ওয়াকফ এবং কংগ্রেসের যুগলবন্দি! যে কোনও জমি নিজেদের বলে দাবি করতে পারে ওয়াকফ বোর্ড

জয়িতা ঘোষ
আমাদের ভারত, ৩ অক্টোবর:
ওয়াকফ আইন অনুযায়ী, ওয়াকফ বোর্ড যেকোনো জমি অথবা সম্পত্তি নিজেদের বলে দাবি করে তা দখল করতে পারে। এই দাবির জন্য নোটিশ পাঠানোর আগে কোনও তদন্ত করারই প্রয়োজন পরে না। যে উপভোক্তার জমি তারা নিজেদের বলে দাবি করে, সেই উপভোক্তা কোনও আদালতে গিয়ে নিজের মতামত রাখতে পারে না। তাকে ওয়াকফ বোর্ডের কাছে গিয়েই নিজের মতামত রাখতে হয়, প্রমাণ করতে হয় যে ওই জমি তার। প্রমাণ যদি না করতে পারে ওয়াকফ বোর্ড সেই জমি নিজের বলে ঘোষণা করে।

উদয় ইন্ডিয়া (Uday India) নামে একটি নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত হয়েছে এই তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ রাজ শেষ হওয়ার পরেও কংগ্রেস হিন্দুদের শোষণ করা ছাড়েনি। কংগ্রেস শাসন আমলেই এই হিন্দু-বিরোধী আইন পাশ করা হয়েছিল। ১৯৫৪ সালে, ভারতবর্ষে মুসলমানদের সম্পত্তি রক্ষা করার জন্য এই ওয়াকফ আইন পাস করা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরুর দ্বারা, যিনি বলতেন যে “তিনি ভুলবশত হিন্দু হয়েছেন।” বাবরি মসজিদ ধ্বংস হওয়ার পর মুসলিমদের শান্ত করতে, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমহা রাও এই ওয়াকফ আইন সংশোধন করে মুসলিম সম্প্রদায় তথা ওয়াকফ বোর্ডকে আরও ক্ষমতা দেয়।

১৯৯৫ সালের ওয়াকফ(Waqf) আইনের সেকশন ৩(আর) [Section 3(r)] অনুযায়ী, ওয়াকফ বোর্ডকে এই অধিকার দেওয়া হয়েছিলো যে ওয়াকফ বোর্ড এমন যেকোনো জমি অথবা সম্পত্তিকে নিজেদের বলে দখল করে নিতে পারে। বলা হয়েছে যে জমি অথবা সম্পত্তি মুসলিম আইন দ্বারা পবিত্র বা হালাল, ধার্মিক অথবা দান-যোগ্য বলে মানা হবে তা অধিকার করতে পারবে। উপভোক্তা ওই জমি এতদিন নিজের বলে জানত তিনি প্রতিবাদে স্থানীয় আদালত, হাই কোর্ট অথবা সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে, নিজের মতামত রাখতে পারবে না। তাকে ওয়াকফ বোর্ডের কাছে গিয়েই নিজের মতামত রাখতে হবে এবং প্রমাণ করতে হবে যে ওই জমি তার। ১৯৯৫ সালের ওয়াকফ আইনের আর্টিকেল ৪০ অনুযায়ী ওয়াকফ বোর্ডই সিদ্ধান্ত নেবেন যে সেই জমি কার।

তার মানে, বিষয়টা এমন দাঁড়ালো যে যারা খোলাখুলি ডাকাতি করছে, তাদেরকেই বিচারকের আসনে বসিয়ে, তাদের বিচার কেই সর্বশেষ বিচার হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে এবং যাদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে, তাদের জন্য সমস্ত বিচারকদের দরজা বন্ধ করে, ক্ষতিগ্রস্তদের জোর করে সেই ডাকাতের ঘরে যেতেই বাধ্য করা হচ্ছে।

অবাক ব্যাপার হল যে এই অত্যাচার ১৯৯৫ সাল থেকে এখনো পর্যন্ত হয়ে চলেছে, কিন্তু এই বিষয়ে খুব কম মানুষই জানে। উদয় ইন্ডিয়া (Uday India) এই প্রশ্নটিও তুলে ধরেছে যে কেউ যদি মনে হয় যে এই বিচার সঠিক, তবে মুসলমান বাদে অন্য কোনও সম্প্রদায়ের জন্য কেন এরকম কোনো আইন কখনো বানানো হয়নি? উদয় ইন্ডিয়া আমাদের সামনে এই হাড় হিম করে দেওয়া বিষয় টাও তুলে ধরেছে যে কংগ্রেসের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এটাও দাবি করেছিলেন যে ভারতবর্ষের সমস্ত সম্পদের উপর সর্বপ্রথম অধিকার মুসলিমদের।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং ভারতীয় জনতা পার্টির এক নেতা, অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায় নিজের একটা ভিডিওতে জানিয়েছেন যে আদিবাসী এলাকাগুলোতে ওয়াকফ বোর্ড এই আইনের জোরে আদিবাসীদের জমি দখল করে নেওয়ার নোটিশ পাঠানোর ভয় দেখিয়ে তাদের মুসলমান হতে বাধ্য করে। মহারাষ্ট্র, ছত্তিশগড় এবং আরো বিভিন্ন জায়গায় যেখানে গরিব মানুষের সংখ্যা বেশি আর যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কম, নিয়ম-কানুন বেশি জানে না, সেই সব জায়গায় ওয়াকফ আইন ধর্ম পরিবর্তনের একটা বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ছবি: আইনজীবী অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায়।

উদয় ইন্ডিয়া এটাও দাবি করেছে যে ওয়াকফ বোর্ড এর কাছে প্রচুর পরিমাণে জমি এবং সম্পত্তি রয়েছে। কে রেহমান খানের নির্দেশে ২০০৯ এর একটি যৌথ সংসদীয় কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছিল যে ওয়াকফ বোর্ডের কাছে প্রায় ৪ লক্ষ রেজিস্ট্রি করা সম্পত্তি এবং ৬ লক্ষ একরের বেশি জমি ছিলো। বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৮ লক্ষ ৫৪ হাজার ৫০৯টি সম্পত্তি যা ৮ লক্ষ একরের বেশি জমি জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। সুতরাং এটা স্পষ্ট যে গত ১৩ বছরে ওয়াকফ বোর্ডের সম্পত্তি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু, সব থেকে বড় প্রশ্ন এটা যে একটি সংখ্যালঘু কল্যাণ পর্ষদের কাছে এত সম্পত্তি কিভাবে হল এবং সেই সম্পত্তি এত তীব্র গতিতে কীভাবে বেড়ে চলেছে?

সম্প্রতি, তামিলনাড়ুর একটি গ্রাম সহ ১৫০০ বছর পুরনো এক হিন্দু মন্দিরের ৯০% জায়গা ওয়াকফ বোর্ড নিজেদের সম্পত্তি বলে দাবি করেছে।

কিছুদিন আগে, ওকলার আম আদমি পার্টির বিধায়ক আমানাতুল্লাহ খানকে ওয়াকফ বোর্ড কেলেঙ্কারির অভিযোগে দুর্নীতি-দমন শাখা গ্রেফতার করেছে। আইনজীবী অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায় এই হিন্দু বিরোধী ওয়াকফ আইনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এবং ভারতের অন্যান্য সম্প্রদায়ের অধিকারের জন্য একাই লড়ছেন।

অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায় তার ভিডিওতে এটাও জানিয়েছেন যে ওয়াকফ বোর্ডের প্রত্যেক সদস্য মুসলিম। ওয়াকফ বোর্ডের এমএলএও মুসলিম, সাংসদও মুসলিম, আইনজীবীও মুসলিম, শহর কল্পনাকারীও মুসলিম, আইএএস অফিসারও মুসলিম, বিদ্বানও মুসলিম এবং মুতাওয়াল্লিও মুসলিম।

যার জমি ওয়াকফ বোর্ড দখল করে, তার মতামত শোনার জন্য অথবা সত্য যাচাই করার জন্য কোনও কোর্টের দরজা খোলা থাকে না। তাকে যেতে হয় সেই ওয়াকফ বোর্ডের দুয়ারেই, যার প্রত্যেকটা সদস্য মুসলিম। আর শেষে, সেই ওয়াকফ বোর্ডই সিদ্ধান্ত নেয় যে ওই জমি কার। তার মানে বিষয়টা এমন দাঁড়ায়, যে ডাকাত, সে–ই দারোগা সেজে জামিন দেয়, সে–ই আবার আইনজীবী সেজে মামলা লড়ে। আর শেষে, সে আবার বিচারক সেজে অন্তিম রায়ও শুনিয়ে দেয়। তাহলে ক্ষতিগ্রস্তদের কী ভয়ংকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় সেটা ভাবতেও গা শিউরে ওঠে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here