“নির্লজ্জের মতো কেন চেয়ার আঁকড়ে আছেন”, শঙ্কর আঢ্যকে তীব্র ভর্ৎসনা বিচারপতির

“নির্লজ্জের মতো কেন চেয়ার আঁকড়ে আছেন”, শঙ্কর আঢ্যকে তীব্র ভর্ৎসনা বিচারপতির

আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগনা, ১৯ জুলাই:
“নির্লজ্জের মতো চেয়ার আগলে বসে আছেন “,
উত্তর ২৪ পরগণার বনগাঁ পৌরসভার পৌরপ্রধান শঙ্কর আঢ্যকে এমন ভাবেই ভর্ৎসনা করলেন হাইকোর্টের বিচারপতি সমাপ্তি চট্টপাধ্যায়। শুক্রবার বনগাঁ পুরসভার আস্থা ভোট নিয়ে পৌরপ্রধান শঙ্কর আঢ্যকে তীব্র ভর্ৎসনা করলেন বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়৷ তিনি সাফ জানালেন, মানুষের সুবিধার জন্য আপনাকে নির্বাচিত করা হয়েছে৷ জনসাধারণকে পরিষেবা দেওয়ার জন্য আপনাকে নির্বাচিত করা হয়েছে৷ সংখ্যাগরিষ্ঠতা যখন আপনার সঙ্গে নেই, তখন আপনাকে আস্থা ভোটের মুখোমুখি হতেই হবে৷ ফল ভোগ করতেই হবে৷ এত নির্লজ্জ কেন আপনি? কেন চেয়ার আঁকড়ে পড়ে রয়েছেন?”

এখানেই শেষ নয়, প্রাথমিক ভাবে বিচারপতি এও জানিয়েছেন যে, আবার আস্থা ভোট হোক বনগাঁ পুরসভায়৷ পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে ডিএম বা এসডিও অফিসে হোক সভা৷ সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করে দেখাক পৌরপ্রধান শঙ্কর আঢ্য৷

এদিন শুনানির শুরু থেকেই অ্যাডভোকেট জেনারেলের প্রতি ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়৷ ওইদিনের আস্থা ভোটের ইও বা এগজিকিউটিভ অফিসারের পেশ করা রিপোর্ট, এজি পড়ে শোনাতে গেলে, তাঁকে থামিয়ে দেন বিচারপতি৷ বলেন, “ওটা গীতা নাকি যে শুনতেই হবে৷ একদল কাউন্সিলর যে ইও-কে দিয়ে জোর করে ওই রিপোর্ট লিখিয়ে নেননি, তার কী প্রমাণ রয়েছে?” সব মিলিয়ে বনগাঁ পুরসভার আস্থা ভোটকে কেন্দ্র করে যে ঘটনা ঘটেছে, তাকে ‘অত্যন্ত লজ্জা’র বলে দাবি করেছেন বিচারপতি৷ যদিও এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত রায় দেননি তিনি৷ অনুমান, শুক্রবারই হয়তো এই মামলায় চূড়ান্ত রায় দেবেন তিনি৷

অন্যদিকে, গত মঙ্গলবার আস্থা ভোটে যে বিশৃঙ্খলা ঘটেছে, সেই ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে বনগাঁ পুলিশ৷ প্রশাসনের কাজে বাধা দিয়েছে বিজেপি, এই অভিযোগেই মামলা দায়ের করা হয়েছে৷

প্রসঙ্গত, ২২ নম্বর ওয়ার্ড বিশিষ্ট বনগাঁ পুরসভায় ২০ জন কাউন্সিলর তৃণমূলের। আর একটি ওয়ার্ড ছিল কংগ্রেসের ও একটি সিপিএমের দখলে। কিন্তু, লোকসভা ভোটের ফল বেরনোর পর থেকেই ডামাডোল চলছে পুরসভায়। বনগাঁ পুরসভার পৌরপ্রধান শঙ্কর আঢ্যে  বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ হয়৷ যে প্রস্তাবের পক্ষে গত মঙ্গলবার আস্থা ভোটের হওয়ার কথা ছিল৷ এবং সেই ভোটেই নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়৷

বিজেপি অভিযোগ করে, হাইকোর্ট তাঁদের দুই কাউন্সিলরকে অপহরণের মামলায় জামিন দিলেও, তাঁদের ভোটে অংশগ্রহণ করতে দেয়নি পুলিশ৷ এছাড়া বাকি কাউন্সিলরদের আস্থা ভোটে অংশগ্রহণ করতে দেননি পৌরপ্রধানশঙ্কর আঢ্য৷ এই অভিযোগে, পুনরায় হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় গেরুয়া শাসকদল ও এজিকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়৷


 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nine − 4 =