সাংবাদিকের প্রশ্নে কবীর সুমনের অশ্লীল মন্তব্য, সরব নেটানাগরিকরা

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ২৮ জানুয়ারি: একটি সংবাদ চ্যানেলের সাংবাদিকের প্রশ্নে কবীর সুমনের অশ্লীল মন্তব্যে শুক্রবার সরব নেটানাগরিকেরা।

“নিন্দার ভাষা নেই। ছি! কবীর সুমন।“— এই শিরোনামে ‘দি টেলিগ্রাফ’-এর বিশেষ সংবাদদাতা প্রসূন আচার্য ফেসবুকে লিখেছেন, “গায়িকা সন্ধ্যা মুখার্জির প্রসঙ্গে কিছু জিজ্ঞাসার জন্য রিপাবলিক বাংলার পক্ষ থেকে এক সাংবাদিক গায়ক কবীর সুমনকে ফোন করেছিলেন। পুরো কথা না শুনেই যে ভাবে অশ্লীল ভাষায় সেই সাংবাদিকের মা তুলে সুমন জঘন্য ভাষায় খিস্তি করেছেন তা শুধু নিন্দনীয় নয়, তিনি যে আরএসএস-বিজেপি-এর সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিস্ট নীতির বিরূদ্ধে কথা বলেন, তাদের মতই উগ্র এবং ফ্যানাটিক। বলা যেতে পারে মুদ্রার অন্য পিঠ।

সুমন আপনি একজন আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ছিলেন। লাখ লাখ বাঙালি আপনার গান এবং সুরের থেকে প্রেরণা পেয়েছে। ইতিহাস আপনাকে মনে রাখবে। আপনি লোকসভার মাননীয় সাংসদ ছিলেন। আপনার কথার অডিও রেকর্ড আমি শুনেছি। কলকাতার দুই নামকরা প্রতিষ্ঠানে আমি ৩৪ বছর সাংবাদিকতা করছি। সমাজে আপনার মত উচ্চ স্তরের কোনও ব্যক্তির মুখে এমন ভাষা শুনিনি! এই ভাষা ও মনোভাব নিয়ে আপনি হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই করবেন? মাফ করবেন। আপনি বড়জোর কিছু উগ্র ও অন্ধ মুসলিম সাম্প্রদায়িক শক্তিকে সঙ্গে পেতে পারেন। তাদের সংখ্যা খুবই নগণ্য। আমার লড়াই তাদের বিরুদ্ধেও। যারা মহিলাদের সম্মান করে না। এরা আফগানিস্তানের তালিবানের মত।

রিপাবলিক টিভি, তার মালিক অর্ণব গোস্বামী এমনকি রিপাবলিক বাংলা চ্যানেলের সাংবাদিকদের ভাষা ও বক্তব্য নিয়ে আমারও বিস্তর আপত্তি আছে। এরা অনেকেই যে ভাবে জোর গলায় মিথ্যে কথা চিৎকার করে সত্যি প্রমাণের চেষ্টা করেন, ইতিহাস বিকৃত করেন এবং সমাজের মধ্যে আরও বেশি করে ঘৃণা সৃষ্টি করেন, তা যে কার্যত ফ্যাসিস্ট মোদীর প্রোপাগান্ডা মেশিনারি এ নিয়েও আমার কোনও সন্দেহ নেই। এই চ্যানেলটি গাঁধী, নেহরু, ভগৎ সিং, চিত্তরঞ্জন দাস, সুভাষ চন্দ্র বসুর দেখানো ধর্মনিরপেক্ষ নীতি, কংগ্রেস, কমিউনিস্ট এমনকি লোহিয়াপন্থী সমাজবাদী পার্টি বা রাষ্ট্রীয় জনতা দলেরও বিরুদ্ধে। বস্তুত এই চ্যানেলটি দেশের যে কোনো উদার, সহনশীল মতেরই বিরুদ্ধে। সেটাই তাঁদের অবস্থান। কিন্তু ভারতের গণতন্ত্রে তাদেরও স্থান আছে। আপনি সে কথাই সুন্দর ভাবে বলতে পারতেন। কিন্তু তা করেননি।

এই চ্যানেলে কাজ করা সাংবাদিক তো একজন বেতনভোগী কর্মী। নিশ্চয়ই অফিসের নির্দেশে আপনার প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে তিনি ফোন করেছিলেন। কিন্তু তাঁর মা তুলে, তাঁর মা এর সঙ্গে আপনার মত একজন বৃদ্ধের কুকর্ম করার কথা বলে আপনি তাঁকে গালাগালি দেবেন? শুয়োরের বাচ্চা বলবেন? এই ধৃষ্টতা আপনাকে কে দিয়েছে?
আপনার প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত। না চাইলে বুঝতে হবে আপনি আসলে তালিবানপন্থী। এই গণতান্ত্রিক উদারবাদী দেশ আপনার জায়গা নয়।“

এই পোষ্টের চার ঘন্টায় শুক্রবার রাত আটটায় এই পোস্টের লাইক, মন্তব্য ও শেয়ার যথাক্রমে ২০৯, ১০০ ও ১৫। পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের সহকারী ম্যানেজার শম্পা শুচিস্মিতা রায় লিখেছেন, “এই লোকটাকে তোমরাই মাথায় তুলেছিলে ভাই। অত মাথায় তোলার মত কিছু ছিল না বলেই এখন এই প্রতিদান দিচ্ছে। যার যা প্রাপ্য, তার থেকে বেশি পেয়ে গেলে এরকমই হয়। আদ্যন্ত ধান্দাবাজ একটা লোক- যেখানে যা সুবিধে পেয়েছে নিয়েছে, আবার তাদের বিরুদ্ধেই কুৎসা করেছে। আমার প্রথম খারাপ লাগে সেই ২০০৫/৬-তেই, যখন আমাদের একটা রিক্রিয়েশন ক্লাবের প্রোগ্রামে চিৎকার করে শ্রোতাদের গালাগাল করে। সেই শ্রোতাদের- যারা তাকে মাথায় করে রেখেছিল! এমনকি বলে- যে বাচ্চা কাঁদছে, তার মা তাকে নিয়ে বেরিয়ে যান। আমার গান গাইতে অসুবিধে হচ্ছে! ছিঃ!“

একটি সংস্থার ডিরেক্টর অফ অপারেশন আশিস ব্যানার্জি প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, “কবীর সুমনের টেলিফোনে কথাবার্তা আমিও শুনলাম। এখন থেকে শিল্পীর প্রতি সমস্ত শ্রদ্ধা শুধু ত্যাগ করলাম তাই নয়, ওনার এই কদর্য ভাষার জন্য ঘৃনা করতে শুরু করলাম। ছিঃ সুমন ছিঃ!

কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী তাপস দে লিখেছেন, “ধান্দাবাজ লোক চিরকাল গান ভালো গাইতে পারলেই কি ভালো লোক হবে তার কোনও মানে আছে।”

পশ্চিমবঙ্গে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কমিটির সদস্য আরিফুল ইসলাম লিখেছেন, “কবির সুমন এমনিতেই ভীষণ একগুঁয়ে ও উদ্ধত, ব্যবহার তুমি যা বললে তাই ছিল, ওর এই ব্যবহারের জন্য আনন্দবাজার ৯০ এর দশকে একটা শনিবার – বা রবিবার এর সপ্প্লিমেন্ট এ তুলোধোনা করেছিল। লেখকের নাম মনে নেই।“

আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল ক্ষেত্রের সঙ্গে ৫৫ বছর ধরে যুক্ত শচীপ্রিয় মুখার্জি লিখেছেন, “এই কবীর সুমন অত্যন্ত কটু ভাষী উগ্র ও কূৎসিত আচরণ সবার সাথেই করে থাকে। লোকটির মতিভ্রম হয়েছে ও নির্ঘাত পাগল হয়ে গেছে।”

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here