁর জন্য আজীবন কাজ করে যাবেন। আর সেই কারণেই তাকে নিয়ে “প্রবাসী” ম্যাগাজিনে এই নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here