বিপদ থেকে বাঁচতে ওজন রাখুন নিয়ন্ত্রণে

বিপদ থেকে বাঁচতে ওজন রাখুন নিয়ন্ত্রণে

ডাঃ প্রশান্ত কুমার ঝরিয়াৎ

আমাদের ভারত, ২৯ সেপ্টেম্বর: সুন্দর তনু কে না চায়। দেহকে সুন্দর ও সুঠাম করার জন্য আমাদের কতই না কসরত। কেউ ছুটছেন জিমে তো কেউ আবার ডায়েটিং করছেন। কবি বলেছেন “দেহ পট সনে নট সকলি হারায়।” তাই এই শরীর রূপ দেহকে সুন্দর রাখার জন্য আমাদের চেষ্টার অন্ত নেই। সবসময় মনে ভয় এই না আবার ওজন বেড়ে যায়। সব কিছু খাওয়া ছেড়ে দিয়ে আমরা বসে থাকি, কিন্তু এতে হয় হিতে বিপরীত। শরীরে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস এর অভাব দেখা দেয়, শরীর অল্পতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, নানাবিধ রোগ শরীরে বাসা বাঁধে। তাই ডায়েটিংয়ের আগে আমাদের দেখতে হবে আমাদের ওজন কতটা বেশি বা কম।
ওজন কম না বেশি তা জানার জন্য একটি সূচক ব্যবহার করা হয়, সেটি হল বডি মাস ইনডেক্স (BMI)। এটি মাপার একটি সূত্র আছে, সেটি হচ্ছে:

BMI =Weight in kg./Height in meter square.
অর্থাৎ আপনার দেহের ওজন কেজিতে মাপুন এবার তাকে আপনার উচ্চতার(মিটার হিসাবে)বর্গ দিয়ে ভাগ করুন। দেখুন ভাগফল কত বেরিয়েছে।
ভাগ ফল যদি ১৮—র কম হয় তাহলে আপনার ওজন স্বাভাবিকের থেকে কম, অর্থাৎ আপনার ওজন বাড়াতে হবে। ভাগ ফল ১৮ থেকে ২৫ এর মধ্যে হলে আপনার ওজন স্বাভাবিক, অর্থাৎ আপনাকে এই ওজন ধরে রাখতে হবে।ভাগ ফল ২৫ থেকে ৩০ এর মধ্যে হলে আপনার ওজন স্বাভাবিকের থেকে বেশি, অর্থাৎ আপনার ওজন কমাতে হবে, আপনি ওবেসিটি গ্রেড-১পর্যায়ে আছেন। ভাগ ফল ৩০ থেকে ৩৫এর মধ্যে হলে আপনার ওজন স্বাভাবিকের থেকে অনেক টাই বেশি, আপনি ওবেসিটি গ্রেড-২ পর্যায়ে আছেন। ভাগ ফল ৩৫ থেকে ৪০ এর মধ্যে হলে আপনার ওজন বেশ অনেক টাই বেশি, আপনি ওবেসিটি গ্রেড-৩পর্যায়ে আছেন। আর ভাগ ফল ৪০এর বেশি হলে আপনি মরবিড ওবেসিটির পর্যায়ে আছেন, জরুরী ভিত্তিতে ব্যাবস্থা না নিলে প্রাণঘাতী অবস্থা হতে পারে।

অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড অর্থাৎ তেল ঝাল মশলাদার খাবার খেলে, শারীরিক পরিশ্রম না করলে, মিষ্টি খাবার প্রবণতা থাকলে ওজন বাড়ে। আবার অনেক সময় কিছু হরমোনের সমস্যার কারনেও বিশেষত থাইরয়েডের সমস্যার কারনেও ওজন বাড়তে পারে। দেখা যায় অনেক সময় ডিপ্রেশন বা হতাশার শিকার হয়ে কোনও কোনও ব্যক্তি বেশি খেয়ে ফেলেন, তার ফলে তাদের ওজন বৃদ্ধি পায়।

অনেকে বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে এটা ওটা খেয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু যাই করুন না কেন মোদ্দা কথা হল খাবারের মাধ্যমে যে ক্যালরি আপনি গ্রহন করেছেন তা খরচ করতে হবে হাঁটাচলা, ব্যায়াম ইত্যাদির মাধ্যমে, তবেই ওজন কমবে।

ধাতু গত লক্ষণ বিচার করে হোমিওপ্যাথিতে বেশ কিছু ওষুধ আছে যেগুলো ওজন কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী যেমন ক্যালকেরিয়া কার্ব, ব্যারাইটা কার্ব, ফাইটোলক্কা,
ফিউকাস ভেস, থাইরয়ডিনাম, কার্লসবাড ইত্যাদি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thirteen + 18 =

amaderbharat.com

Welcome To Amaderbharat.com, Get Latest Updated News. Please click I accept.